
.png)

প্রাথমিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ শেষে আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব পেলাম। শুরুতেই এসএসএফ-এর পরিচালকের সঙ্গে আমার ডাক পড়ল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘিরে সাম্প্রতিক যে হতাশার অতিকথন, তার অধিকাংশই স্থানীয় ভাষ্যকাররা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করছে। আর এর মাধ্যমে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক গতিপথের অসম্পূর্ণ এবং খানিকটা বিভ্রান্তিকর চিত্র তুলে ধরছে।

এআই কোম্পানির প্রকৃত আয়ের তুলনায় বর্তমান দাম অনেক বেশি। নোবেল অর্থনীতিবিদ রবার্ট শিলার’-এর মূল্য-আয় অনুপাত (কোম্পানির বর্তমান মূল্যকে বিগত ১০ বছরে মুদ্রাস্ফীতি-সমন্বিত আয়ের গড় দিয়ে ভাগ করে) ইতিমধ্যে ৪০ গুণিতক অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ এআই কোম্পানির বর্তমান বাজার তার গত ১০ বছরের গড় আয়ের ৪০ গুণ।

প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে আমরা রুমে ঢুকলাম। দেখলাম তিনি গেস্ট হাউজের সাধারণ একটি সিঙ্গেল সোফায় বসে আছেন। কিন্তু আমার শিশুমনে মনে হলো, পুরো ব্যাপারটার মধ্যে এক রাজকীয় আবহ রয়েছে। তিনি যখন আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন, সেই মুহূর্তটিকে আমার কাছে কোনো সাধারণ ঘটনা মনে হয়নি।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাবনায় পানিতে ডুবিয়ে আটটি কুকুরছানা হত্যা, সাতক্ষীরায় বিষ প্রয়োগে ১০৮টি কবুতর নিধন এবং এর আগে রাজধানীতে বিড়ালের চোখ উপড়ে ধানমন্ডি লেকে নিক্ষেপ ও বগুড়ায় বিড়াল জবাই করার মতো ঘটনাগুলো সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—এই বহুল প্রচলিত ধারণাকে তিনি ভুল প্রমাণ করেছেন। তাঁর কাছে রাজনীতিতে শেষ কথা ছিল দেশের পক্ষে, মানুষের পক্ষে এবং রাষ্ট্রের পক্ষে অবিচল থাকা। এই আদর্শের প্রতি তার অবিচলতাই তাকে পরিণত করেছিল এক অনন্য নেতৃত্বে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আজ এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের পথে। প্রযুক্তির ঝড়ো স্রোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই হয়ে উঠেছে পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। সংসদে ২০২৪ সালে পাস হওয়া পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ডিজিটাল ব্যাংক গাইডলাইন ব্যাংকিং খাতকে নতুন কাঠামোয় বেঁধে দিয়েছে।

গণতন্ত্রের পথে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম, অবিচল মনোভাব, আপসহীন নেতৃত্ব এবং জনগণের প্রতি অকৃত্রিম দায়বদ্ধতা তাঁকে একজন পার্টি লিডার থেকে ‘ন্যাশনাল লিডার’ বা জাতীয় নেতায় রূপান্তরিত করেছে। তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার এক কেন্দ্রীয় চরিত্র, যিনি সংকটের মুহূর্তে রাজনীতিকে নতুন পথ দেখিয়েছেন।

বর্তমান অর্থনীতির অবস্থাকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। প্রথমটি হলো সামষ্টিক স্থিতিশীলতা, যা ৫ আগস্টের আগে বেশ কয়েক বছর ধরেই একটি সংকটের মধ্যে ছিল। দ্বিতীয়টি হলো অর্থনীতির সার্বিক কর্মচাঞ্চল্য বা গতিশীলতা।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সাক্ষাৎকার
ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অলিগার্কি বা মুষ্টিমেয় লোকের আধিপত্য ভাঙা হয়েছে। আগে দেখা যেত ব্যাংকের মালিক, শিল্পপতি, সংসদ সদস্য এবং গণমাধ্যমের মালিক—সবাই মূলত একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। এই সিন্ডিকেটের অনেকেই এখন পলাতক।

আমাদের দেশটি ছোটো, আর এর মানুষেরাও বেশ ক্ষুদ্র। প্রথাগত ভুয়োদর্শন আমাদের উপদেশ দেয় বেশি না বাড়ার, বেশি উঁচু না হওয়ার। বেশি বৃদ্ধি পেলে ক্রুদ্ধ ঝড়ে ভেঙে পড়ার ভয় আছে। আমাদের প্রকৃতি ও মানুষ যেনো এ-ভয়ে আতঙ্কিত; তাই অভাব এখানে আকাশ-ছোঁয়া বৃক্ষের, দুর্লভ এখানে মহৎ ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব।

এই প্রজন্মের পাঠকের কাছে রাজ্জাক স্যারকে ঠিক কোন পরিচয়ে তুলে ধরাটা উচিত হবে তা নিয়ে আমি নিজেই কিছুটা সন্দিহান! শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, লেখক, আড্ডারু না গুরুদের গুরু? সব পরিচয়ই তাঁর জন্য উপযুক্ত।

অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক সারা জীবনে প্রায় কিছুই লিখলেন না। শিক্ষকতা করলেন, দাবা খেললেন আর গল্প করে গেলেন। অথচ লেখার মতো অনেক কিছু তাঁর ছিল। তাঁর শেষ না করা পিএইচডি থিসিস দেখলে তাতে সন্দেহ থাকে না। কিন্তু তিনি আর কিছু লিখলেন না।

দুই মেরুর দুই বাসিন্দা—আহমদ ছফা ও হুমায়ুন আজাদ; দুজনের মধ্যে প্রায়ই ধুন্ধুমার ঝগড়া লেগে যায়। পত্রিকায় সেসব বিবাদকাণ্ডের খবর আমরা পড়ি। নব্বইয়ের দশকে হঠাৎ একদিন খেয়াল হলো দুজন বিস্ময়করভাবে একই গুরুর ‘শিষ্য’; গুরুর নাম আব্দুর রাজ্জাক। হুমায়ুন আজাদ রাজ্জাকের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

মানিকগঞ্জের বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সহনশীলতার কফিনে আরও একটি পেরেক ঠুকে দিয়েছে। গত ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওরে পালাগানের আসরে আল্লাহকে নিয়ে কথিত ‘কটূক্তি’র অভিযোগে ১৯ নভেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাউল শিল্পী মহারাজা আবুল সরকারকে সম্প্রতি ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ—তিনি আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। বাস্তবতা হলো, চার ঘণ্টার দীর্ঘ একটি পালাগান থেকে মাত্র ত্রিশ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ কেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।