


২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ।


২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করে। এতে বলা হয়, পরবর্তী সংসদ নির্বাচন হবে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত একটি জাতীয় গণভোটের সঙ্গে একসঙ্গে।


পাকিস্তান আমলেও যে দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতো; এমনকি সেটা হতো আরপিও’র মতো বিধিবিধান না থাকা সত্ত্বেও আর জনপ্রশাসনের তত্ত্বাবধানে, সেই দেশে নির্বাচনের নামে পৌনঃপুনিক তামাশার আয়োজন করেছিল হাসিনা সরকার।


ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান, ওইদিন রাতেই রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। পরে ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।


বাংলাদেশের কত শতাংশ মানুষ রাজনৈতিক সচেতনা থেকে ভোট দেন—সেটি গবেষণার বিষয়। গবেষণায়ও সঠিক চিত্র উঠে আসবে কি না সন্দেহ আছে। এই বিষয়ে জরিপ চালালে সবাই ঠিক উত্তর নাও দিতে পারেন। বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কয়েকটি বিবেচনা কাজ করে। সেখানে রাজনৈতিক সচেতনতা অনেক সময়ই গৌন হয়ে যায়।

যে নারীরা রাজনৈতিক মিছিলে সংখ্যা বাড়াতে পারেন এবং অর্থনীতি সচল রাখতে পারেন, তারা কেন সংসদে আইন প্রণয়ন করতে পারবেন না? ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্বের আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য শুধু ‘সংরক্ষিত আসনের’ খাঁচায় বন্দি না রেখে, সরাসরি নির্বাচনের ময়দানে যোগ্য নারীদের জায়গা করে দিতে হবে।



আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর বিষয়টিই হয়ে দাঁড়িয়েছে খুলনা-৩ আসনের প্রধান নির্বাচনি ইস্যু।


খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই জনপদে এক সময়ের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন পরস্পরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।


খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসন। এক সময় এই বদ্বীপ অঞ্চল উর্বর কৃষিভূমির জন্য পরিচিত থাকলেও গত তিন যুগ ধরে এখানকার মানুষের প্রধান অভিশাপের নাম ‘জলাবদ্ধতা’।


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনে জয়-পরাজয়ের প্রধান ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে দেখা দিয়েছে নতুন ও তরুণ ভোটাররা। এবার এই বিভাগে মোট ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৮০১ জন তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন।


