জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‌‌‘লজ্জাজনক’ বলে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে; ছবি: রয়টা‍র্স

বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিলের ঘটনায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‌'লজ্জাজনক' আখ্যা দিয়ে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬-৩ ভোটের ওই রায়ের পর ট্রাম্প জানান, তিনি অন্য আইনের মাধ্যমে এসব শুল্ক বহাল রাখবেন। খবর আল-জাজিরার

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টকে আক্রমণ করে বলেন, 'আদালত বিদেশি স্বার্থের প্রভাবে' সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিচারকদেরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'উদারপন্থী বিচারকরা জাতির জন্য লজ্জা। যেসব রক্ষণশীল বিচারক তাঁদের সঙ্গে একমত হয়েছে তাঁরা দেশপ্রেমিক না।'

এই রায়ে দমে যাননি ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট তাঁকে বৈশ্বিক শুল্ক চালু রাখার আইনি ভিত্তি দেয়। তিনি বলেন, 'শুল্ক আরোপ করার অধিকার আমার আছে এবং সব সময়ই ছিল।' রায়কে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন তিনি।

আইন বদলে পদক্ষেপ

শুক্রবার আদালতের রায়ে বলা হয়, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা ট্রাম্পের নেই। ওই আইনে শুল্কের কথা উল্লেখই নেই।

রায়ে বিচারক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা জোর দিয়ে বলেন, 'শুল্ক আরোপের ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের।'

তবে আইইপিএ ব্যবহার না করে ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট ব্যবহার করে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করবেন বলে জানান ট্রাম্প। এতে আদালত যে শুল্ক বাতিল করেছে তার কিছু অংশের পরিবর্তে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।

ট্রাম্প বলেন, অন্য দেশের 'অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা' নিয়ে তদন্ত চালিয়ে তিনি শুল্ক আরও বাড়াতে পারবেন।

ট্রাম্প বলেন, 'আমরা সরাসরি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছি, সব দেশের ওপর সমানভাবে। এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। এতে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল অর্থ আসবে। আর প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষ করে বিভিন্ন দেশের ওপর “ন্যায্য শুল্ক” বা অন্য শুল্ক আরোপ করা হবে।'

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আয়ের ভবিষ্যৎ

নতুন শুল্ক আরোপ বর্তমানের কিছু শুল্কের অতিরিক্ত হবে। বিশেষ করে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর যে খাতভিত্তিক শুল্ক আছে, তার পাশাপাশি এই ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। এটি তিন দিনের ভেতর কার্যকর হওয়ার কথা।

শুক্রবারের রায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এসব শুল্ক থেকে প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসার কথা ছিল।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ বার্নার্ড ইয়ারোস বলেন, এই রায়ের ফলে কার্যকর শুল্কহার ১২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে।

তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, 'ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি রাজস্ব আসতে পারে।'

ট্রাম্প বলেন, 'দেশকে রক্ষা করার জন্য একজন প্রেসিডেন্ট অতীতের তুলনায় আরও বেশি শুল্ক আরোপ করতে পারেন। আমরা অন্যান্য আইনও ব্যবহার করতে পারি, যেগুলো বৈধ ও অনুমোদিত।'

Ad 300x250

সম্পর্কিত