ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে ‘ডাইনি’ অপবাদ দিয়ে এক নারী ও তাঁর ১০ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুদসাই গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম জ্যোতি সিংকু। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিবিসি বলছে, গ্রামে গবাদিপশুর আকস্মিক মৃত্যু এবং পুসতুন বিরুয়া নামের এক স্থানীয় ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পুসতুনের স্ত্রী জানো বিরুয়া জানান, তাঁর স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি স্থানীয় হাতুড়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ওই চিকিৎসক জানান, পুসতুনের কোনো শারীরিক অসুস্থতা নেই। হাসপাতালে না নেওয়ার কারণ হিসেবে জানো বিরুয়া বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, অত দূরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না।’
এরপরেই গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে– জ্যোতি সিংকু ডাইনিবিদ্যা চর্চা করছেন এবং পুসতুনের অসুস্থতার জন্য তিনিই দায়ী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুসতুন মারা যাওয়ার পর এই গুজব চরম আকার নেয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোলহান সিংকু বলেন, ‘প্রায় ডজনখানেক মানুষ, যার মধ্যে পাঁচজন নারীও ছিলেন, আমাদের বাড়িতে হামলা চালান এবং আমার স্ত্রী-সন্তানের গায়ে আগুন দেন। আমি হাতজোড় করে তাদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম– সকালে গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের। কিন্তু হামলাকারীরা আমার কোনো কথাই শোনেননি।’
কোলহান সিংকুসহ পরিবারের আরেক সদস্যের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজন এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। এই হামলায় জড়িত অন্যদের ধরতে একটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে ডাইনি সন্দেহে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী। কয়েক মাস আগেই প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে একই অপবাদে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।