* প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি
৬৮
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
৩২
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি
১
জাতীয় পার্টি
০
অন্যান্য
৫
স্বতন্ত্র
২




দেড় বছর আগে মনে হয়েছিল, বাংলাদেশ হয়তো বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের পিছু হটার যে ধারা চলছে, তাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত তরুণ প্রজন্ম এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনকে উৎখাত করে।


এবারের নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো নতুন রাজনৈতিক জোটের উত্থান। এই জোট শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।


আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। তারপরই বাংলাদেশ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক নির্বাচনের। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণেভোট।


বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। জনগণের কাছে এবারের নির্বাচনটি কেবল একটি ভোট প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি প্রকৃত উৎসবে পরিণত হয়েছে।


ভোট আর হতে কতক্ষণ! সময় যত গড়াচ্ছে, রাজনীতির আকাশে ভবিষ্যদ্বাণীর মেঘ ততই ঘন হচ্ছে। তবে এ ভবিষ্যদ্বাণী করতে জ্যোতিষীর দরকার নেই—বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসই যথেষ্ট।

আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বাংলাদেশের সামনে এক ঐতিহাসিক দিন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনের পতনের পর এটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মুহূর্ত। ১৭ বছর পর এক ভিন্ন ধরনের নির্বাচন। ভয় কম, আগ্রহ বেশি। মানুষ বলছে—‘ভোটটা এবার আমি নিজেই দেব।’ এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়।



২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ।


২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করে। এতে বলা হয়, পরবর্তী সংসদ নির্বাচন হবে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত একটি জাতীয় গণভোটের সঙ্গে একসঙ্গে।


পাকিস্তান আমলেও যে দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতো; এমনকি সেটা হতো আরপিও’র মতো বিধিবিধান না থাকা সত্ত্বেও আর জনপ্রশাসনের তত্ত্বাবধানে, সেই দেশে নির্বাচনের নামে পৌনঃপুনিক তামাশার আয়োজন করেছিল হাসিনা সরকার।


ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান, ওইদিন রাতেই রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। পরে ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।


