সৈকত আমীন
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ বা বড় পরিসরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের নজির দেখা গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের মতো বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে 'নজিরবিহীন'। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীতেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বা উপস্থিতির নজির নেই।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ভোটের দিনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করবে। জানানো হয় গণনার সময় ভোটকেন্দ্রেও থাকবেন সেনাসদস্যরা।
তবে ডাকসুর রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ওই সিদ্ধান্ত নাকচ করে দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
গতকাল (২৮ জানুয়ারি) নিজেদের ভেরিভায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এ সকল নির্বাচনসমূহে (ছাত্র সংসদ নির্বাচন) দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো দায়িত্বে সম্পৃক্ত হবার সুযোগ নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর আরও জানায়, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মনে করে, বিদ্যমান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনসমূহ একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সকলের জন্য শুভকামনা রইল।’
আইএসপিআরের এই বিজ্ঞপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ডাকসুর চিফ রিটার্নিং অফিসার জসীম উদ্দিন বলেন, ’আমরা বলছি নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রয়োজন হইলে ছাত্রছাত্রীরা চাইলে আমরা এরকম করতে পারি। সেটাই ইউনিভার্সিটিকে বলব। এটা নিয়ে তো মানে এতো চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নাই। তাই না? হয়তো কিছুই লাগবে না।‘
প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি তাঁরা পরিকল্পনায় রেখেছেন। যদি প্রয়োজন হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁরা এই সহযোগিতা চাইবেন। তবে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আট ভোটকেন্দ্রে তিন স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যে প্রথম স্তরে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি সদস্য ও প্রক্টরিয়াল টিম। দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তৃতীয় স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি প্রবেশমুখে সেনাবাহিনী 'স্ট্রাইকিং ফোর্স' হিসেবে অবস্থান করবে বলে জানিয়েছিল কর্মকর্তারা।
প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে এবং ভোট শেষে ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র কর্ডন করে রাখবেন সেনা সদস্যরা।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ডাকসু নির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কথা জানিয়েছেন ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়গুলোর উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালিয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে রাখার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে আসছে প্রার্থীরাও।
এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কারও সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রার্থীরা।
অতীতে জাতীয় নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন করতে দেখা গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে 'নজিরবিহীন'।
শেষবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেনা মোতায়েনের ঘটনা ঘটেছিল ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। ওই আমলে জরুরি অবস্থা জারির পর সেনাবাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্যাম্প স্থাপন করে। ২০ আগস্ট ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেনাদের সংঘর্ষ হয়, অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম লাঞ্ছিত হন। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার হলেও ২১ আগস্ট পুলিশের দমনপীড়নে ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে, ২২ আগস্ট কারফিউ জারি হয় এবং ঢাবির হলগুলো খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষক-ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। সে সময় দীর্ঘ ৬৬ দিন পর ক্যাম্পাস খোলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শুধু বাংলাদেশ নয়, অনুসন্ধান করে দেখা গেছে সারা পৃথিবীতেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বা উপস্থিতির নজির নেই।
পাকিস্তান
পাকিস্তানে শেষবার দেশব্যাপী ছাত্র সংসদ (স্টুডেন্টস ইউনিয়ন) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৩ সালে । এরপর ১৯৮৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জেনারেল জিয়া উল হকের সামরিক শাসনকালে এই নির্বাচনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর পর থেকে দেশটিতে বন্ধ রয়েছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এরপর একাধিকবার ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ২০২৪ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলেও পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রায়ই রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করতে রেঞ্জার্স নামে পরিচিত প্যারামিলিটারি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নজির আছে, বিশেষ করে করাচি বা ইসলামাবাদের মতো শহরে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন যেমন ইসলামী জমিয়ত-ই-তালাবা, অল পাকিস্তান মুত্তাহিদা স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন ক্যাম্পাসগুলোতে সক্রিয় আছে, এবং এদের কার্যকলাপে প্রায়ই উত্তেজনা ও সহিংসতা দেখা যায়। এসব উত্তেজনা নিরসনে বিশেষ করে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে অতীতে নিরাপত্তা জোরদার করতে রেঞ্জার্স মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারত
ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ বা ইউনিয়ন নির্বাচনে সাধারণত রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়। নিরবাচনগুলোতে অর্থ, শক্তি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই নির্বাচনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু সরাসরি সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো সুনির্দিষ্ট নজির পাওয়া যায়না। ভারতের সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী, সেনাবাহিনী সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত রক্ষা বা জরুরি অবস্থায় (যেমন দুর্যোগ বা বিদ্রোহ) ব্যবহৃত হয়।
মিসর
মিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। বিশেষ করে ২০১১-এর আরব বসন্তের পর। দেশটিতে ছাত্র আন্দোলন এবং নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রচুর। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সরাসরি সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিবর্তে প্রশাসন সেখানে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেন্ট্রাল সিকিউরিটি ফোর্সেস (রায়ট পুলিশ) মোতায়েন করে। মিশরের সেনাবাহিনী একাধিক সেনা অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক মঞ্চের কেন্দ্রে পরিণত হলেও দেশটিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরাসরি সেনা ভূমিকার তেমন কোনো তথ্য নেই।
এমনকি সেনা অভ্যুত্থানের পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সেনা মোতায়েনের নজির নেই দেশটিতে। ২০১৩ সালে দেশটিতে সামরিক অভভুথ্যানের পর মুসলিম ব্রাদারহুড-সমর্থক ছাত্ররা কায়রো ইউনিভার্সিটি, আল-আজহার ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করে। এতে এসময় পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক ছাত্র নিহত হয়। সরকার ক্যাম্পাসে মেটাল ডিটেক্টর এবং সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন করে, কিন্তু সেনা নয়।
তুরস্ক
তুরস্কের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সামরিক প্রভাব থাকলেও দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সরাসরি নজির নেই।
তুরস্কে ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেখানে পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেলেও সেনা মোতায়েনের কোনো নজির নেই।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ বা বড় পরিসরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের নজির দেখা গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের মতো বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে 'নজিরবিহীন'। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীতেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বা উপস্থিতির নজির নেই।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ভোটের দিনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করবে। জানানো হয় গণনার সময় ভোটকেন্দ্রেও থাকবেন সেনাসদস্যরা।
তবে ডাকসুর রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ওই সিদ্ধান্ত নাকচ করে দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
গতকাল (২৮ জানুয়ারি) নিজেদের ভেরিভায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এ সকল নির্বাচনসমূহে (ছাত্র সংসদ নির্বাচন) দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো দায়িত্বে সম্পৃক্ত হবার সুযোগ নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর আরও জানায়, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মনে করে, বিদ্যমান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনসমূহ একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সকলের জন্য শুভকামনা রইল।’
আইএসপিআরের এই বিজ্ঞপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ডাকসুর চিফ রিটার্নিং অফিসার জসীম উদ্দিন বলেন, ’আমরা বলছি নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রয়োজন হইলে ছাত্রছাত্রীরা চাইলে আমরা এরকম করতে পারি। সেটাই ইউনিভার্সিটিকে বলব। এটা নিয়ে তো মানে এতো চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নাই। তাই না? হয়তো কিছুই লাগবে না।‘
প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি তাঁরা পরিকল্পনায় রেখেছেন। যদি প্রয়োজন হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁরা এই সহযোগিতা চাইবেন। তবে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আট ভোটকেন্দ্রে তিন স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যে প্রথম স্তরে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি সদস্য ও প্রক্টরিয়াল টিম। দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তৃতীয় স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি প্রবেশমুখে সেনাবাহিনী 'স্ট্রাইকিং ফোর্স' হিসেবে অবস্থান করবে বলে জানিয়েছিল কর্মকর্তারা।
প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে এবং ভোট শেষে ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র কর্ডন করে রাখবেন সেনা সদস্যরা।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ডাকসু নির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কথা জানিয়েছেন ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়গুলোর উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালিয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে রাখার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে আসছে প্রার্থীরাও।
এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কারও সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রার্থীরা।
অতীতে জাতীয় নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন করতে দেখা গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে 'নজিরবিহীন'।
শেষবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেনা মোতায়েনের ঘটনা ঘটেছিল ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। ওই আমলে জরুরি অবস্থা জারির পর সেনাবাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্যাম্প স্থাপন করে। ২০ আগস্ট ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেনাদের সংঘর্ষ হয়, অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম লাঞ্ছিত হন। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার হলেও ২১ আগস্ট পুলিশের দমনপীড়নে ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে, ২২ আগস্ট কারফিউ জারি হয় এবং ঢাবির হলগুলো খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষক-ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। সে সময় দীর্ঘ ৬৬ দিন পর ক্যাম্পাস খোলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শুধু বাংলাদেশ নয়, অনুসন্ধান করে দেখা গেছে সারা পৃথিবীতেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বা উপস্থিতির নজির নেই।
পাকিস্তান
পাকিস্তানে শেষবার দেশব্যাপী ছাত্র সংসদ (স্টুডেন্টস ইউনিয়ন) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৩ সালে । এরপর ১৯৮৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জেনারেল জিয়া উল হকের সামরিক শাসনকালে এই নির্বাচনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর পর থেকে দেশটিতে বন্ধ রয়েছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এরপর একাধিকবার ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ২০২৪ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলেও পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রায়ই রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করতে রেঞ্জার্স নামে পরিচিত প্যারামিলিটারি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নজির আছে, বিশেষ করে করাচি বা ইসলামাবাদের মতো শহরে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন যেমন ইসলামী জমিয়ত-ই-তালাবা, অল পাকিস্তান মুত্তাহিদা স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন ক্যাম্পাসগুলোতে সক্রিয় আছে, এবং এদের কার্যকলাপে প্রায়ই উত্তেজনা ও সহিংসতা দেখা যায়। এসব উত্তেজনা নিরসনে বিশেষ করে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে অতীতে নিরাপত্তা জোরদার করতে রেঞ্জার্স মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারত
ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ বা ইউনিয়ন নির্বাচনে সাধারণত রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়। নিরবাচনগুলোতে অর্থ, শক্তি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই নির্বাচনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু সরাসরি সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো সুনির্দিষ্ট নজির পাওয়া যায়না। ভারতের সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী, সেনাবাহিনী সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত রক্ষা বা জরুরি অবস্থায় (যেমন দুর্যোগ বা বিদ্রোহ) ব্যবহৃত হয়।
মিসর
মিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। বিশেষ করে ২০১১-এর আরব বসন্তের পর। দেশটিতে ছাত্র আন্দোলন এবং নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রচুর। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সরাসরি সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিবর্তে প্রশাসন সেখানে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেন্ট্রাল সিকিউরিটি ফোর্সেস (রায়ট পুলিশ) মোতায়েন করে। মিশরের সেনাবাহিনী একাধিক সেনা অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক মঞ্চের কেন্দ্রে পরিণত হলেও দেশটিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরাসরি সেনা ভূমিকার তেমন কোনো তথ্য নেই।
এমনকি সেনা অভ্যুত্থানের পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সেনা মোতায়েনের নজির নেই দেশটিতে। ২০১৩ সালে দেশটিতে সামরিক অভভুথ্যানের পর মুসলিম ব্রাদারহুড-সমর্থক ছাত্ররা কায়রো ইউনিভার্সিটি, আল-আজহার ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করে। এতে এসময় পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক ছাত্র নিহত হয়। সরকার ক্যাম্পাসে মেটাল ডিটেক্টর এবং সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন করে, কিন্তু সেনা নয়।
তুরস্ক
তুরস্কের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সামরিক প্রভাব থাকলেও দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সরাসরি নজির নেই।
তুরস্কে ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেখানে পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেলেও সেনা মোতায়েনের কোনো নজির নেই।
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে রাজধানীর কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যান নেতা-কর্মীরা।
২ ঘণ্টা আগেআজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় শেষ হয় প্রথম দিনের কার্যক্রম । ঢাকাভিত্তিক থিংক ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্সের (দায়রা) উদ্যোগে আয়োজিত কনফারেন্সের এ আসরের প্রতিপাদ্য ‘বাংলাদেশ অ্যাট ক্রস রোডস: রিথিংকিং পলিটিক্স, ইকোনমিক্স, জিওপলিটিকাল স্ট্র্যাটেজি’।
২ ঘণ্টা আগেপ্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধিদল বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ও উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রধানের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগেডা. তাহের বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের জন্য কিছু বিষয় সুরাহা হওয়া খুবই জরুরি। এর মধ্যে জুলাই চার্টারকে (সনদ) আইনগত ভিত্তি দিতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে।’
৫ ঘণ্টা আগে