হাইকোর্টের রায়: ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে গ্রামীণ কল্যাণকে
স্ট্রিম প্রতিবেদকঢাকা

গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার বকেয়া কর আদায়ে দুটি রিটের রুল খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। এতে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের এই বিপুল অংকের করর টাকা পরিশোধ করতে হবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠানটিকে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন, দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রুল ডিসচার্জ (খারিজ) করে রায় দিয়েছেন, রায়টি সরকারের পক্ষে এসেছে।
তিনি জানান, আদালত বিস্তারিত রায় দেননি, মৌখিকভাবে সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছেন। রুল খারিজ হওয়ায় এখন কর বিভাগ আইন অনুযায়ী যথাযথ ডিমান্ড নোটিশ ইস্যু করে ৬৬৬ কোটি টাকা আদায় করতে পারবে।
অন্যদিকে, গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় আজ ঘোষিত হলো। আজকের রায় প্রমাণ করছে যে মামলাটি উইথড্র (প্রত্যাহার) হয়নি।’
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘জয়েন্ট কমিশনার যখন ৬৬৬ কোটি টাকা কর ধরলেন, তখন আমরা বলেছিলাম— আমাদের যে উৎসে কর কাটা হলো, সেই টাকা কোথায় যাবে? এর কোনো উত্তর তাদের কাছে নেই। ইনকোয়ারি করতে হলে গ্রামীণ টেলিকমকে করুন, কিন্তু তারা সেটাও করছে না।’
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, গ্রামভিত্তিক ক্লিনিক পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণ ২০০৪ সালে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে একটি চুক্তিতে যায়। ওই চুক্তির আওতায় গ্রামীণ ফোনের শেয়ার কিনতে গ্রামীণ টেলিকমকে ৫৩ কোটি ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৯৪১ টাকা ঋণ দেয় কল্যাণ। কথা ছিল, ওই বিনিয়োগ থেকে গ্রামীণ টেলিকমের অর্জিত লভ্যাংশের একটি অংশ (৪২ দশমিক ৫০%) গ্রামীণ কল্যাণকে দেওয়া হবে।
গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীর দাবি, ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চুক্তির ভিত্তিতে লভ্যাংশ দেওয়ার আগেই উৎসে কর কাটা হতো। কিন্তু ২০১৭ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল তদন্ত করে জানায়, গ্রামীণ টেলিকম থেকে পাওয়া ওই অর্থের ওপর উৎসে কর কর্তন করা হয়নি। এরপরই আয়কর অধ্যাদেশের ১২০ ধারায় গ্রামীণ কল্যাণের পাঁচ বছরের (২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭) কর নথি পুনরায় খোলা হয়। নিরূপিত আয়ের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে কর ধার্য করে মোট ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকার দাবি করা হয়।
এই বিপুল অংকের কর ধার্যের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ প্রথমে কর কমিশনারের কাছে রিভিশন আবেদন করলেও ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর তা খারিজ হয়ে যায়। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্যমতে, রিভিশনের শর্ত অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণের নামে স্বীকার করা কর পরিশোধের চালান জমা দেওয়া হয়নি, যেগুলো দেওয়া হয়েছিল তা ছিল গ্রামীণ টেলিকমের নামে।
এরপরই ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। এই আইনি লড়াইয়ে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রিটের রায় দিলেও পরে আপিল বিভাগ তা বাতিল করে পুনরায় রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
এরপর গত ৩ আগস্ট হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ মৌখিক রায় দিলেও এক বিচারপতি অতীতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী থাকায় সেটি প্রত্যাহার করা হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার পুনরায় শুনানি শেষে রুলটি খারিজ হলো।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সামাদ আজাদ জানিয়েছেন, এখন কর বিভাগ চাইলে ৩০ দিনের সময় দিয়ে ডিমান্ড নোটিশ জারি করতে পারবে এবং ২০১৭ সাল থেকে এর ওপর আইন অনুযায়ী আদায় না হওয়া পর্যন্ত সরল সুদও যুক্ত হবে।
.png)
-028855-256x144.webp)





