ভারতের সঙ্গে ‘সমানে সমান’ সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: বিরোধীদলীয় নেতা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ০৮
সংসদে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
সংসদে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে ‘সমানে সমান’ সম্পর্ক রাখার ওপর জোর দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অস্বীকার করা যায় না, তবে দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এসব কথা বলেন তিনি।

সীমান্ত হত্যা, তিস্তা ও গঙ্গার পানি বণ্টনের বিষয়গুলো তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আলোচনা হবে, লড়াই হবে সমানে সমান। আমরা পরাধীনতা মেনে নেব না। বাংলাদেশ আর কারও অধীনে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না।’

শিল্প খাতের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, উৎপাদন কমতে থাকলে শিল্পমালিকদের পক্ষে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ, শ্রমিক ধরে রাখা এবং বিদেশি ক্রেতা বা বায়ার ধরে রাখা কঠিন হবে। শিল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য এবং ‘সিন্ডিকেট’ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান জামায়াত আমির।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, গণভোট পর্যন্ত সরকার ও বিরোধী দল এক অবস্থানে থাকলেও যেদিন শপথ হলো, সেদিন থেকেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা হয়নি।

সংস্কারের পক্ষে জনগণের রায় পাওয়ার পরও তার দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। আমি অনুরোধ করব, বিষয়টি সরকার যেন বিবেচনায় নিয়ে জন-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করে।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমান সরকার তা রাখেনি। বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দেওয়ার ওয়াদা থেকে জাতি বর্তমানে ধাক্কা খেয়েছে।

এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচার প্রক্রিয়ায় যতটুকু দৃশ্যমান অগ্রগতি ছিল, বর্তমান সরকারের ছয় মাসে তা দেখা যাচ্ছে না। শহীদ পরিবারগুলো বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাঁদের কাছে কোনো সদুত্তর থাকে না বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এই আইন কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। জামায়াত আমির রাষ্ট্রপতির প্রতি অনুরোধ জানান যাতে তিনি এতে স্বাক্ষর না করেন এবং বিষয়টি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আলেম ও স্কলারদের মতামতের জন্য পাঠান।

সবশেষে সংসদে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দেশটা সকলের। ট্রেজারিতে টাকা দেয় সবাই। ১৮ কোটি মানুষের অবদান এখানে আছে। কোনো ব্যক্তি বা এলাকাকে পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত