মতামত/মক্কা চুক্তিতে কি বদলাবে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণ

লেখা:
লেখা:
ওয়ায়েজ কুরুনি

ছবি: ডেইল সাবাহ থেকে নেওয়া
ছবি: ডেইল সাবাহ থেকে নেওয়া

বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি শুধু নতুন আরেকটি দেশের সামরিক জোটে যুক্ত হবে কি না, এই প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির সদস্য হলে, এর ভৌগোলিক পরিধি ও রাজনৈতিক চরিত্রও বদলে যেতে পারে।

বর্তমানে চুক্তিতে রয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান। তুরস্কের মাধ্যমে এটি পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও ন্যাটোর সঙ্গে যুক্ত। সৌদি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলকে প্রতিনিধিত্ব করছে এবং পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়াকে এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেছে। অর্থাৎ, পাকিস্তানের কারণে দক্ষিণ এশিয়া ইতিমধ্যেই এই জোটের একটি প্রান্তে রয়েছে। বাংলাদেশ যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়া থেকে দ্বিতীয় একটি দেশ এই চুক্তিতে যুক্ত হবে, যার অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর একেবারে পাশে এবং বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী।

দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যকে এখনো অনেক সময় দুটি আলাদা কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে দুই অঞ্চলের সীমানা দিন দিন আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমশক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অন্যদিকে জ্বালানি, প্রবাসী আয় ও সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রতিদিনই দুই অঞ্চলকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বও বাড়ছে। বিশেষ করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুরস্ক সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছে। মক্কা চুক্তি এই বিদ্যমান অর্থনৈতিক, মানবিক ও কৌশলগত যোগাযোগকে একটি নতুন নিরাপত্তা মাত্রা দিতে পারে।

সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে ভারতের ওপর। বাংলাদেশ এই জোটের সদস্য হলেই যে ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত হলে ঢাকাকে পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধে নামতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার নীতি থাকলেও, কোনো সংকটের সময় সদস্য দেশগুলোর ওপর ঠিক কী ধরনের সামরিক বাধ্যবাধকতা থাকবে এবং তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কতটা স্বাধীনতা রাখবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বাংলাদেশ সরাসরি কোনো সামরিক ভূমিকায় না গেলেও, ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সংকট তৈরি হলে নয়াদিল্লিকে এই জোটের বিষয়টি হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তার জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য, অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ সহায়তা, আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা কিংবা সমন্বিত কূটনৈতিক সমর্থন পেতে পারে।

এই চুক্তিকে এখনই ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলা ঠিক হবে না। কারণ, জোটটি এখনও নতুন এবং এর সদস্য দেশগুলোর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ এতে যোগ দিলে এই জটিলতা আরও বাড়বে। কারণ এই নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে বঙ্গোপসাগরও যুক্ত হবে। একই সঙ্গে ঢাকাকে তার দীর্ঘদিনের কৌশলগত ভারসাম্য ও স্বাধীনতা বজায় রাখার নীতির সঙ্গে বৃহত্তর নিরাপত্তা ভূমিকার সমন্বয় করতে হবে।

বাংলাদেশ এই সমীকরণে একটি বিশেষ ভৌগোলিক মাত্রা যোগ করবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর পাশে এবং বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশও যদি এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হয়, নয়াদিল্লি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখবে। কারণ তখন এটি শুধু পাকিস্তান ও ভৌগোলিকভাবে দূরের দুই সহযোগী দেশের জোট থাকবে না, ভারতের সরাসরি প্রতিবেশী একটি দেশও এর অংশ হবে।

তবে বাংলাদেশের হিসাব-নিকাশে শুধু ভারতই গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে চলমান বিতর্কে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন, আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জোটনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং জোটের প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

সমালোচকেরা আরও সতর্ক করছেন, এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের কোনো বিরোধেও বাংলাদেশ জড়িয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশের ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। এসব দেশের স্বার্থ সবসময় তুরস্ক, সৌদি আরব বা পাকিস্তানের স্বার্থের সঙ্গে এক হবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

এসব উৎকণ্ঠা থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভৌগোলিক অবস্থান ঐতিহাসিকভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশের অধিকাংশ স্থলসীমান্তই ভারতের সঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে শক্তির যে অসমতা রয়েছে, সেটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাই অনেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষকের মতে, বাংলাদেশের কৌশলগত স্বাধীনতা ধরে রাখার অর্থ হলো এমন কোনো প্রতিশ্রুতিতে না জড়ানো, যার কারণে অন্য কোনো দেশের দ্বন্দ্ব বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনায় অন্য একটি পক্ষ আরও বিস্তৃতভাবে বিষয়টি দেখে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হলেও একই সঙ্গে এটি বঙ্গোপসাগরীয় রাষ্ট্র। উপমহাদেশের বাইরেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ক্রমেই বাড়ছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় অবদানকারী দেশ। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের একটি রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। তবে শুধু ধর্মীয় ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হতে পারে না।

এই মতপার্থক্যের কেন্দ্রে রয়েছে ছোট একটি রাষ্ট্রের জন্য ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বলতে আসলে কী বোঝায়, সেই প্রশ্ন। বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে জোটনিরপেক্ষতাকে পররাষ্ট্রনীতিতে নিজের জন্য কিছুটা কৌশলগত স্বাধীনতা ও নমনীয়তা ধরে রাখার উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কৌশলগত নমনীয়তার অর্থ সাধারণত সব নিরাপত্তা জোট বা ব্যবস্থার কাছ থেকে সমান দূরত্ব বজায় রাখা নয়, বরং একাধিক বিকল্প খোলা রাখা।

ছোট রাষ্ট্রগুলোও নিজেদের কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়াতে পারে যদি তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের সুযোগ বাড়ায় এবং কোনো একটি বড় প্রতিবেশী বা পরাশক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমায়। এই প্রেক্ষাপটে মক্কা চুক্তির আকর্ষণ বোঝা যায়। তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিরক্ষা অংশীদার হয়ে উঠছে। দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প ড্রোন, সাঁজোয়া যান, নৌযানসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করছে, যেগুলোর প্রতি বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে।

অন্যদিকে, শ্রমিক অভিবাসন, প্রবাসী আয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উষ্ণ হয়েছে। ফলে এই তিন দেশকে নিয়ে একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে উঠলে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের আরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে একই কৌশল বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি সমস্যাও তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ হয়তো বৃহত্তর স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এই জোটে যোগ দিতে চাইতে পারে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক কোনো জোটে সুযোগের পাশাপাশি অংশীদারদের প্রতি কিছু প্রত্যাশা পূরণের চাপও তৈরি হয়। একটি আঞ্চলিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমালেই যে বাংলাদেশ নতুন কোনো পক্ষের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যকে এখনো অনেক সময় দুটি আলাদা কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে দুই অঞ্চলের সীমানা দিন দিন আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমশক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অন্যদিকে জ্বালানি, প্রবাসী আয় ও সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রতিদিনই দুই অঞ্চলকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে গুরুতর সংঘাত শুরু হলে দ্বন্দ্বটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। ঢাকা হয়তো এ পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ থাকতে চাইবে, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক অংশীদারত্ব থাকলে কূটনৈতিক সমর্থন, গোয়েন্দা সহযোগিতা বা অন্য কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে।

আবার জটিলতা দেখা দিতে পারে। মক্কা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ যদি কখনো চীন বা বাংলাদেশের অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে, তাহলে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি। সেটি হচ্ছে, শুধু বেশি সংখ্যক অংশীদার থাকলেই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত হয়ে যায় না। বরং এখানে আসল কথাটা হলো, অংশীদারদের মধ্যে যদি কখনো মতের অমিল দেখা দেয়, তাহলে বাংলাদেশ যেন কারো ওপর নির্ভর না করে নিজের স্বার্থ বুঝে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে—এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরও একটি ক্ষীণ প্রভাব রয়েছে। যেসব দেশের সামরিক বাহিনী নিয়মিত একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নেয়, তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করার পদ্ধতি ও সক্ষমতা সম্পর্কে বেশি পরিচিত হয়ে ওঠে। একইভাবে, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সময়ের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও নির্ভরতা তৈরি করে। একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকলে কর্মকর্তারাও হুমকি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রায় একই ধরনের আলোচনা করেন। এর কোনোটিই রাজনৈতিক ঐক্যের নিশ্চয়তা দেয় না। তবে ধীরে ধীরে কোন সংকটকে দূরের বিষয় হিসেবে দেখা হবে আর কোনটিকে অভিন্ন উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করা হবে তা বদলে দিতে পারে।

এর প্রভাব শুধু সামরিক সক্ষমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। নিয়মিত সহযোগিতার ফলে দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ককে নতুনভাবে দেখতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা যে নিরাপত্তা অঞ্চলের অংশ বলে নিজেদের মনে করে, সেই অঞ্চলের সীমারেখাও বদলে যেতে পারে।

তবে এই চুক্তিকে এখনই ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলা ঠিক হবে না। কারণ, জোটটি এখনও নতুন এবং এর সদস্য দেশগুলোর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ এতে যোগ দিলে এই জটিলতা আরও বাড়বে। কারণ এই নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে বঙ্গোপসাগরও যুক্ত হবে। একই সঙ্গে ঢাকাকে তার দীর্ঘদিনের কৌশলগত ভারসাম্য ও স্বাধীনতা বজায় রাখার নীতির সঙ্গে বৃহত্তর নিরাপত্তা ভূমিকার সমন্বয় করতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য তাই এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রতীকী গুরুত্বের চেয়ে সদস্য হওয়ার শর্তগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যৌথ প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি ঠিক কতটা বাধ্যতামূলক হবে, সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হবে, প্রতিটি দেশের দায়িত্ব ও ব্যয়ের ভাগ কতটা, সামরিকভাবে কী ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে কোনো সংকট যদি সরাসরি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি না হয়, সে ক্ষেত্রে একটি সদস্য দেশ কতটা স্বাধীনভাবে নিজের অবস্থান নিতে পারবে এসব বিষয়ে ঢাকার স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

  • ওয়ায়েজ কুরুনি: তুরস্কে বসবাসরত বাংলাদেশি সমাজবিজ্ঞানী ও গবেষক

(ডেইলি সাবাহ থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম)

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত