


খাল কেবল পানিই বয়ে নেয় না, বরং তার স্রোতের সঙ্গে ভেসে চলে ইতিহাস, নেতৃত্বের দূরদর্শিতা এবং একটি জাতির আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন। বাংলার কৃষিনির্ভর জনপদে খাল মানে জীবিকা ও সম্ভাবনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।


বাংলাদেশ নদী, খাল ও জলাভূমির দেশ। একসময় দেশের গ্রামীণ জীবন, কৃষি উৎপাদন এবং স্থানীয় বাণিজ্যের বড় অংশই পরিচালিত হতো এই প্রাকৃতিক জলপথকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অব্যবস্থাপনা, দখল এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে অসংখ্য খাল হারিয়ে গেছে ও নাব্যতা হারিয়েছে।


খাল খনন কর্মসূচির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি এর বাস্তবায়নে চরম পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে হবে। খাল খননের পূর্বশর্ত হিসেবে হাইড্রোলজিক্যাল সার্ভে ও সারফেস ওয়াটার ডিস্ট্রিবিউশনের ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ 'মাস্টার প্ল্যান' প্রণয়ন করতে হবে।


সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশব্যাপী পরিচালিত খাল খনন কর্মসূচিতে প্রযুক্তির ব্যবহার কমিয়ে মানুষের কায়িক শ্রমকে অধিক প্রাধান্য দেওয়া হবে। তাঁর এই বক্তব্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ‘শ্রমনির্ভর’ পদ্ধতির পুরোনো কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর একটি ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই


বাংলাদেশে যদি সঠিকভাবে জাকাত আদায় ও বণ্টন করা যায়, তাহলে মাত্র সাত থেকে দশ বছরের মধ্যেই দেশ থেকে দারিদ্র্য অনেকটাই দূর করা সম্ভব। এটি কোনো কল্পনা নয়, বরং একটি বাস্তবসম্মত হিসাব। বাংলাদেশে জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৩ বিদ্যমান রয়েছে, কিন্তু এর কার্যকর প্রয়োগ প্রায় দেখা যায় না।

পারস্য উপসাগরজুড়ে যুদ্ধের দামামার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম ধাক্কা এসে লেগেছে তেলের বাজারে। তবে এর সুদূরপ্রসারী ধাক্কা হয়তো বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থার মূলে আঘাত হানবে। গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে আন্তর্জাতিক আর্থিক শৃঙ্খলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যের অলিখিত চুক্তির ওপর টিকে আছে।



বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে ইরান ও ইসরায়েলের সরাসরি সংঘাতের হুমকি, অন্যদিকে আমেরিকান স্বার্থ রক্ষার মরিয়া চেষ্টা—এই সব মিলিয়ে পুরো অঞ্চলের মানচিত্র ও ক্ষমতা কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


সবশেষে, তেলের চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো—ভবিষ্যতের বিশ্ব ক্ষমতা কার হাতে থাকবে? কয়েক দশক ধরে বিশ্ব মার্কিন ডলারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু এখন চীনের অর্থনৈতিক উত্থান এবং রাশিয়ার প্রতিরোধ সেই ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ইরানের এই 'ইউয়ান প্রস্তাব' হয়তো সেই বড় পরিবর্তনেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ।


যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ও শক্তিশালী সামরিক শক্তি। কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কবে ঠিক হবে, তার জন্য বিশ্বের বাকি দেশগুলো অনন্তকাল অপেক্ষা করতে পারে না। এখন সময় বিকল্প চিন্তার। আগামীর জন্য এমন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়তে হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়াও চলতে পারে।
