আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। প্রতি বছর ৩০ আগস্ট দিবসটি পালিত হয়। জাতিসংঘ ঘোষিত দিবসটির লক্ষ্য হলো, বিশ্বব্যাপী গুম ও জোরপূর্বক নিখোঁজের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ ও রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এই দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে।
ফারুক হোসাইন
ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এমনটাই জানিয়েছে। কমিশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব সংস্থার মাধ্যমে গুমের ঘটনা ঘটেছে সেগুলো এখনো প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে। বিচারও নিশ্চিত করা যায়নি। গুমের নির্দেশ আসতো ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে, ভবিষ্যতেও এমনটি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গুম কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস স্ট্রিমকে বলেছেন, আগামী দিনে গুম করাটা কঠিন হবে। যদি রাজনৈতিক দল না চায়, এটি একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে না। গণঅভ্যুত্থানের পর সব পুরোপুরি বদলে গেছে সেটি বলা যায় না। বরং পরবর্তী যে সরকার আসবে তাদের ওপরই বেশি নির্ভর করছে, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা একেবারে বন্ধ হবে কিনা।
কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট-১৯৫৬ অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ আগস্ট পাঁচ সদস্যের গুম কমিশন গঠন করে সরকার। ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান, তাদের শনাক্ত এবং কোন পরিস্থিতিতে গুম হয়েছিল তা নির্ধারণ করতে এ কমিশন গঠন করা হয়।
কমিশন ১৮৫০টির বেশি অভিযোগ পেয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ২৫৩টি যাচাইবাছাই করে কমিশন দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলেছে, জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের আড়ালে আওয়ামী লীগ সরকার গুমকে ‘সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ’ দিয়েছিল।
আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক কারণে নির্যাতন ও গোপন আটকের সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু করেছিল। এক্ষেত্রে তারা ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে অস্ত্র বানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করেছে।
গুমের ঘটনার ৬৭ শতাংশের পেছনে পুলিশ, র্যাব, ডিবি, সিটিটিসির (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায় খুঁজে পেয়েছে কমিশন। ডিজিএফআই (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) ও এনএসআইয়ের (জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা) মতো বিশেষায়িত ও গোয়েন্দাবাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে। কিছু ঘটনায় বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সহায়তাও নেওয়া হয়েছে। তবে গুমের ঘটনায় এসব সংস্থার যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুমের পেছনে মূলত দুটি পক্ষ কাজ করেছে—ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুমের ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করা ও বাহিনীগুলোকে রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে এ ধরনের অপরাধ আবারও ফিরে আসতে পারে বলেও মনে করছেন তাঁরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা স্ট্রিমকে বলেন, গুম আবারও হোক—এটা কেউই চায় না। আমরা পত্র-পত্রিকায় ও গুম কমিশনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে গুমের পেছনে যে বাহিনীগুলোর জড়িত থাকার কথা জেনেছি সেই বাহিনী, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসেনি। সে জায়গা থেকে ভবিষ্যতে সরকার যদি চাপ দেয় আবারও গুম ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অর্থাৎ, এটি নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছা ও জনগণের সজাগ থাকার ওপর। তবে সেসবের ওপর নির্ভর না করে আমরা দেখতে চাই সুষ্ঠু বিচার; যেখানে অপরাধীরা শাস্তির আওতায় আসবে। নাহলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।
গুম নিয়ে কথা বলেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। তাঁরা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুম প্রতিরোধ দিবসে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে বাংলাদেশে আর কোনো ব্যক্তি যেন গুম না হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেশন (আইসিপিপিইডি) অনুসারে যথাযথ আইন প্রনয়ন করব। মানবতার বিরুদ্ধে এই হিংস্র গুরুতর অপরাধের ন্যায়বিচার হতেই হবে।’
সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে এ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব স্ট্রিমকে বলেন, গত ১৫ বছর গুম-খুনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্থা জড়িত ছিল। কারণটি ছিল রাজনৈতিক। গুম কমিশন বাহিনীগুলোর জড়িত থাকার কথা সুস্পষ্টভাবে বলেছে। কিন্তু যাঁরা জড়িত ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করা উচিত। পাশাপাশি বাহিনীগুলোরও সংস্কার দরকার। পেশাগত কাজের বাইরে গিয়ে বাহিনীগুলো যাতে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের এই অবস্থান সামনেও বজায় থাকবে।
এদিকে গুম প্রতিরোধ দিবসে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গুম হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে তাঁদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরিয়ে দেবে বলে আমরা আশা করি। পাশাপাশি প্রত্যাশা যে গুমের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও তারা করবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ওই বিবৃতিতে বলেছেন, বছরের পর বছর এভাবে কাউকে গুম করে রাখা শুধু অন্যায়ই নয়, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনেরও চরম লঙ্ঘন।
গুম কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গুমের ঘটনায় এখনও অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে। সেসবের যাচাইবাছাই করছে কমিশন। আগামী ডিসেম্বর মাসে কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ
সন্ত্রাসবিরোধী মামলার অপব্যবহার করে বিগত সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়টির উল্লেখ করে গুম কমিশন দুটি সুপারিশও করেছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এবং উপযুক্ত কাউন্টার টেরোরিজম মেথড বের করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস স্ট্রিমকে বলেন, বাহিনীগুলোকে পর্যাপ্ত ম্যানপাওয়ার দিতে হবে। কীভাবে ননলিথাল (প্রাণঘাতী না হওয়া) ওয়েতে টর্চার না করে তথ্য বের করতে হয়, সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।
বিচার নিয়ে প্রশ্ন
গুমের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা কমবে। রাজনৈতিক দলগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুমের মতো অপরাধে যুক্ত করার চেষ্টা করলেও তাঁরা অনাগ্রহ দেখাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গুমে জড়িতদের বিচারের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কারা।
বিগত সরকারের আমলে গুমের শিকার হয়েছিলেন মাইকেল চাকমা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সরকার গুম-খুনের চিন্তাও যেন করতে না পারে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গুমের বিচার হবে আশা করলেও যে প্রক্রিয়ায় সরকার এগুচ্ছে তাতে গুমের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
নাবিলা ইদ্রিসও একই কথা বলছেন। তাঁর মতে, পরবর্তী সরকার যদি সদিচ্ছা না দেখায়, তাহলে গুমের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। এজন্য গুমের ঘটনাগুলোর দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনা ভুলে গেলে হবে না। যে দলই ক্ষমতায় আসুক এসব অপরাধের বিচার যেন হয়, তাহলে চিন্তার পরিবর্তন হবে, যাঁরা গুম সংঘটিত করেছে তাঁরা সতর্ক হবে। এজন্য রাজনৈতিক দলের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন দরকার। অর্থাৎ, বিষয়টি নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলের ওপর, তাঁরা কীভাবে বিষয়টি কনডাক্ট করে। তা নাহলে চার-পাঁচ বছর পর দেখা গেল, আবার গুমের ঘটনা ঘটছে।
ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এমনটাই জানিয়েছে। কমিশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব সংস্থার মাধ্যমে গুমের ঘটনা ঘটেছে সেগুলো এখনো প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে। বিচারও নিশ্চিত করা যায়নি। গুমের নির্দেশ আসতো ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে, ভবিষ্যতেও এমনটি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গুম কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস স্ট্রিমকে বলেছেন, আগামী দিনে গুম করাটা কঠিন হবে। যদি রাজনৈতিক দল না চায়, এটি একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে না। গণঅভ্যুত্থানের পর সব পুরোপুরি বদলে গেছে সেটি বলা যায় না। বরং পরবর্তী যে সরকার আসবে তাদের ওপরই বেশি নির্ভর করছে, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা একেবারে বন্ধ হবে কিনা।
কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট-১৯৫৬ অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ আগস্ট পাঁচ সদস্যের গুম কমিশন গঠন করে সরকার। ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান, তাদের শনাক্ত এবং কোন পরিস্থিতিতে গুম হয়েছিল তা নির্ধারণ করতে এ কমিশন গঠন করা হয়।
কমিশন ১৮৫০টির বেশি অভিযোগ পেয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ২৫৩টি যাচাইবাছাই করে কমিশন দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলেছে, জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের আড়ালে আওয়ামী লীগ সরকার গুমকে ‘সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ’ দিয়েছিল।
আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক কারণে নির্যাতন ও গোপন আটকের সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু করেছিল। এক্ষেত্রে তারা ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে অস্ত্র বানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করেছে।
গুমের ঘটনার ৬৭ শতাংশের পেছনে পুলিশ, র্যাব, ডিবি, সিটিটিসির (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায় খুঁজে পেয়েছে কমিশন। ডিজিএফআই (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) ও এনএসআইয়ের (জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা) মতো বিশেষায়িত ও গোয়েন্দাবাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে। কিছু ঘটনায় বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সহায়তাও নেওয়া হয়েছে। তবে গুমের ঘটনায় এসব সংস্থার যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুমের পেছনে মূলত দুটি পক্ষ কাজ করেছে—ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুমের ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করা ও বাহিনীগুলোকে রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে এ ধরনের অপরাধ আবারও ফিরে আসতে পারে বলেও মনে করছেন তাঁরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা স্ট্রিমকে বলেন, গুম আবারও হোক—এটা কেউই চায় না। আমরা পত্র-পত্রিকায় ও গুম কমিশনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে গুমের পেছনে যে বাহিনীগুলোর জড়িত থাকার কথা জেনেছি সেই বাহিনী, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসেনি। সে জায়গা থেকে ভবিষ্যতে সরকার যদি চাপ দেয় আবারও গুম ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অর্থাৎ, এটি নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছা ও জনগণের সজাগ থাকার ওপর। তবে সেসবের ওপর নির্ভর না করে আমরা দেখতে চাই সুষ্ঠু বিচার; যেখানে অপরাধীরা শাস্তির আওতায় আসবে। নাহলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।
গুম নিয়ে কথা বলেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। তাঁরা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুম প্রতিরোধ দিবসে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে বাংলাদেশে আর কোনো ব্যক্তি যেন গুম না হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেশন (আইসিপিপিইডি) অনুসারে যথাযথ আইন প্রনয়ন করব। মানবতার বিরুদ্ধে এই হিংস্র গুরুতর অপরাধের ন্যায়বিচার হতেই হবে।’
সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে এ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব স্ট্রিমকে বলেন, গত ১৫ বছর গুম-খুনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্থা জড়িত ছিল। কারণটি ছিল রাজনৈতিক। গুম কমিশন বাহিনীগুলোর জড়িত থাকার কথা সুস্পষ্টভাবে বলেছে। কিন্তু যাঁরা জড়িত ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করা উচিত। পাশাপাশি বাহিনীগুলোরও সংস্কার দরকার। পেশাগত কাজের বাইরে গিয়ে বাহিনীগুলো যাতে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের এই অবস্থান সামনেও বজায় থাকবে।
এদিকে গুম প্রতিরোধ দিবসে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গুম হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে তাঁদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরিয়ে দেবে বলে আমরা আশা করি। পাশাপাশি প্রত্যাশা যে গুমের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও তারা করবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ওই বিবৃতিতে বলেছেন, বছরের পর বছর এভাবে কাউকে গুম করে রাখা শুধু অন্যায়ই নয়, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনেরও চরম লঙ্ঘন।
গুম কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গুমের ঘটনায় এখনও অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে। সেসবের যাচাইবাছাই করছে কমিশন। আগামী ডিসেম্বর মাসে কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ
সন্ত্রাসবিরোধী মামলার অপব্যবহার করে বিগত সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়টির উল্লেখ করে গুম কমিশন দুটি সুপারিশও করেছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এবং উপযুক্ত কাউন্টার টেরোরিজম মেথড বের করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস স্ট্রিমকে বলেন, বাহিনীগুলোকে পর্যাপ্ত ম্যানপাওয়ার দিতে হবে। কীভাবে ননলিথাল (প্রাণঘাতী না হওয়া) ওয়েতে টর্চার না করে তথ্য বের করতে হয়, সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।
বিচার নিয়ে প্রশ্ন
গুমের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা কমবে। রাজনৈতিক দলগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুমের মতো অপরাধে যুক্ত করার চেষ্টা করলেও তাঁরা অনাগ্রহ দেখাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গুমে জড়িতদের বিচারের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কারা।
বিগত সরকারের আমলে গুমের শিকার হয়েছিলেন মাইকেল চাকমা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সরকার গুম-খুনের চিন্তাও যেন করতে না পারে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গুমের বিচার হবে আশা করলেও যে প্রক্রিয়ায় সরকার এগুচ্ছে তাতে গুমের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
নাবিলা ইদ্রিসও একই কথা বলছেন। তাঁর মতে, পরবর্তী সরকার যদি সদিচ্ছা না দেখায়, তাহলে গুমের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। এজন্য গুমের ঘটনাগুলোর দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনা ভুলে গেলে হবে না। যে দলই ক্ষমতায় আসুক এসব অপরাধের বিচার যেন হয়, তাহলে চিন্তার পরিবর্তন হবে, যাঁরা গুম সংঘটিত করেছে তাঁরা সতর্ক হবে। এজন্য রাজনৈতিক দলের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন দরকার। অর্থাৎ, বিষয়টি নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলের ওপর, তাঁরা কীভাবে বিষয়টি কনডাক্ট করে। তা নাহলে চার-পাঁচ বছর পর দেখা গেল, আবার গুমের ঘটনা ঘটছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য গুম, খুন, গায়েবি মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে যুক্ত ছিলেন। সেই অপকর্মের পুনরাবৃত্তি নতুন বাংলাদেশে চলতে দেওয়া যাবে না। প্রতিপক্ষ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের ভূমিকা ফ্যাসিবাদী অতীতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।
১ ঘণ্টা আগেগণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলাকে একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র।
২ ঘণ্টা আগেঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
২ ঘণ্টা আগেপ্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘ভোট গ্রহণ ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের আগেই সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার সুযোগ নেই।’
৩ ঘণ্টা আগে