জ্বালানি সংকটে পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গাড়ির লংমার্চ করে গ্যাস বা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা গেলে আমরাই সবার আগে লংমার্চ করতাম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলকে পাশে নিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায় সরকার।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনপরিসরে গালাগালির সংস্কৃতি পরিহার করে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। রাজনৈতিক মতভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও তা যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়।’ পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি যাতে পুনরায় মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে জন্য সব গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদকে সকল আলোচনা ও কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিগত সরকারের রেখে যাওয়া গ্যাস, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও ব্যাংকিং খাতের ‘পর্বতসম’ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জ্বালানি সংকটের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ সময় ধরে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো গ্যাস আহরণ করলেও বিগত সরকার নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিপরীতে তারা সম্পূর্ণ আমদানি-নির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করে গেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ১০-১২ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। একই সঙ্গে দেশের দুটি এফএসআরইউর একটি বৈদ্যুতিক শকে বিকল হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ সংকট তীব্র হয়।
তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বছরে এক হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে ছাদভিত্তিক সোলারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত সরকার খেলাপি ঋণের হার ১১ শতাংশ দেখিয়েছিল, কিন্তু ২০২৫ সালের ফরেনসিক অডিটে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ পাওয়া যায়। বর্তমান সরকারের পদক্ষেপে তা কমিয়ে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল বৈদেশিক ঋণের বোঝা সত্ত্বেও গত পাঁচ মাসে রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের নানা সাফল্যের কথা স্মরণ করেন। সেই সময়ে সহযোগিতার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানান।
এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাঠানো আদেশ পাঠ করেন। এই আদেশের বলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা হয়।
.png)
-b52d51.jpeg)
-028855-256x144.webp)

-3a0718-256x144.webp)


-58db6b-256x144.webp)