leadT1ad

হামলা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে নুরের ‘রাজনীতি-যাত্রা’

নুরুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বিতর্ক, অভিনয়সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নুর।

স্ট্রিম ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ২১: ৫৬
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ২২: ২৪
হামলা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে নুরের ‘রাজনীতি-যাত্রা’। স্ট্রিম গ্রাফিক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নুরুল হক নুর প্রাসঙ্গিক হতে শুরু করেন ২০১৮ সালের কোটা সংস্কারের আন্দোলনের পর থেকে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা থেকে ডাকসুর ভিপি পদে নির্বাচিত হওয়া নুরের ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অন্তত ২৫ বার হামলার খবর পাওয়া যায়। ২৯ আগস্ট রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আরেক দফা হামলার শিকার হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা। দুই দফায় এই সংঘর্ষে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মারমুখী ভূমিকায় দেখা যায়। এসময় গুরুতর আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

২০২৩ সালে টিএসসিতে নুরের ওপর হামলা। সংগৃহীত ছবি
২০২৩ সালে টিএসসিতে নুরের ওপর হামলা। সংগৃহীত ছবি

নুরের ওপর নৃশংস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না এবং দ্রুততার সঙ্গে বিচার সম্পন্ন করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে হামলার নিন্দা জানিয়ে আজ শনিবার এক বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে সরকার বলছে, কেবল নুরের ওপরই নয়, এই ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ঐতিহাসিক সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্পিরিটের ওপরেও আঘাত বলে মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে নুরুল হক নুর এবং তাঁর দলের অন্যান্য আহত সদস্যদের চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাঁদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজনে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানো হবে।

এই সংকটময় সময়ে নুর এবং তাঁর দলের আহত সদস্যদের ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে পুরো জাতির প্রার্থনা এবং সংহতি রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান নুরুল হক নুর। সেখানেও তিনি নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং আওয়ামী পরিবারের সন্তান বলে দাবি করেন।

কে এই নুর?

নুরুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বিতর্ক, অভিনয়সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নুর।

বর্তমানে পুরোদস্তুর রাজনীতিক নুরুল হক নুরের জন্ম পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নের একটি সাধারণ পরিবারে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে পরিবারের তৃতীয় সন্তান নুর। তাঁর বাবা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) মো. ইদ্রিস হাওলাদারের বরাতে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নুর মাতৃহারা হয়েছেন ১৯৯৩ সালে যখন তার বয়স পাঁচ থেকে ছয় বছর। যোগাযোগ সমস্যার কারণে তাঁর মায়ের চিকিৎসা করাতে না পারার কারণে তিনি শৈশবে ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন।

চর এলাকাতেই সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন নুর। এরপর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চাচাতো বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন এবং কালিয়াকৈর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এইচএসসি পাস করেন উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। মেডিকেল কলেজে সুযোগ না পেয়ে প্রথমে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ২০১৮ সালের ৩০ জুন নুরের ওপর প্রথম হামলা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

ছাত্রলীগের কর্মী থেকে ‘আওয়ামী-বিরোধী’ রাজনীতিতে নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত হওয়ার পর নুরের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দেয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ায় অনেকেই তাকে ‘শিবির কর্মী’র তকমা দেয়। ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর সময়ও ছাত্রলীগের অনেকেই তাকে শিবির বলে অভিহিত করেছিলেন। অবশ্য ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি পরিষ্কার করেন নুর নিজেই। তিনি বলেন, ‘একসময় আমি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম, এখন আমি ছাত্রলীগের কেউ না। এখন আমি সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক। এছাড়া ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালীন স্কুল কমিটিতে দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল শাখার উপ-মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক ছিলাম।’

ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান নুরুল হক নুর। সেখানেও তিনি নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং আওয়ামী পরিবারের সন্তান বলে দাবি করেন। সেই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে কদমবুসিও করেন নুরুল হক নুর। অনুষ্ঠানে হাসিনাকে দূর থেকে ও টিভিতে দেখার কথা উল্লেখ করে নুর বলেন, ‘আড়াই বছর বয়সে আমার মা মারা যায়। আমার মায়ের যতটুকু মনে করতে পারি সেটা খুঁজে পেয়েছিলাম আমার প্রাইমারির একজন শিক্ষিকার মধ্যে। আর আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখে আমার মনে হয়েছে যে, তার মধ্যে আমার মায়ের চেহারাটা আমি খুঁজে পেয়েছি।’ তাঁর এই বক্তব্য নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।

গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নুরুল হক নুর। সংগৃহীত ছবি
গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নুরুল হক নুর। সংগৃহীত ছবি

অবশ্য সময়ে পরিক্রমায় নুর হয়ে ওঠেন আওয়ামী-বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ। রাজনীতির মাঠে বিভিন্ন ইস্যুতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে দেখা যায়। সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ‘সেতু ভবনে হামলা’র অভিযোগে মামলায় গ্রেপ্তার হন নুরুল হক নুর। এই মামলায় তাকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি দেন আন্দোলনের সরাসরি নেতারাও। শুক্রবারের হামলার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা সারজিস আলম ফেসবুকের এক পোস্টে নুরকে ‘ফ্যাসিস্টবিরোধী লড়াইয়ের মাধ্যমে হাসিনা পতন আন্দোলনের অন্যতম সহযোদ্ধা’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

নুরের বিরুদ্ধে নারীর অবমাননার অভিযোগও উঠেছিল। ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী নুরুল হক নুর ও ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

নূরের ওপর একের পর এক হামলা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ২০১৮ সালের ৩০ জুন নুরের ওপর প্রথম হামলা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এরপর ২০১৮ সালের ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের দিন ভোট কারচুপির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঢাবির রোকেয়া হলে ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হন নুর। হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি নুর সেখানেই ভিপি পদে জয়ের খবর পান।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নুর। সংগৃহীত ছবি
২০১৮ সালের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নুর। সংগৃহীত ছবি

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরদিন ১২ মার্চ ঢাবিতে ঢোকার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর হামলা করে। এ ছাড়াও ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এসএম হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার মুখে পড়েন তিনি।

এরপর নুর ২০১৯ সালের ২৫ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ইফতারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে মার খান। ২০১৯ সালের ১২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ছাত্রলীগ তাঁর ওপর আবার হামলা করে। ওই ঘটনায় শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলেও তা নেওয়া হয়নি। উল্টো নুরের বিরুদ্ধে তখন মামলার আবেদন করা হয়।

২০১৯ সালের ২৬ মে বগুড়ায় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন নুরুল হক নুর। ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর নুরুল হক নুরের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এতে নুরের বাম হাতের আঙ্গুল ভেঙে দেওয়া হয়।

২০২১ সালের ১৭ নভেম্বরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ছাত্রলীগের দু’দফায় হামলার শিকার হন নুর। ওই ঘটনায়ও কোনো মামলা নেওয়া হয়নি।

২০২৩ সালের ১৮ জুলাই গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় দখল নিতে গিয়ে পুলিশি হামলায় নুরসহ দু’জন আহত হন। তারপর সে বছরের ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি’র সামনে ডাকা সমাবেশে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন নুর।

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় গ্রেপ্তার নুরকে তৎকালীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে সদস্য-সচিব করে ১০১ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর যাত্রা শুরু করেছিল গণ অধিকার পরিষদ। মাত্র দেড় বছরের মাথায় রেজা কিবরিয়া ও নুরের দ্বন্দ্বে ভেঙে যায় দলটি। রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে দলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়েছেন নুর ও তার অনুসারীরা।

নুরুল হক নুরকে নিয়ে যত সমালোচনা

নুরুল হক পরিচিত মুখ হয়ে উঠার পর থেকেই যেমন শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন, তেমনি তাঁকে ঘিরে নানান সমালোচনাও রয়েছে। নুরের বিরুদ্ধে সবশেষ সমালোচনা উঠেছে মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সাথী ও তার ছেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে সমর্থন দেওয়ার। সম্প্রতি তাঁদের গ্রেফতারের পর নুরুল হক নুর দাবি করেন, ‘জনকণ্ঠের’ মত ‘মাই টিভি’ দখলে কিছু ব্যক্তি সুপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সাথী ও তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেফতার করিয়েছেন।

গত ২৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১টা ৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নুর লিখেছেন, এতদিন তারা নগদ ৫ কোটি কিংবা শেয়ার লিখে নেওয়ার দেনদরবার করেছেন। সমঝোতায় মেলেনি, তাই ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল মবের মাধ্যমে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তৌহিদ আফ্রিদি ও তার বাবাকে গ্রেফতার করিয়েছেন।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গ্রেফতারের পর পুলিশি হেফাজতে আদালতে নুর। সংগৃহীত ছবি
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গ্রেফতারের পর পুলিশি হেফাজতে আদালতে নুর। সংগৃহীত ছবি

সমালোচকেরা বলছেন, ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে সুপরিচিত তৌহিদ আফ্রিদি কিংবা তাঁর বাবার পক্ষ নিয়েছেন নুর। তানভীর রাহী নামের এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর দাবি করেছেন, ‘তৌহিদ আফ্রিদির সঙ্গে সম্পর্ক আছে গণপরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের।’ এছাড়া ফেসবুকে, নুর এবং রাশেদের ফেসবুক পোস্টের কমেন্টেও অনেকে অভিযোগ করেছেন, বিগত দিনে তৌহিদ আফ্রিদিকে শেল্টার দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গণঅধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খাঁন বলেছেন, ‘কাউকে প্রটেকশন দেওয়া আমার কাজ না।’

রাশেদ বলেছেন, ‘আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে রাজনীতি করি। কাউকে প্রটেকশন দেওয়া আমার কাজ না। প্রটেকশন আমরা দেই না। বরং আমরা অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলি। এসব যাদের বিরুদ্ধে যায়, সেই সমস্ত সঙ্গবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র আমাদের থামিয়ে দেওয়ার জন্য নানান ধরনের মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়।’

এর আগে নুরের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগও উঠেছিল। এ নিয়ে ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র’ করার অভিযোগ এনে মামলার হয়েছিল। সেসময় ঘটনাটি অস্বীকার করলেও সম্প্রতি এক সেমিনারে অংশ তা একরকম স্বীকার করে নিয়েছেন নুর।

নুরের বিরুদ্ধে নারীর অবমাননার অভিযোগও উঠেছিল। ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী নুরুল হক নুর ও ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। ওই মামলায় নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। এক পর্যায়ে নুরের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে এসে ওই নারীকে অবমানকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে নুর আত্মপক্ষ সমর্থন করে পরে বলেন, ‘দুশ্চরিত্রহীন, মানে তাকে চরিত্রবান বা চরিত্রহীন কোনোটাই বলিনি। তিনি অন্যের প্ররোচনায় এসব কাজ করছেন।’

অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে সদস্য-সচিব করে ১০১ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর যাত্রা শুরু করেছিল গণ অধিকার পরিষদ। মাত্র দেড় বছরের মাথায় রেজা কিবরিয়া ও নুরের দ্বন্দ্বে ভেঙে যায় দলটি। রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে দলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়েছেন নুর ও তার অনুসারীরা। পাল্টা অ্যাকশন হিসেবে গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব পদ থেকে নুর ও ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খানকে তাদের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেন রেজা কিবরিয়া।

এসময় নুরের বিরুদ্ধে দলীয় ফান্ড থেকে অর্থ তছরুপেরও অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। তবে এ অভিযোগও বরাবরই অস্বীকার করেছেন নুর। তিনি পাল্টা রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলেছেন।

Ad 300x250

নির্বাচন বানচালে এই হামলা, সেনাবাহিনী রক্ষা করেছে: শামীম হায়দার পাটোয়ারী

স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই জাতীয় পার্টি বিলীন হয়ে যাবে

শিবির সমর্থিত প্যানেলের জুমার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ অবমাননার অভিযোগ

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরের ওপর হামলা নিয়ে বর্তমান ভিপিপ্রার্থীরা কী বলছেন

রাকসু নির্বাচনে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন

সম্পর্কিত