leadT1ad

গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন: সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

স্ট্রিম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১০: ০৮
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’–এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। খসড়ায় গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের ৪০তম সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। উপস্থিত ছিলেন উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।

গোপন আটক কেন্দ্র অপরাধ হিসেবে ঘোষণা

প্রেস সচিব জানান, গোপন আটক কেন্দ্র স্থাপন বা ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিধানও রাখা হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, ‘আজকের অনুমোদন কেবল নীতিগত। এটি ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অধ্যাদেশ কার্যকর হলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে যথাযথ প্রতিকার ও সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করে। ৩০ আগস্ট, গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসের প্রাক্কালে এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্তের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এই সনদের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতিসংঘের নয়টি মৌলিক মানবাধিকার চুক্তির সবকটির অংশীদার হয়। এই চুক্তিগুলো বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত