জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সেই পাহাড়িয়াদের কথা শুনলেন মানবাধিকারকর্মীরা, ভূমি কমিশন গঠনের তাগিদ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৫: ০৭
সেই পাহাড়িয়াদের কথা শুনলেন মানবাধিকারকর্মীরা, ভূমি কমিশন গঠনের তাগিদ। স্ট্রিম ছবি

রাজশাহী মহানগরীর মোল্লাপাড়ার মালপাহাড়িয়া মহল্লায় গিয়ে বসতি পরিবারগুলো সদস্যদের কথা শুনেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে তাগিদ দিয়েছেন।

পাহাড়িয়াদের আস্বস্ত করে মানবাধিকারকর্মীরা বলেছেন, সারা দেশ তাঁদের সঙ্গে আছে, তাঁরা যেন ভয় না পান। অর্ধশতাব্দি ধরে বাস করেই তাঁরা নিজের বসতভিটায় থাকার অধিকার অর্জন করেছেন। এ সময় পাহাড়িয়াদের সর্দার বাবুল বিশ্বাস জানান, ভয়ে তিনিই প্রথম ঘর ভাঙেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। তবে সেই সময় জেলা প্রশাসক দপ্তরে না থাকায় তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়নি।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে রাজশাহীর এই মহল্লায় আসেন চরচা ডটকমের সম্পাদক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা, ব্লাস্ট-এর প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি মিনহাজুল কাদির ও গ্রিন ভয়েসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসান হাবিব।

তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ব্লাস্টের রাজশাহীর সমন্বয়কারী সামিনা বেগম, সেন্টার ফর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ভলান্টারি অর্গানাইজেশনের (সিসিবিভিও) সমন্বয়কারী আরিফ ইথার, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নেতা সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম ও আদিবাসী ছাত্র পরিষদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তর সম্পাদক পলাশ কুমার মাহাতো। তাঁরা পাহাড়িয়াদের সর্দার বাবুল বিশ্বাসের কাছ থেকে সবকিছু শোনেন।

সেই পাহাড়িয়াদের কথা শুনলেন মানবাধিকারকর্মীরা, ভূমি কমিশন গঠনের তাগিদ। স্ট্রিম ছবি
সেই পাহাড়িয়াদের কথা শুনলেন মানবাধিকারকর্মীরা, ভূমি কমিশন গঠনের তাগিদ। স্ট্রিম ছবি

এর আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বাড়ি করার সুযোগ পায় ছয়টি পাহাড়িয়া পরিবার। তিন প্রজন্মে বেড়ে এখন বাড়ি সংখ্যা হয়েছে ১৬টি। প্রায় ৫৩ বছর পর সাজ্জাদ আলী নামের এক ব্যক্তি এই ১৬ কাঠা জমির মালিকানা দাবি করছেন। এ জন্য ১৬ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন দাবি করে উচ্ছেদের আয়োজন করেছিলেন। তাঁর ভয়ে তিনটি পরিবার কয়েকদিন আগেই বাড়ি ছাড়ে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) মহল্লায় খাসি কেটে খাইয়ে-দাইয়ে বাকিদের রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) ‘বিদায়ের’ আয়োজন ছিল। এ নিয়ে ঢাকা স্ট্রিমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়।

কী বললেন মানববাধিকারকর্মীরা

পাহাড়িয়াদের মহল্লায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘এই মালপাহাড়িয়া সম্প্রদায়ের মানুষগুলো এখানেই (মোল্লাপাড়ায়) জন্ম নিয়েছেন। তাঁদের বাপ-দাদার এখানেই মৃত্যু হয়েছে। একটা আইন আছে যে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে এক স্থানে বাস করেন, সেখানে তাদের অধিকার জন্মায়। হঠাৎ করে কেউ একজন এসে বলছে, এ জামির মালিক তিনি। এটা দেখে আমরা বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি। এখানে এসেছি সংহতি প্রকাশ করতে যে, পাহাড়িয়া সম্প্রদায়ের এ মানুষগুলো একা নয়, আমরা তাদের সঙ্গে আছি।’

জাকির হোসেন বলেন, ‘সাজ্জাদ আলী নাকি ১৯৯৪ সালে এই জমি কিনেছেন, আগে তো তিনি দাবি করেননি। হঠাৎ করে কেন? আমাদের কথা হচ্ছে মানবিক দৃষ্টিতে দেখতে হবে। কেউ একজন এসে মালিকানা দাবি করবেন, এটা হয় না। আমাদের মনে হচ্ছে, যিনি দাবি করছেন তিনি আসল মালিক নন। যিনি আসল মালিক ছিলেন, তার কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সাজ্জাদ কি করে এতদিন পর এসে দাবি করেন? আসল মালিক যদি জমি ছেড়ে চলে যান, তাহলে এটা সরকারি হবে। এটার পাশে বড় সরকারি রাস্তা আছে। এখন প্রভাবশালীর চোখ পড়েছে। আমরা চাই এদের নামে জমিটা রেকর্ড করে দেওয়া হোক।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, ‘আমরা পাহাড়িয়াদের সঙ্গে সংহতি জানাতে এসেছি। যেখানে স্বাধীনতার পর থেকে কেউ তাদের উচ্ছেদ করেনি, এখন এসে কেন তাদের উচ্ছেদ করতে হবে? সরকার বারবার বলছে সবাইকে অন্তর্ভুক্তি করেই চলবে, তাহলে এই কয়েকটা পরিবারকে অন্তর্ভুক্তি করতে সমস্যা কি? আমাদের কথা হচ্ছে, যারা স্বাধীনতার পর থেকে বাস করছে, এই সময়ে এসে কেন তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে? কাজেই দ্রুত ভূমিদস্যুকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এখানে ছোট একটা পুলিশ ফাঁড়ি হতে পারে, যাতে এখানকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা থাকে।’

আলাদা ভূমি কমিশনের দাবি

সমতলের ‘আদিবাসীদের’ (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) জন্য ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘এর পক্ষে সবার জোরালো সমর্থন আছে, কিন্তু হচ্ছে না। এখনও বৈষম্য তো প্রতিদিনই চলছে। সরকার বিভিন্ন কমিশন করেছে, কিন্তু আমরা উত্তরবঙ্গের একটা আদিবাসীর কোনো প্রতিনিধিত্ব কোনো কমিশনেই দেখলাম না।’

একই সঙ্গে ব্লাস্টের সমন্বয়কারী সামিনা বেগম বলেন, ‘ভূমি কমিশন যতক্ষণ না করতে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আদিবাসীদের ভূমির নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। ভূমি কমিশন হলে আমরা কাজ করতে পারি। এটা যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে। এখন প্রশাসন যেন এদের নিরাপত্তাসহ বসবাসের সুযোগের দিকে খেয়াল রাখে। আমরা এটা আইনিভাবেই মোকাবিল করব।’

সিসিবিভিওর সমন্বয়কারী আরিফ ইথারও সমতলের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানান। বলেন, ‘এটা দ্রুতই করতে হবে। তা না হলে আদিবাসীদের ভূমির নিরাপত্তা কঠিন হয়ে যাবে। দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যা নিয়েই তাদের জীবন পার করতে হচ্ছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত