‘এ প্লাস পেয়েছে?’, ‘পায়নি? আহা!’, ‘গোল্ডেন পাইছে?’, ‘ফেল করছে?’, ‘সি প্লাস দিয়ে কী করে খাবে?’ বাবা-মায়ের চোখেমুখে আতঙ্ক। চোখ-মুখ কাচুমাচু করে অস্থিরতায় কাবু হয়ে পড়ে পরীক্ষার্থী ছেলে বা মেয়েটি।
সুমন সাজ্জাদ

প্রতিবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় আর চারদিকে হাহাকার ওঠে। এরকম হাহাকারের শিকার আমিও হয়েছিলাম। তখন ‘লেটার’ আর ‘স্টার মার্কস’ ছিল শিক্ষাবিষয়ক আভিজাত্যের ব্যাপার। আমার এখনও মনে পড়ে, আমাদের স্কুলের মাঠে লুৎফর রহমান স্যার চিৎকার করে রোল নাম্বার ডাকছিলেন, সঙ্গে লেটার সংখ্যা আর রেজাল্ট বলছিলেন। গলায় কাতর স্বর তুলে আমার বেলায় স্যার বললেন, ‘আহা, ছেলেটা স্টার পায় নাই, ধর্মে লেটার…।’
বুক প্রচণ্ড ঢিবঢিব করছে। মুহূর্তেই আমার চোখমুখ শুকিয়ে গেল। প্রথমেই ভাবলাম, আব্বাকে আমি কী বলব! কীভাবে আমি আত্মীয়স্বজনদের মুখ দেখাব! রাস্তায় কারও প্রশ্নের জবাব দিলাম না। অশ্বগতিতে ভাঙা সাইকেলটি চালাতে চালাতে বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ করে দিলাম আমি। আম্মার ধক্কাধাক্কিতে ভেতর থেকে শুধু বললাম, স্টার পাই নাই। এরপর লজ্জায় বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিলাম। প্রায় তিরিশ বছর আগে এ-ই ছিল আমার বাস্তবতা।
বাস্তবতা খুব বেশি বদলায়নি। চারদিক থেকে একই রকমভাবে ছুটে আসে প্রশ্নের পর প্রশ্ন। ‘এ প্লাস পেয়েছে?’, ‘পায়নি? আহা!’, ‘গোল্ডেন পাইছে?’, ‘ফেল করছে?’, ‘সি প্লাস দিয়ে কী করে খাবে?’ বাবা-মায়ের চোখেমুখে আতঙ্ক। চোখ-মুখ কাচুমাচু করে অস্থিরতায় কাবু হয়ে পড়ে পরীক্ষার্থী ছেলে বা মেয়েটি। করুণ চোখ করে সবাই তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
সত্যিকার অর্থে, কোনো কারণে যদি রেজাল্ট ‘খারাপ’ হয়, তাহলে সব দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয় পরীক্ষার্থীর কাঁধে। অথচ ছেলেটি হয়তো পড়ালেখার ভালো পরিবেশ পায়নি। মেয়েটি হয়তো কোনো বয়ঃসন্ধিকালীন জটিলতায় ভুগেছে। কেউ হয়তো পড়ালেখার বিষয়টিকে গভীরভাবে বুঝতেই পারেনি। স্কুলে ঠিকমতো পড়ালেখা হয়নি। সাবজেক্ট হিসেবে গণিত হয়তো একটু কঠিন লাগত। এটা-সেটা নানা কারণেই রেজাল্ট খারাপ হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো, কোন রেজাল্টটি ‘ভালো’, তা কে নির্ধারণ করে দেয়? কার জন্য কোনটি ভালো?
এমনও পরীক্ষার্থী আছে, ন্যূনতম গ্রেড পেয়েই যে খুশি! এটিই তার কাছে খুব ভালো। কারণ সে ওয়েল্ডিংয়ের দোকানে কাজ করতে করতে পরীক্ষা দিয়েছে। কেউ হয়তো বাবার লাশ দাফন করে চোখ মুছতে মুছতে পরীক্ষায় বসেছে। মাকে পৌঁছে দিতে হয়েছে হাসপাতালে। খারাপ রেজাল্টের তকমার নিচে এসব কার্যকারণ চাপা পড়ে যেতে পারে না।
এ প্লাসই ভালো রেজাল্টের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে ভালো শিক্ষণ হয়েছে কি না, সেটিই মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত। আমরা অভিভাবকেরা প্রায়শই ভুলে যাই যে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কারিকুলাম থাকে। শিক্ষার্থী কী শিখবে, কেন শিখবে, জীবনব্যাপী অর্জিত জ্ঞান কীভাবে ভূমিকা রাখবে, তার একটি রূপরেখা থাকে। ভালো রেজাল্ট হলো, অথচ জীবনব্যাপী শিখনের দুয়ার খোলা থাকল না, তাহলে সেই শিক্ষা ভবিষ্যতে খুব বেশি কাজে লাগে না। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভবিষ্যৎ জীবনে।
দেখা যায়, ভালো রেজাল্টধারী ব্যক্তিটি কর্মদক্ষ হন না, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেশে খাপ খাওয়াতে পারেন না, দায়িত্বপালন ও নেতৃত্ব দানের গুণাবলি না থাকায় কর্মক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা হারান। তার মানে হলো ‘ভালো’ রেজাল্ট সব সময় কাজে দেয় না। ভালো রেজাল্টই ভবিষ্যতের সব কিছুর নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে না।
এর বিপরীতে অনেক ‘খারাপ রেজাল্টধারী’কে দেখা যাবে, যাঁরা স্ট্যান্ড করেননি, স্টার পাননি, এ প্লাস পাননি, অথচ কাজের দুনিয়ায় তাঁরা সেরা, কর্মকুশলতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণে পৌঁছে গেছেন সাফল্যের চূড়ায়। শিক্ষকতা করতে গিয়ে গত দুই দশকে আমি বিস্মিত হয়ে খেয়াল করেছি যে প্রচলিত অর্থে যাঁরা ভালো রেজাল্টধারী নন, তাঁদের অনেকে খুব ভালো করেছেন। ইংরেজি, জাপানি, চীনা, ফরাসি ভাষা শিখে বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে গেছেন। পরবর্তীকালে পছন্দসই প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন। কেউ যুক্ত হয়েছেন গবেষণায়, কেউবা শিক্ষকতায়। সামগ্রিক শিক্ষাজীবনের সবগুলো ধাপে তাঁরা প্রথম শ্রেণি বা এ প্লাস পাননি; কখনো বি প্লাস পেয়েছেন, কেউ কেউ দুইবার পরীক্ষা দিয়ে এসএসসি/এইচএসসি পাশ করেছেন। অর্থাৎ আপাতভাবে ‘খারাপ’ মনে হলেও তাঁদের কারও জীবনের গতি স্তব্ধ হয়ে পড়েনি।
দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের দেশে ‘খারাপ রেজাল্ট’ মানে হাহাকার, লজ্জা আর গুঞ্জন; বাড়িতে খাবার বন্ধ, বাবা-মায়ের কথা বন্ধ, প্রেতপুরীর মতো ঘর-দোর, আত্মীয়-স্বজনের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। এমনকি আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ‘খারাপ রেজাল্টধারী’র পাশে কেউ দাঁড়ায় না। এভাবে একজন শিক্ষার্থীর জীবনের প্রাথমিক স্তরেই ব্যাপক বাধা সৃষ্টি করা হয়। আর এই বাধা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতকে আরও বিপন্ন করে তোলে। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয়, দেখা দেয় আস্থার সংকট।
এইটুকু পড়ে অনেকের হয়তো মনে হতে পারে, আমি ‘খারাপ রেজাল্টে’-এর জয়গান করছি, ‘খারাপ রেজাল্টধারী’কে মহিমান্বিত করছি। আদতে তা নয়। মূলত আমাদের অনেকের মধ্যে ‘ভালো রেজাল্ট’-এর ‘ম্যানিয়া’ পেয়ে বসেছে। আমরা অন্যের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি আমাদের প্রত্যাশামাফিক ভালো রেজাল্টের ভার। এ প্লাস ম্যানিয়ার এই প্রকোপ থেকে আমাদের বের হতে হবে।
জীবনকে যদি বেশ কয়েক স্তরের একটি কাঠামো হিসেবে কল্পনা করি, পরীক্ষা, রেজাল্ট, সার্টিফিকেট সেখানে একেকটা স্তম্ভমাত্র। একটি স্তম্ভকে সবল করতে গিয়ে অদরকারি চাপ সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীর জীবনের মৌল স্তম্ভটিকেই যেন আমরা ভেঙে না ফেলি।
লেখক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক

প্রতিবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় আর চারদিকে হাহাকার ওঠে। এরকম হাহাকারের শিকার আমিও হয়েছিলাম। তখন ‘লেটার’ আর ‘স্টার মার্কস’ ছিল শিক্ষাবিষয়ক আভিজাত্যের ব্যাপার। আমার এখনও মনে পড়ে, আমাদের স্কুলের মাঠে লুৎফর রহমান স্যার চিৎকার করে রোল নাম্বার ডাকছিলেন, সঙ্গে লেটার সংখ্যা আর রেজাল্ট বলছিলেন। গলায় কাতর স্বর তুলে আমার বেলায় স্যার বললেন, ‘আহা, ছেলেটা স্টার পায় নাই, ধর্মে লেটার…।’
বুক প্রচণ্ড ঢিবঢিব করছে। মুহূর্তেই আমার চোখমুখ শুকিয়ে গেল। প্রথমেই ভাবলাম, আব্বাকে আমি কী বলব! কীভাবে আমি আত্মীয়স্বজনদের মুখ দেখাব! রাস্তায় কারও প্রশ্নের জবাব দিলাম না। অশ্বগতিতে ভাঙা সাইকেলটি চালাতে চালাতে বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ করে দিলাম আমি। আম্মার ধক্কাধাক্কিতে ভেতর থেকে শুধু বললাম, স্টার পাই নাই। এরপর লজ্জায় বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিলাম। প্রায় তিরিশ বছর আগে এ-ই ছিল আমার বাস্তবতা।
বাস্তবতা খুব বেশি বদলায়নি। চারদিক থেকে একই রকমভাবে ছুটে আসে প্রশ্নের পর প্রশ্ন। ‘এ প্লাস পেয়েছে?’, ‘পায়নি? আহা!’, ‘গোল্ডেন পাইছে?’, ‘ফেল করছে?’, ‘সি প্লাস দিয়ে কী করে খাবে?’ বাবা-মায়ের চোখেমুখে আতঙ্ক। চোখ-মুখ কাচুমাচু করে অস্থিরতায় কাবু হয়ে পড়ে পরীক্ষার্থী ছেলে বা মেয়েটি। করুণ চোখ করে সবাই তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
সত্যিকার অর্থে, কোনো কারণে যদি রেজাল্ট ‘খারাপ’ হয়, তাহলে সব দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয় পরীক্ষার্থীর কাঁধে। অথচ ছেলেটি হয়তো পড়ালেখার ভালো পরিবেশ পায়নি। মেয়েটি হয়তো কোনো বয়ঃসন্ধিকালীন জটিলতায় ভুগেছে। কেউ হয়তো পড়ালেখার বিষয়টিকে গভীরভাবে বুঝতেই পারেনি। স্কুলে ঠিকমতো পড়ালেখা হয়নি। সাবজেক্ট হিসেবে গণিত হয়তো একটু কঠিন লাগত। এটা-সেটা নানা কারণেই রেজাল্ট খারাপ হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো, কোন রেজাল্টটি ‘ভালো’, তা কে নির্ধারণ করে দেয়? কার জন্য কোনটি ভালো?
এমনও পরীক্ষার্থী আছে, ন্যূনতম গ্রেড পেয়েই যে খুশি! এটিই তার কাছে খুব ভালো। কারণ সে ওয়েল্ডিংয়ের দোকানে কাজ করতে করতে পরীক্ষা দিয়েছে। কেউ হয়তো বাবার লাশ দাফন করে চোখ মুছতে মুছতে পরীক্ষায় বসেছে। মাকে পৌঁছে দিতে হয়েছে হাসপাতালে। খারাপ রেজাল্টের তকমার নিচে এসব কার্যকারণ চাপা পড়ে যেতে পারে না।
এ প্লাসই ভালো রেজাল্টের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে ভালো শিক্ষণ হয়েছে কি না, সেটিই মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত। আমরা অভিভাবকেরা প্রায়শই ভুলে যাই যে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কারিকুলাম থাকে। শিক্ষার্থী কী শিখবে, কেন শিখবে, জীবনব্যাপী অর্জিত জ্ঞান কীভাবে ভূমিকা রাখবে, তার একটি রূপরেখা থাকে। ভালো রেজাল্ট হলো, অথচ জীবনব্যাপী শিখনের দুয়ার খোলা থাকল না, তাহলে সেই শিক্ষা ভবিষ্যতে খুব বেশি কাজে লাগে না। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভবিষ্যৎ জীবনে।
দেখা যায়, ভালো রেজাল্টধারী ব্যক্তিটি কর্মদক্ষ হন না, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেশে খাপ খাওয়াতে পারেন না, দায়িত্বপালন ও নেতৃত্ব দানের গুণাবলি না থাকায় কর্মক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা হারান। তার মানে হলো ‘ভালো’ রেজাল্ট সব সময় কাজে দেয় না। ভালো রেজাল্টই ভবিষ্যতের সব কিছুর নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে না।
এর বিপরীতে অনেক ‘খারাপ রেজাল্টধারী’কে দেখা যাবে, যাঁরা স্ট্যান্ড করেননি, স্টার পাননি, এ প্লাস পাননি, অথচ কাজের দুনিয়ায় তাঁরা সেরা, কর্মকুশলতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণে পৌঁছে গেছেন সাফল্যের চূড়ায়। শিক্ষকতা করতে গিয়ে গত দুই দশকে আমি বিস্মিত হয়ে খেয়াল করেছি যে প্রচলিত অর্থে যাঁরা ভালো রেজাল্টধারী নন, তাঁদের অনেকে খুব ভালো করেছেন। ইংরেজি, জাপানি, চীনা, ফরাসি ভাষা শিখে বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে গেছেন। পরবর্তীকালে পছন্দসই প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন। কেউ যুক্ত হয়েছেন গবেষণায়, কেউবা শিক্ষকতায়। সামগ্রিক শিক্ষাজীবনের সবগুলো ধাপে তাঁরা প্রথম শ্রেণি বা এ প্লাস পাননি; কখনো বি প্লাস পেয়েছেন, কেউ কেউ দুইবার পরীক্ষা দিয়ে এসএসসি/এইচএসসি পাশ করেছেন। অর্থাৎ আপাতভাবে ‘খারাপ’ মনে হলেও তাঁদের কারও জীবনের গতি স্তব্ধ হয়ে পড়েনি।
দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের দেশে ‘খারাপ রেজাল্ট’ মানে হাহাকার, লজ্জা আর গুঞ্জন; বাড়িতে খাবার বন্ধ, বাবা-মায়ের কথা বন্ধ, প্রেতপুরীর মতো ঘর-দোর, আত্মীয়-স্বজনের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। এমনকি আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ‘খারাপ রেজাল্টধারী’র পাশে কেউ দাঁড়ায় না। এভাবে একজন শিক্ষার্থীর জীবনের প্রাথমিক স্তরেই ব্যাপক বাধা সৃষ্টি করা হয়। আর এই বাধা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতকে আরও বিপন্ন করে তোলে। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয়, দেখা দেয় আস্থার সংকট।
এইটুকু পড়ে অনেকের হয়তো মনে হতে পারে, আমি ‘খারাপ রেজাল্টে’-এর জয়গান করছি, ‘খারাপ রেজাল্টধারী’কে মহিমান্বিত করছি। আদতে তা নয়। মূলত আমাদের অনেকের মধ্যে ‘ভালো রেজাল্ট’-এর ‘ম্যানিয়া’ পেয়ে বসেছে। আমরা অন্যের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি আমাদের প্রত্যাশামাফিক ভালো রেজাল্টের ভার। এ প্লাস ম্যানিয়ার এই প্রকোপ থেকে আমাদের বের হতে হবে।
জীবনকে যদি বেশ কয়েক স্তরের একটি কাঠামো হিসেবে কল্পনা করি, পরীক্ষা, রেজাল্ট, সার্টিফিকেট সেখানে একেকটা স্তম্ভমাত্র। একটি স্তম্ভকে সবল করতে গিয়ে অদরকারি চাপ সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীর জীবনের মৌল স্তম্ভটিকেই যেন আমরা ভেঙে না ফেলি।
লেখক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক

দীর্ঘ অচলায়তন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নানা সংকট, মতবিরোধ ও আস্থাহীনতার আবহ পেরিয়ে এই নির্বাচন ছিল রাষ্ট্র ও রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত।
১০ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করতে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে এই জয় যেমন বিপুল প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে, তেমনই তৈরি করেছে এক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
১ দিন আগে
এখন মানুষের প্রত্যাশা বা এক্সপেকটেশন অনেক বেশি। এই সরকারের কাছে মানুষ অনেক কিছু আশা করবে। আর এখানেই বিপদ। সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা এই প্রত্যাশাগুলো শুনতে পাচ্ছে এবং তাদের কাজে তার প্রতিফলন আছে। অতিরিক্ত প্রত্যাশার বিপদ হলো, আপনি যখন ডেলিভার করতে পারবেন না, তখন জনপ্রিয়তা খুব দ্রুত পড়ে যায়।
২ দিন আগে
ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন তৈরি করা গেলে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে। যদি সরকার শুরুতেই এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে।
২ দিন আগে