কওমি মাদ্রাসা বিচ্ছিন্ন প্রতিষ্ঠান নয়: নুরুল মোমেন
স্ট্রিম প্রতিবেদক

কওমি মাদ্রাসাকে সমাজের বাইরের বিচ্ছিন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল মোমেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার আলোকেই এটিকে বুঝতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজে ‘কানেক্টিং অ্যানথ্রোপলজি’ সেমিনার সিরিজের তৃতীয় পর্বে এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল মোমেন বলেন, কওমি ধারার ইতিহাস এবং দর্শনকে সাধারণ স্কুলব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা কঠিন। আলিয়া শাখাকে প্রচলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাঠামোর সমতুল্য ভাবা গেলেও কওমিদের ঐতিহাসিক বিকাশ ও উদ্দেশ্য আলাদা। ফলে তাদের মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে নিজস্ব স্বকীয়তা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
নুরুল মোমেন জানান, ২০০৭ সালের আগে সিলেটের বিশ্বনাথের একটি কওমি মাদ্রাসায় প্রায় ১৫ মাস মাঠপর্যায়ে কাজ করেছিলেন তিনি। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে পরিবেশ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন।
গবেষণার অন্যতম প্রশ্ন ছিল—মাদ্রাসার পড়াশোনার মধ্য দিয়ে কীভাবে শিশুদের সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয় তৈরি হয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের সেখানে নিয়ে গিয়ে বিশেষ আদর্শে গড়ে তোলা হয়। তবে মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে এমন তত্ত্ব সরলভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি বলে জানান ড. মোমেন।
জঙ্গিবাদ ও সহিংসতা প্রসঙ্গে এই নৃবিজ্ঞানী জানান, বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরক পাওয়ার ঘটনা রাষ্ট্র বা কর্তৃপক্ষের জন্য উদ্বেগের। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধরনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহিংসতাকে একচেটিয়াভাবে যুক্ত করার আগে দেখতে হবে, একই প্রবণতা সমাজের অন্য কোথাও আছে কি না। যদি থাকে, তবে সমস্যাকে বৃহত্তর কাঠামোগত দিক থেকে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, এসব শিক্ষাকেন্দ্র আমাদের সমাজের বাইরের বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থা নয়। বিভিন্ন সময়ের রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি ও পারিপার্শ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে রয়েছে।
২০০৭-০৮ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে ড. মোমেন বলেন, সে সময় খাদ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা সংকট সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করেছিল। একই সময়ে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সক্রিয়তাও দেখা যায়। এ ধরনের প্রতিক্রিয়াকে শুধু ধর্মীয় মতাদর্শ দিয়ে ব্যাখ্যা করলে অর্থনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গবেষণার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, নৃবিজ্ঞানের অনেক তাত্ত্বিক ধারণা ও পরিভাষা পশ্চিমা সমাজ থেকে এসেছে। ফলে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে বাইরের কাঠামোর ওপর নির্ভর করার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে দেশীয় নৃবিজ্ঞানীদের স্থানীয় এবং অপেক্ষাকৃত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আরও গবেষণায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এই অধ্যাপক। ধর্মনিরপেক্ষ ও ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যকার দূরত্ব ঘুচাতে এ ধরনের কাজ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও বিশ্বাস তাঁর।
.png)
-028855-256x144.webp)





-e27c75.jpeg)