জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সর্বস্তরে ভাষা চর্চার অধিকারে সংহত হবে একুশ

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১: ৫৩
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা শিশুর মুখের হাসি অম্লান থাকবে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার চর্চায়। স্ট্রিম ছবি

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রফিক, জব্বার, সালাম, বরকতসহ অনেকের আত্মত্যাগ মলিন হতে বসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা। তাদের ভাষ্যে, একুশ এখন শুধু আনুষ্ঠানিক দিনে পরিণত হয়েছে। দেশের সর্বস্তরে সব ভাষা চর্চার অধিকার নিশ্চিত করা গেলে একুশ সংহত হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার স্ট্রিমকে বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক দিবস। ’৫২, ’৬৯, ’৭১– এর পাটাটনে আমরা বর্তমানে দাঁড়িয়ে রয়েছি। বাংলা ভাষার যে চর্চা দরকার আমাদের হাইকোর্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায়, তা নেই। আমরা মনে করি, একুশকে টিকাতে হলে বাংলা ভাষাসহ আমাদের দেশে যে অন্যান্য ভাষাভাষী রয়েছে, সবার ভাষার চর্চার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কল্যাণপুর থেকে পরিবার নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসা জাহান মিথুন বলেন, একুশের চেতনা হারিয়ে যাওয়ার কারণ ভাষা লালন করতে না পারা। এই কারণে আমাদের রাষ্ট্রীয় যে বিকাশ, তা থমকে গেছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সভাপতি সালমান সিদ্দিকী স্ট্রিমকে বলেন, যে চেতনায় ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন হয়েছিল, তা আমরা সমাজে জারি রাখতে পারিনি। উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে যে বাংলা ভাষার ব্যবহার তা খুব ভালো দেখছি না। একটা সময় বাংলা একাডেমি কিছু উদ্যোগ নিত। এখন কিন্তু তাও নেই।

বাংলা ভাষার দৈন্যদশার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দায় দেখেন ভোলা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মনিরুল ইসলাম ফরাজি। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দেয় না। পৃথিবীর কোনো দেশেই স্বয়ংসম্পূর্ণ মাতৃভাষা চলে না। বাংলা ভাষা হাজার ভাষার সংমিশ্র্রনে চলমান প্রক্রিয়া। এটিকে আবদ্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। নিজের প্রয়োজনেই প্রসার ঘটাতে হবে।’

একুশ শুধু আনুষ্ঠানিকতার দিনে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, আমরা শুধু একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটাকে মনে রাখি। এর চেতনা বছর ধরে ভুলে থাকি। আর এই কারণে বাংলাদেশে ধর্মান্ধতা বিকশিত হয়েছে।

’৫২– এর ইতিহাস হারিয়ে যায়নি মন্তব্য করে কবি মোহন রায়হান স্ট্রিমকে বলেন, ’৫২– এর ইতিহাস হারিয়ে গেলে হাজার হাজার মানুষ কোথা থেকে আসল? এটি এক ধরনের অপপ্রচার। ’৫২ কখনো হারিয়ে যাবে না। এখন এই চেতনাবিরোধী যে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে, তা সাময়িক। সচেতন মানুষ ঠিকই এটি রুখে দেবে।

অভিনেতা ও পরিচালক এম এম কামরুল হাসান রওনক বলেন, যত অপচেষ্টা হোক, ইতিহাস কখনো হারাবে না। ইতিহাসকে মানুষ বিকৃত করার চেষ্টা করে। কিন্তু যা সত্য, অনিবার্য, তা কখনো আড়াল করা যাবে না।

‘৫২–এর ইতিহাস ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন বলে মনে করেন আম জনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে আমরা সংস্কৃতির বিকাশ চাই। এখানে বাংলা ভাষার চর্চা হবে, গান, বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম হলে জায়গায়টি আর অপবিত্র হবে না। ’৫২– এর ইতিহাসও হারিয়ে যাবে না।

তার সুরে অভিনেত্রী সাহানা রহমান সুমি বলেন, ’৫২– এর ইতিহাস হারাচ্ছে কিনা তা আমার নিজেরও প্রশ্ন। বাংলা ভাষার চর্চা কেতাবি এক-দুদিন নয়, সব সময় করা দরকার। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ নিয়ে কাজ করতে হবে। ছায়ানটের মতো আরও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার।

Ad 300x250

সম্পর্কিত