আজ কাওয়ালির সম্রাট নুসরাত ফতেহ আলি খানের জন্মদিন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা সুফি বাণীগুলোকে তিনি বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের ‘শাহেনশাহ-ই-কাওয়ালি’।
গৌতম কে শুভ

নুসরাত ফতেহ আলি খানের নাম উচ্চারণ করলেই মনে পড়ে যায় সেই কণ্ঠের কথা, যা মানুষের ভেতরের অস্থিরতাকে শান্ত করে দিত। পাকিস্তানের ফয়সলাবাদে জন্ম নেওয়া এই গায়ক সুফি সংগীতের ঐতিহ্যবাহী ধারা কাওয়ালিকে দরগাহ থেকে এনেছিলেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। গান দিয়ে তিনি ভাষা আর সীমানার গণ্ডি পেরিয়েছিলেন।
কাওয়ালি এক ধরনের সুফি ভক্তিমূলক সংগীত। মূলত উর্দু ও পাঞ্জাবি ভাষায় এবং কখনো কখনো ফারসিতে গাওয়া হলেও ত্রয়োদশ শতকে ভারতবর্ষে জন্ম হয় এ ধারার সংগীতের। নিজামুদ্দিন আউলিয়ার শিষ্য বিখ্যাত সুফি গায়ক আমীর খসরুকে এই ধারার সংগীতের প্রবর্তক বলা হয়। যদিও কাওয়ালির পুরোনো আচার ও ধারণা অনেক আগে থেকে বিভিন্ন সুফি ও ভক্তিমূলক সংগীতে ছিল।
নুসরাত ফতেহ আলি খানের পূর্বপুরুষরা ছিলেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাওয়াল। গত ৮০০ বছর ধরে তাঁরা পাকিস্তানে বাবা ফরিদ উদ্দিন গঞ্জে শকরের মাজারের সঙ্গে যুক্ত। নুসরাত ফতেহ আলী খানের উত্তরাধিকার তাঁর ভাগ্নে রাহাত ফতেহ আলী খান বর্তমানে কাওয়ালির অন্যতম বড় নাম। তিনি সাত বছর বয়স থেকে তাঁর চাচার কাছে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
শুরুতে সুফি ইসলামী আখ্যানের উপর ভিত্তি করে রচিত এই গানগুলো পাঞ্জাবের আশেপাশের সুফি মাজারগুলিতে আধ্যাত্মিক সংগীত হিসেবে গাওয়া হতো। পরে নুসরাত ফতেহ আলী খান, সাবরি ব্রাদার্সদের মতো কাওয়ালদের আন্তর্জাতিক খ্যাতির উপর করে এটি বাণিজ্যিক রূপ নেয়। ছড়িয়ে পড়ে দুনিয়াজুড়ে।

নুসরাত ফতেহ আলি খান ১৯৯৭ সালের ১৬ আগস্ট লন্ডনে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মারা যান। কিন্তু তাঁর উত্তরাধিকার রয়ে যাবে আজীবন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন দেশ থেকে দেশে। গান পরিবেশন করেছেন ৪০টিরও বেশি দেশে। এর বাইরেও বিভিন্ন দেশে তাঁর ভক্ত ছিল। এই ভক্তদের অধিকাংশই ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হলেও তাঁরা আগে প্রথাগত কাওয়ালি শোনেননি।
নুসরাতের কণ্ঠে কাওয়ালি এমনভাবে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছেছিল যেখানে ভাষা কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তাঁর গানে আধ্যাত্মিকতা মিশে যেত লোকজ রিদমে। নুসরাতের গানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ‘সারগাম’। অর্থাৎ স্বরলিপির দ্রুত উচ্চারণ, যা তিনি করতেন একাধিক জটিল তাল ও রিদমের সঙ্গে। এক জীবনে অসংখ্য গান তিনি গেয়েছেন। প্রভাবিত করেছেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের। পাকিস্তানের সুফি রক ব্যান্ড জুনুনের সালমান আহমেদ একবার বলেছিলেন, ‘নুসরাত ফতেহ আলি খান তাঁর গান দিয়ে মানুষকে এমন এক শান্তির জায়গায় নিয়ে যেতেন, যা ভাষায় বোঝানো যায় না।’
মোটাদাগে কাওয়ালিকে লিরিকনির্ভর বলা হয়। অর্থ, ভাব, অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত বুঝে গাইতে হয়। নুসরাত ফতেহ আলি খান সুফি কবিদের বহুস্তরীয় কবিতাকে এমনভাবে সুরে বেঁধেছিলেন, যেখানে শব্দের অর্থ না জানলেও মানুষ সারকথা অনুভব করতে পারতেন। বিশ্বসংগীতের নানা ধারার শিল্পীরা তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছেন, করেছেনও। তাঁর কণ্ঠ পৌঁছেছিল পশ্চিমা রক ব্যান্ডের রেকর্ডিং রুমেও। বিশ্বখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী পিটার গ্যাব্রিয়েল থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত রক ব্যান্ড পার্ল জ্যামের ভোকাল এডি ভেডার পর্যন্ত অনেকে তাঁর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন।
তখন অনেকেই ভেবেছিলেন সুফি কাওয়ালি হয়তো ‘পবিত্রতা’ হারাবে। কিন্তু তিনি নিজের মূল হারালেন না। বরং সেটিকে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিলেন। ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত তাঁর অ্যালবাম ‘মাস্ত মাস্ত’-এ কাওয়ালির ধ্রুপদী সুর মিশে যায় গিটারের রিদমের সঙ্গে। নুসরাতের কাওয়ালির সঙ্গে মাইকেল ব্রুক যোগ করেছিলেন অ্যাম্বিয়েন্ট ও ইলেকট্রিক সাউন্ড। কাওয়ালির জগতে কেউ আগে এমনটা কল্পনাও করেননি। এভাবে পশ্চিমা তরুণ শ্রোতাদের কাছেও নুসরাত পৌঁছে যায় নতুনভাবে।

‘মাস্ত মাস্ত’ অ্যালবামের টাইটেল ট্র্যাক ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘ম্যাসিভ অ্যাটার্ক’-এর রিমিক্স সংস্করণটি ইউরোপের ক্লাবসংগীত জগতেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রথমবার সুফি ভক্তিমূলক সংগীতের সুর ও তাল প্রবেশ করেছিল মূলধারার পশ্চিমা মিউজিক চার্টে। এরপর নুসরাত ও মাইকেল ব্রুকের আরেকটি যৌথ অ্যালবাম বের হয়েছিল। নাম ‘নাইট সং’। এখানে তাঁরা আরও ফিউশন করেছিলেন, এসেছিল আফ্রিকান পারকাশন।
নুসরাতের কণ্ঠের সীমা ছিল অকল্পনীয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাইতে পারতেন, তাল বদলে ফেলতেন মুহূর্তে। আর শ্রোতাদের কখনও ক্লান্তি আসত না। ব্রিটিশ সংগীত সমালোচক সাইমন বাউয়ার লিখেছিলেন, ‘নুসরাতের কণ্ঠে এমন কিছু আছে যা ভাষার সীমা মানে না। তুমি বুঝতে না পারলেও সেটা অনুভব করতে পারবে।’ এটাই ছিল নুসরাতের জাদু।

নুসরাত ফতেহ আলি খানের নাম উচ্চারণ করলেই মনে পড়ে যায় সেই কণ্ঠের কথা, যা মানুষের ভেতরের অস্থিরতাকে শান্ত করে দিত। পাকিস্তানের ফয়সলাবাদে জন্ম নেওয়া এই গায়ক সুফি সংগীতের ঐতিহ্যবাহী ধারা কাওয়ালিকে দরগাহ থেকে এনেছিলেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। গান দিয়ে তিনি ভাষা আর সীমানার গণ্ডি পেরিয়েছিলেন।
কাওয়ালি এক ধরনের সুফি ভক্তিমূলক সংগীত। মূলত উর্দু ও পাঞ্জাবি ভাষায় এবং কখনো কখনো ফারসিতে গাওয়া হলেও ত্রয়োদশ শতকে ভারতবর্ষে জন্ম হয় এ ধারার সংগীতের। নিজামুদ্দিন আউলিয়ার শিষ্য বিখ্যাত সুফি গায়ক আমীর খসরুকে এই ধারার সংগীতের প্রবর্তক বলা হয়। যদিও কাওয়ালির পুরোনো আচার ও ধারণা অনেক আগে থেকে বিভিন্ন সুফি ও ভক্তিমূলক সংগীতে ছিল।
নুসরাত ফতেহ আলি খানের পূর্বপুরুষরা ছিলেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাওয়াল। গত ৮০০ বছর ধরে তাঁরা পাকিস্তানে বাবা ফরিদ উদ্দিন গঞ্জে শকরের মাজারের সঙ্গে যুক্ত। নুসরাত ফতেহ আলী খানের উত্তরাধিকার তাঁর ভাগ্নে রাহাত ফতেহ আলী খান বর্তমানে কাওয়ালির অন্যতম বড় নাম। তিনি সাত বছর বয়স থেকে তাঁর চাচার কাছে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
শুরুতে সুফি ইসলামী আখ্যানের উপর ভিত্তি করে রচিত এই গানগুলো পাঞ্জাবের আশেপাশের সুফি মাজারগুলিতে আধ্যাত্মিক সংগীত হিসেবে গাওয়া হতো। পরে নুসরাত ফতেহ আলী খান, সাবরি ব্রাদার্সদের মতো কাওয়ালদের আন্তর্জাতিক খ্যাতির উপর করে এটি বাণিজ্যিক রূপ নেয়। ছড়িয়ে পড়ে দুনিয়াজুড়ে।

নুসরাত ফতেহ আলি খান ১৯৯৭ সালের ১৬ আগস্ট লন্ডনে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মারা যান। কিন্তু তাঁর উত্তরাধিকার রয়ে যাবে আজীবন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন দেশ থেকে দেশে। গান পরিবেশন করেছেন ৪০টিরও বেশি দেশে। এর বাইরেও বিভিন্ন দেশে তাঁর ভক্ত ছিল। এই ভক্তদের অধিকাংশই ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হলেও তাঁরা আগে প্রথাগত কাওয়ালি শোনেননি।
নুসরাতের কণ্ঠে কাওয়ালি এমনভাবে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছেছিল যেখানে ভাষা কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তাঁর গানে আধ্যাত্মিকতা মিশে যেত লোকজ রিদমে। নুসরাতের গানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ‘সারগাম’। অর্থাৎ স্বরলিপির দ্রুত উচ্চারণ, যা তিনি করতেন একাধিক জটিল তাল ও রিদমের সঙ্গে। এক জীবনে অসংখ্য গান তিনি গেয়েছেন। প্রভাবিত করেছেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের। পাকিস্তানের সুফি রক ব্যান্ড জুনুনের সালমান আহমেদ একবার বলেছিলেন, ‘নুসরাত ফতেহ আলি খান তাঁর গান দিয়ে মানুষকে এমন এক শান্তির জায়গায় নিয়ে যেতেন, যা ভাষায় বোঝানো যায় না।’
মোটাদাগে কাওয়ালিকে লিরিকনির্ভর বলা হয়। অর্থ, ভাব, অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত বুঝে গাইতে হয়। নুসরাত ফতেহ আলি খান সুফি কবিদের বহুস্তরীয় কবিতাকে এমনভাবে সুরে বেঁধেছিলেন, যেখানে শব্দের অর্থ না জানলেও মানুষ সারকথা অনুভব করতে পারতেন। বিশ্বসংগীতের নানা ধারার শিল্পীরা তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছেন, করেছেনও। তাঁর কণ্ঠ পৌঁছেছিল পশ্চিমা রক ব্যান্ডের রেকর্ডিং রুমেও। বিশ্বখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী পিটার গ্যাব্রিয়েল থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত রক ব্যান্ড পার্ল জ্যামের ভোকাল এডি ভেডার পর্যন্ত অনেকে তাঁর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন।
তখন অনেকেই ভেবেছিলেন সুফি কাওয়ালি হয়তো ‘পবিত্রতা’ হারাবে। কিন্তু তিনি নিজের মূল হারালেন না। বরং সেটিকে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিলেন। ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত তাঁর অ্যালবাম ‘মাস্ত মাস্ত’-এ কাওয়ালির ধ্রুপদী সুর মিশে যায় গিটারের রিদমের সঙ্গে। নুসরাতের কাওয়ালির সঙ্গে মাইকেল ব্রুক যোগ করেছিলেন অ্যাম্বিয়েন্ট ও ইলেকট্রিক সাউন্ড। কাওয়ালির জগতে কেউ আগে এমনটা কল্পনাও করেননি। এভাবে পশ্চিমা তরুণ শ্রোতাদের কাছেও নুসরাত পৌঁছে যায় নতুনভাবে।

‘মাস্ত মাস্ত’ অ্যালবামের টাইটেল ট্র্যাক ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘ম্যাসিভ অ্যাটার্ক’-এর রিমিক্স সংস্করণটি ইউরোপের ক্লাবসংগীত জগতেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রথমবার সুফি ভক্তিমূলক সংগীতের সুর ও তাল প্রবেশ করেছিল মূলধারার পশ্চিমা মিউজিক চার্টে। এরপর নুসরাত ও মাইকেল ব্রুকের আরেকটি যৌথ অ্যালবাম বের হয়েছিল। নাম ‘নাইট সং’। এখানে তাঁরা আরও ফিউশন করেছিলেন, এসেছিল আফ্রিকান পারকাশন।
নুসরাতের কণ্ঠের সীমা ছিল অকল্পনীয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাইতে পারতেন, তাল বদলে ফেলতেন মুহূর্তে। আর শ্রোতাদের কখনও ক্লান্তি আসত না। ব্রিটিশ সংগীত সমালোচক সাইমন বাউয়ার লিখেছিলেন, ‘নুসরাতের কণ্ঠে এমন কিছু আছে যা ভাষার সীমা মানে না। তুমি বুঝতে না পারলেও সেটা অনুভব করতে পারবে।’ এটাই ছিল নুসরাতের জাদু।
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
৯ ঘণ্টা আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
১১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
১১ ঘণ্টা আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
১ দিন আগে