জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বাংলাকে ধারণ করতে হলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ৫২
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: সংগৃহীত

সমাজে এখন ইনকিলাবের মতো এমন অনেক অদ্ভুত ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, যার সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। যারা আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, এগুলো তাদের ভাষা।’

রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ভাষার বিকৃতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইনকিলাব অন্য দিকের ভাষা, যা আমাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন এটি নিয়ে আমাদের এমপিরা হাসাহাসি করছেন, তারা এটি নিয়ে গর্ববোধ করছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখের।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি স্মরণ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমি নিজেকে মাথার চুল থেকে পা পর্যন্ত একজন ন্যাশনালিস্ট মনে করি। সেই আদর্শ থেকেই জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। ছাত্রজীবনে বুক টান করে রাজপথে নেমেছি, সমাজ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছি। কিন্তু সমাজে এখন ইনকিলাবের মতো এমন অনেক অদ্ভুত ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, যার সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এসব ভাষা একসময় বাংলাকে ঠেকিয়ে রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো।’

তিনি বলেন, ‘যে জাতি তার নিজের ইতিহাস জানে না, সে জাতি কোনো দিন উন্নতি করতে পারে না। নিজের ইতিহাস জানা সবার জন্য অপরিহার্য। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে— আমি কে? আমার পরিচয় কী?’

শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই ভাষা বিকৃতি শিক্ষকদের ব্যর্থতা। তারা আমাদের সন্তানদের সঠিক ইতিহাস ও ভাষা শেখাতে পারেননি।’

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ’৫২ -র ভাষা আন্দোলন ও শহীদদের আত্মত্যাগ ছিল বাঙালির আবাসস্থল বাংলাদেশ গঠনের প্রথম বীজ। সেই বীজ থেকেই একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্ম। পরিতাপের বিষয়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরেও আমরা আমাদের ভাষা ও ইতিহাসকে সুরক্ষিত করতে পারছি না। কারণ আমরা ইতিহাসের প্রতি যত্নবান নই।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু ছাড়াও বিএনপির জেলা শাখার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত