সেনাসদস্য পিয়াসের দাফন নিজ গ্রামে, শোকের সঙ্গে দুশ্চিন্তায় পরিবার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নোয়াখালী

হাটহাজারিতে প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনায় নিহত নোয়াখালীর সৈনিক আবু বক্কর সিদ্দিন পিয়াসের জানাজা সম্পন্ন। স্ট্রিম গ্রাফিক্স
হাটহাজারিতে প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনায় নিহত নোয়াখালীর সৈনিক আবু বক্কর সিদ্দিন পিয়াসের জানাজা সম্পন্ন। স্ট্রিম গ্রাফিক্স

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রশিক্ষণ চলাকালে দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য আবু বকর সিদ্দিক ওরফে পিয়াসের দাফন তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নোয়াখালীর কবিরহাটে নিজ গ্রামে জানাজা ও গার্ড অফ অনার শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।

এর আগে বেলা সাড়ে এগারোটায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে মাইজদী শহীদ বুলু স্টেডিয়ামে পিয়াসের মরদেহ আনা হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ তাঁর বাড়ি জেলার কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়।

সৈনিক পিয়াস গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় নিহত হন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গতকাল ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় সেনাসদস্য পিয়াস ছাড়াও তাসনিম রিফাত (২৮) নামে আরেক সৈনিক নিহত হন। এছাড়া সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

সকালে সেনাসদস্য পিয়াসের মরদেহটি তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেখানো হয়। পরে গ্রামের মুন্সী সর্দার বাড়ির সমানে জানাজা হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে একমাত্র ছেলের মরদেহ দেখে কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন পিয়াসের মা ও বাবা আব্দুল ওহাব। বিয়ের তিন বছরের মধ্যেই স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তাঁর স্ত্রী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন চলে যাওয়ায় শোকের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তারা।

চার বোনে মধ্যে পিয়াস ছিলেন একমাত্র ভাই। ২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০২৩ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাঁদের ১৮ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। চাকরির সুবাদে বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন তিনি।

নিহতের ভগিনীপতি আবু সাঈদ বলেন, পরিবারে চার বোনের একমাত্র ছোট ভাই পিয়াস। এজন্য বিশেষ আদরের ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। তার ব্যবহার ছিল অত্যন্ত অমায়িক। এ কারণে স্বজন কাছেও খুবই প্রিয় ছিলেন তিনি।

চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান বলেন, ছুটিতে প্রায় ২০ দিন আগে গ্রামে এসেছিলেন পিয়াস। হাটহাজারীতে এই প্রশিক্ষণ শেষে তাঁর টাঙ্গাইলে বদলি হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে আবার বাড়িতে আসবেন বলেছিলেন। গতকালের দুর্ঘটনায় সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা বলেন, সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে পিয়াস প্রতিবেশীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তরুণ সৈনিকের জীবন হঠাৎ মৃত্যুতে মর্মাহত সবাই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন চলে যাওয়ায় তাঁর অসহায় স্ত্রী-সন্তান ও মা-বাবাসহ পরিবারের পাশে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে থাকার অনুরোধ জানান স্থানীয়রা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত