


আশি আর নব্বই দশকে যাদের শৈশব কেটেছে, তারা জানেন, শুধু কাঠ আর কাপড়ের টুকরো দিয়ে একজন মানুষ কীভাবে পুরো একটা জাতির শৈশব রঙিন করে দিয়েছিলেন। সেই মানুষটিকে ‘পাপেটম্যান’ ছাড়া আর কী নামেই বা ডাকা যায়?


আমি যেসময় বড় হয়েছি, তখন স্যাটেলাইট টিভির জয়জয়কার। হরেক রকম বেসরকারি টিভি চ্যানেলে ছিল নানা কিছু দেখার জিনিস। নাটক, সিনেমা, রান্নার অনুষ্ঠান, টকশো—কিছুরই অভাব ছিল না, অভাব ছিল ছোটদের অনুষ্ঠানের।


টেলিভিশনের পর্দায় তাঁকে সবসময় দেখেছি সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ হিসেবে। সামনে কাগজ, হাতে রঙ তুলি। কয়েকটি আঁচড়েই ফুটে উঠত পাখি, ফুল, নদী কিংবা গ্রামের কোনো দৃশ্য। ছবি আঁকছেন ‘শিল্পী ভাই’ মুস্তাফা মনোয়ার। শুধু সাদা ক্যানভাস নয়, আমাদের শৈশবকেও রাঙিয়ে দিয়েছেন তাঁর রঙ-তুলির আঁচড়ে।


সকালে অফিসের ডেস্কে বসে কাজ করছিলাম। হঠাৎই খবরটা এল—মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। তখন তাঁর মৃত্যুর খবরটা স্রেফ ফাইল করার মতো আরেকটা খবর ছিল আমার কাছে।কাজের অংশ হিসেবে সংবাদটি লিখলাম, ওয়েবসাইটে আপলোড করলাম, এবং পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্টে চলে গেলাম।


