জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর ওষুধ ও ইনসুলিন: কখন, কতটা নেবেন

রোজার সময় সুস্থ থাকতে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও চিকিৎসকের সঠিক নির্দেশনার কোনো বিকল্প নেই। তাই সবচেয়ে ভালো হবে ইনসুলিন ও ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা।

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭: ২০
স্ট্রিম গ্রাফিক

পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে বা বেড়ে যেতে পারে। তাই রোজা শুরুর আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ ও ইনসুলিনের সময় ও মাত্রা ঠিক করে নেওয়া জরুরি।

কারণ, নিজের ইচ্ছামতো ওষুধের বা ইনসুলিনের ডোজ বাড়িয়ে কমিয়ে ব্যবহার করলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীরা রোজায় কীভাবে নিরাপদে ওষুধ ও ইনসুলিন গ্রহণ করবেন তা নিয়ে কথা বলেছেন চট্টগ্রামের কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আয়েশা আমিন।

ওষুধ খাওয়ার নিয়ম

দিনের বেলা সারাদিন খাওয়াদাওয়া বন্ধ থাকায় রোজার সময় ওষুধের ডোজ মূলত ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়। যেসব ওষুধ দিনে একবার খেতে হয়, সেগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইফতার বা সেহরির সময় খাওয়া যেতে পারে।

দিনে দুইবার খাওয়ার ওষুধগুলো সাধারণত ইফতার ও সেহরির সময় ভাগ করে নেওয়া হয়। তবে যেসব ওষুধ দিনে তিনবার খেতে হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক। চিকিৎসক প্রয়োজনে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করে দিতে পারেন অথবা দীর্ঘক্ষণ কাজ করে এমন ওষুধ দিতে পারেন যা দিনে একবার বা দুবার খেলেই চলে। খালি পেটের গ্যাসট্রিক বা অন্যান্য ওষুধ ইফতারের শুরুতে একটি খেজুর ও পানি দিয়ে খেয়ে নেওয়া ভালো।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি ও সতর্কতা

ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধের বড় ঝুঁকি হলো রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ খুব কমে যাওয়া, যাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ দশমিক ৯ মিলিমোল বা তার নিচে নেমে গেলে এই অবস্থা তৈরি হয়। রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে ডায়াবেটিস রোগীরা অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হাইপোগ্লাইসেমিয়ার শিকার হন।

এমন হলে রোগীর অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে, বুক ধড়ফড় করতে পারে, এমনকি তিনি অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারেন। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার প্রভাবে মস্তিষ্কের কোষ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এতে মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে।

তাই রোজা রাখা অবস্থায় শরীর অতিরিক্ত খারাপ লাগলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্লুকোজ মেপে দেখতে হবে। গ্লুকোজের মাত্রা ৩ দশমিক ৯ এর নিচে থাকলে জীবন বাঁচাতে শরবত বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া যেতে পারে।

ইনসুলিনের মাত্রা ও সময়সূচি পরিবর্তন

রোজার সময় ইনসুলিন ব্যবহারে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি। যাঁরা দুই বেলা প্রি-মিক্সড ইনসুলিন নিচ্ছেন, তাঁরা সকালের সমপরিমাণ ইনসুলিন ইফতারের সময় নেবেন এবং রাতের ইনসুলিনের ডোজ অর্ধেক কমিয়ে সেহরির সময় নেবেন।

অন্যদিকে, যাঁরা দিনে তিনবার খাবারের আগে স্বল্প সময় কাজ করে এমন (শর্ট অ্যাক্টিং) ইনসুলিন নেন, তারা রোজার সময় দুপুরের ইনসুলিন না নিলেও চলতে পারে। সেক্ষেত্রে সকালের সমপরিমাণ ইনসুলিন ইফতারে নেওয়া হয় এবং রাতের ডোজ অর্ধেক করে সেহরির আগে নেওয়া হয়।

তবে যারা লং অ্যাক্টিং বা ব্যাসাল ইনসুলিন নেন, যা প্রতিদিন রাতে নির্দিষ্ট সময়ে দেওয়া হয়, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত সময় বা মাত্রা খুব বেশি পরিবর্তন করতে হয় না। তবুও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সুগার পরীক্ষা ও ইনসুলিন কমানো বা বাড়ানো

অনেকের ধারণা রক্ত পরীক্ষা করলে রোজা ভেঙে যায়, যা সম্পূর্ণ ভুল। সুগার মাপলে রোজা ভাঙে না। রোজায় ইফতারের আগে রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। আবার ইফতারের দুই ঘণ্টা পর গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা জরুরি। পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় গ্লুকোজের মাত্রা অনেক বেশি, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে হবে। আর যদি গ্লুকোজের মাত্রা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নিচের দিকে অবস্থান করে, তাহলে ইনসুলিন কমাতে হবে।

তবে মনে রাখবেন, রোজার সময় সুস্থ থাকতে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও চিকিৎসকের সঠিক নির্দেশনার কোনো বিকল্প নেই। তাই সবচেয়ে ভালো হবে ইনসুলিন ও ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত