সিরাজ তখন খুব ছোট। নানা নবাব আলীবর্দী খাঁর কোলে চড়ে ঘোড়দৌড় শিখেছিলেন। হাসিমুখে যুদ্ধের কৌশল রপ্ত করেছিলেন। কেউ ভাবতে পারেনি এই ছেলেটাই একদিন বাংলার নবাব হবে। আবার কেউ জানত না তার জন্য অপেক্ষা করছে বিশ্বাসঘাতকতার সবচেয়ে নির্মম ইতিহাস। -লিখেছেন ইয়াসিন শরীফ
স্ট্রিম ডেস্ক
কলকাতা তখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির খাসদখল। মুর্শিদাবাদ তখন বাংলার প্রাণ, নবাবের রাজধানী। সেটা দখলে নিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মজুত করছে বন্দুক আর তোপ। সিরাজ চাইলেন কোম্পানির দম্ভ ভাঙতে। লালকেল্লার দিকে সৈন্য পাঠালেন। কোম্পানির শ্বাসরোধ হলো। তারপর? ক্লাইভ-ওয়াটসনের সাথে হাত মিলিয়ে ফেলল নবাবের কুচক্রী সেনাপতি মীর জাফর। সাথে যোগ দিলো জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ আর রাজদুল্লভের দল। মুর্শিদাবাদের সোনার ভাণ্ডার লুটের ছক আঁকা হলো গোপনে।
২৩ জুন ১৭৫৭। পলাশীর প্রান্তর। হুগলির গা ঘেঁষে দাঁড়ানো শিরীষ গাছগুলোর ছায়ায় খেলা করে অন্ধকার। নবাবের ছিল ৫০ হাজার সৈন্য। ক্লাইভের হাতে মুষ্টিমেয় ইউরোপীয় সেনা। মীর জাফর বাহিনী নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না, লড়বে নাকি অপেক্ষা করবে। বৃষ্টি এলো। বন্দুক ভিজে গেল। সেই সময়েই গর্জে উঠলো ক্লাইভের কামান। নবাবের সৈন্যেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। সিরাজ চাইলেন শেষ চেষ্টা করতে। কিন্তু নবাবের হয়ে লড়ার জন্য আর ফিরলো না তাঁর সৈন্যেরা। কারণ সেনাপতি মীর জাফর ইতিমধ্যে বেইমানি করে বসে আছে।
বিকেলে বৃষ্টি থামলো। পলাশীর মাঠ জুড়ে কাদায় পড়ে রইল নবাবের স্বপ্ন। দূরে ক্লাইভের হাসি। মীর জাফরের মাথায় মুকুট। নবাব ঘোড়ায় চড়ে পালালেন। হয়তো প্রাণ বাঁচাতে কিংবা লজ্জা থেকে বাঁচতে।
সিরাজ মুর্শিদাবাদ প্রাসাদে ফিরে এলেন। স্ত্রী লুৎফুন্নেসা, কন্যা ও কিছু বিশ্বস্ত দাসী নিয়ে নবাব নৌকা ভাসালেন ভাগীরথীর স্রোতে। কে দেখবে? কে চিনবে? তাঁর মাথায় সোনার মুকুট ছিল একদিন, এমনকি কয়েক মুহূর্ত আগেও ছিলেন নবাব।
নবাব নৌকা থামালেন ভগবানগোলায়। ভেবেছিলেন তটের কাশবন গোপন রাখবে তাঁদের উপস্থিতি। তেমন হল না। রাতে গিয়ে উঠলেন এক ফকিরের মাজারে। বৃষ্টিভেজা শীত, জোঁক, নদীর হিম করা জলে নবাব আর তার প্রাসাদের বাতাবরণ তখন অনেক দূরের গল্প। ঘুম আসে না, মনে হয় এই বুঝি মিরান বাহিনী পৌঁছালো। প্রতিটা ছায়া তখন নবাবের কাছে বিশ্বাসঘাতক।
মীর জাফর পুত্র মিরান আর কত দেরি করবে? ঘোড়সওয়ারদল ছুটছে নবাবের পদচিহ্ন খুঁজে পেতে। পরে নিজের পুরনো সাথী মোহাম্মদী বেগের হাতেই ধরা পড়লেন সিরাজ।
মুর্শিদাবাদের প্রাসাদে ফিরিয়ে আনা হলো তাঁকে। প্রাসাদের ‘নামক হেরাম দেউড়ি’ নামের দরজায় গিয়ে শেষ হল তাঁর রাজ্য, তাঁর জীবন। মিরান হুকুম দিল— ‘দাঁড়িয়ে থাকলে বিপদ। একে শেষ করো।’ মোহাম্মদী বেগ এগিয়ে এল। ইতিহাসের পাতায় লেখা হল ছুরি বসানোর সেই অন্ধকার রাতের গল্প।
মৃত নবাবের নিথর দেহ রেখে গেল একটাই প্রশ্ন— কাকে বিশ্বাস করবেন?
সোনার বাংলার স্বাধীন নবাব যখন সমাধিস্থ হলেন খুশবাগের বাগানে, তখন গঙ্গার বাতাসে ভাসছিল একটাই শব্দ— ‘পলাশী’। যা শুধু যুদ্ধ নয়, একেকটা মুদ্রার থলে একেকটা বেইমানির চিঠি, একেকটা ছুরি।
সিরাজের মৃত্যুর পর ইতিহাসের চাকা ঘুরল নতুনভাবে। কোম্পানি হাতিয়ার করল দেওয়ানি হক। বাংলার খাজনা উঠল লন্ডনের কোষাগারে। গ্রামের ধানের গোলা খালি হলো, নদীর জলে ভাসতে থাকলো কান্না।
এইসব রক্তের উপর দিয়ে গড়ে উঠল শহর, বন্দর, রেললাইন, বিলাতি দোকান। পলাশীর প্রান্তর হয়ে রইল নিঃশব্দ এক যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে কখনো বৃষ্টি নামে, শিরীষ গাছের ছায়া নড়ে ওঠে আর বাতাসে ভেসে আসে সেই কিশোর নবাবের চাপা দীর্ঘশ্বাস।
কলকাতা তখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির খাসদখল। মুর্শিদাবাদ তখন বাংলার প্রাণ, নবাবের রাজধানী। সেটা দখলে নিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মজুত করছে বন্দুক আর তোপ। সিরাজ চাইলেন কোম্পানির দম্ভ ভাঙতে। লালকেল্লার দিকে সৈন্য পাঠালেন। কোম্পানির শ্বাসরোধ হলো। তারপর? ক্লাইভ-ওয়াটসনের সাথে হাত মিলিয়ে ফেলল নবাবের কুচক্রী সেনাপতি মীর জাফর। সাথে যোগ দিলো জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ আর রাজদুল্লভের দল। মুর্শিদাবাদের সোনার ভাণ্ডার লুটের ছক আঁকা হলো গোপনে।
২৩ জুন ১৭৫৭। পলাশীর প্রান্তর। হুগলির গা ঘেঁষে দাঁড়ানো শিরীষ গাছগুলোর ছায়ায় খেলা করে অন্ধকার। নবাবের ছিল ৫০ হাজার সৈন্য। ক্লাইভের হাতে মুষ্টিমেয় ইউরোপীয় সেনা। মীর জাফর বাহিনী নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না, লড়বে নাকি অপেক্ষা করবে। বৃষ্টি এলো। বন্দুক ভিজে গেল। সেই সময়েই গর্জে উঠলো ক্লাইভের কামান। নবাবের সৈন্যেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। সিরাজ চাইলেন শেষ চেষ্টা করতে। কিন্তু নবাবের হয়ে লড়ার জন্য আর ফিরলো না তাঁর সৈন্যেরা। কারণ সেনাপতি মীর জাফর ইতিমধ্যে বেইমানি করে বসে আছে।
বিকেলে বৃষ্টি থামলো। পলাশীর মাঠ জুড়ে কাদায় পড়ে রইল নবাবের স্বপ্ন। দূরে ক্লাইভের হাসি। মীর জাফরের মাথায় মুকুট। নবাব ঘোড়ায় চড়ে পালালেন। হয়তো প্রাণ বাঁচাতে কিংবা লজ্জা থেকে বাঁচতে।
সিরাজ মুর্শিদাবাদ প্রাসাদে ফিরে এলেন। স্ত্রী লুৎফুন্নেসা, কন্যা ও কিছু বিশ্বস্ত দাসী নিয়ে নবাব নৌকা ভাসালেন ভাগীরথীর স্রোতে। কে দেখবে? কে চিনবে? তাঁর মাথায় সোনার মুকুট ছিল একদিন, এমনকি কয়েক মুহূর্ত আগেও ছিলেন নবাব।
নবাব নৌকা থামালেন ভগবানগোলায়। ভেবেছিলেন তটের কাশবন গোপন রাখবে তাঁদের উপস্থিতি। তেমন হল না। রাতে গিয়ে উঠলেন এক ফকিরের মাজারে। বৃষ্টিভেজা শীত, জোঁক, নদীর হিম করা জলে নবাব আর তার প্রাসাদের বাতাবরণ তখন অনেক দূরের গল্প। ঘুম আসে না, মনে হয় এই বুঝি মিরান বাহিনী পৌঁছালো। প্রতিটা ছায়া তখন নবাবের কাছে বিশ্বাসঘাতক।
মীর জাফর পুত্র মিরান আর কত দেরি করবে? ঘোড়সওয়ারদল ছুটছে নবাবের পদচিহ্ন খুঁজে পেতে। পরে নিজের পুরনো সাথী মোহাম্মদী বেগের হাতেই ধরা পড়লেন সিরাজ।
মুর্শিদাবাদের প্রাসাদে ফিরিয়ে আনা হলো তাঁকে। প্রাসাদের ‘নামক হেরাম দেউড়ি’ নামের দরজায় গিয়ে শেষ হল তাঁর রাজ্য, তাঁর জীবন। মিরান হুকুম দিল— ‘দাঁড়িয়ে থাকলে বিপদ। একে শেষ করো।’ মোহাম্মদী বেগ এগিয়ে এল। ইতিহাসের পাতায় লেখা হল ছুরি বসানোর সেই অন্ধকার রাতের গল্প।
মৃত নবাবের নিথর দেহ রেখে গেল একটাই প্রশ্ন— কাকে বিশ্বাস করবেন?
সোনার বাংলার স্বাধীন নবাব যখন সমাধিস্থ হলেন খুশবাগের বাগানে, তখন গঙ্গার বাতাসে ভাসছিল একটাই শব্দ— ‘পলাশী’। যা শুধু যুদ্ধ নয়, একেকটা মুদ্রার থলে একেকটা বেইমানির চিঠি, একেকটা ছুরি।
সিরাজের মৃত্যুর পর ইতিহাসের চাকা ঘুরল নতুনভাবে। কোম্পানি হাতিয়ার করল দেওয়ানি হক। বাংলার খাজনা উঠল লন্ডনের কোষাগারে। গ্রামের ধানের গোলা খালি হলো, নদীর জলে ভাসতে থাকলো কান্না।
এইসব রক্তের উপর দিয়ে গড়ে উঠল শহর, বন্দর, রেললাইন, বিলাতি দোকান। পলাশীর প্রান্তর হয়ে রইল নিঃশব্দ এক যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে কখনো বৃষ্টি নামে, শিরীষ গাছের ছায়া নড়ে ওঠে আর বাতাসে ভেসে আসে সেই কিশোর নবাবের চাপা দীর্ঘশ্বাস।
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
১৬ ঘণ্টা আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
১৭ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
১৮ ঘণ্টা আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
২ দিন আগে