স্ট্রিম ডেস্ক

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের নূর শামস শরণার্থী শিবিরে ২৫টি আবাসিক ভবন ভেঙে ফেলতে যাচ্ছে ইসরায়েল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে।
নূর শামস শিবিরটি তুলকারেম গভর্নরেটের অন্তর্ভুক্ত। তুলকারেমের গভর্নর আবদাল্লাহ কামিল সোমবার সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগাট তাকে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
তুলকারেম শরণার্থী শিবিরের জনপ্রিয় কমিটির প্রধান ফয়সাল সালামা জানান, এই ধ্বংসের আদেশে প্রায় ১০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব পরিবার তাদের বসতঘর হারাবে।
ইসরায়েল চলতি বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিম তীরে ‘অপারেশন আয়রন ওয়াল’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলের দাবি, উত্তর পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এই অভিযানের লক্ষ্য।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েল এমন কৌশল ব্যবহার করছে, যা তারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চালানো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। এসব কৌশলের মাধ্যমে ভূমি দখল ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে।
আল জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ রামাল্লাহ থেকে জানান, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের অংশ। প্রায় এক বছর ধরে তিনটি শরণার্থী শিবিরকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চলছে। গত এক বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ঘর ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার ফিলিস্তিনি।
ফিলিস্তিনি জনগণ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এসব ঘরবাড়ি ভাঙার উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের একটি সংকীর্ণ পরিসরে বন্দী করে রাখা। পাশাপাশি পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক বাস্তবতা বদলে দেওয়াও এর লক্ষ্য।
সোমবার নূর শামসের বাস্তুচ্যুত কয়েকজন বাসিন্দা বিক্ষোভ করেন। তারা সাঁজোয়া ইসরায়েলি সামরিক যানবাহনের সামনে অবস্থান নেন, যা তাদের শিবিরে ফিরে যাওয়ার পথ আটকে রেখেছিল। বিক্ষোভকারীরা ধ্বংসের আদেশের প্রতিবাদ জানান এবং নিজ নিজ ঘরে ফেরার অধিকার দাবি করেন।
ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিষদের প্রধান রুহি ফাত্তুহ বলেন, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত জাতিগত নিধন ও ধারাবাহিক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির অংশ। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা এই মন্তব্য প্রকাশ করেছে।
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলোকাস্ট ও গণহত্যা অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ওমের বার্তোভ আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মানবিক মর্যাদা অস্বীকার করছে।
তিনি বলেন, এতে ‘সামাজিক মৃত্যু’র মতো একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ১৯৩০-এর দশকে জার্মানিতে ইহুদি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যা ঘটেছিল, সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে তিনি এর তুলনা করেন।
তার ভাষায়, ইসরায়েলি সমাজ ক্রমেই ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখছে না। তাদের এমনভাবে দেখা হচ্ছে, যেন তারা অস্তিত্বহীন। এতে একদিকে ফিলিস্তিনি জনগণকে অমানবিক করা হচ্ছে। অন্যদিকে যারা এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করছে, তারাও ধীরে ধীরে অমানবিক হয়ে উঠছে।
নূর শামসের বাসিন্দা আয়েশা দামা এএফপিকে বলেন, তিনি নিজেকে অসহায় মনে করছেন। তার চারতলা বাড়িতে প্রায় ৩০ জন মানুষ বসবাস করতেন। সেই বাড়িটিও ধ্বংসের তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার দিন কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি।
আরেক বাসিন্দা সিহাম হামায়েদ বলেন, তার সব ভাইয়ের ঘর ভেঙে ফেলা হবে। ইতোমধ্যে তার ভাইয়েরা রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
নূর শামসসহ পশ্চিম তীরের অন্যান্য শরণার্থী শিবির গড়ে ওঠে ১৯৪৮ সালের নাকবার পর। সে সময় বর্তমান ইসরায়েল ভূখণ্ড থেকে লক্ষাধিক ফিলিস্তিনিকে জোর করে উচ্ছেদ করা হয়।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব শিবির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়। এখানকার বাসিন্দারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শরণার্থী পরিচয় বহন করে চলেছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের নূর শামস শরণার্থী শিবিরে ২৫টি আবাসিক ভবন ভেঙে ফেলতে যাচ্ছে ইসরায়েল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে।
নূর শামস শিবিরটি তুলকারেম গভর্নরেটের অন্তর্ভুক্ত। তুলকারেমের গভর্নর আবদাল্লাহ কামিল সোমবার সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগাট তাকে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
তুলকারেম শরণার্থী শিবিরের জনপ্রিয় কমিটির প্রধান ফয়সাল সালামা জানান, এই ধ্বংসের আদেশে প্রায় ১০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব পরিবার তাদের বসতঘর হারাবে।
ইসরায়েল চলতি বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিম তীরে ‘অপারেশন আয়রন ওয়াল’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলের দাবি, উত্তর পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এই অভিযানের লক্ষ্য।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েল এমন কৌশল ব্যবহার করছে, যা তারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চালানো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। এসব কৌশলের মাধ্যমে ভূমি দখল ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে।
আল জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ রামাল্লাহ থেকে জানান, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের অংশ। প্রায় এক বছর ধরে তিনটি শরণার্থী শিবিরকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চলছে। গত এক বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ঘর ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার ফিলিস্তিনি।
ফিলিস্তিনি জনগণ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এসব ঘরবাড়ি ভাঙার উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের একটি সংকীর্ণ পরিসরে বন্দী করে রাখা। পাশাপাশি পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক বাস্তবতা বদলে দেওয়াও এর লক্ষ্য।
সোমবার নূর শামসের বাস্তুচ্যুত কয়েকজন বাসিন্দা বিক্ষোভ করেন। তারা সাঁজোয়া ইসরায়েলি সামরিক যানবাহনের সামনে অবস্থান নেন, যা তাদের শিবিরে ফিরে যাওয়ার পথ আটকে রেখেছিল। বিক্ষোভকারীরা ধ্বংসের আদেশের প্রতিবাদ জানান এবং নিজ নিজ ঘরে ফেরার অধিকার দাবি করেন।
ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিষদের প্রধান রুহি ফাত্তুহ বলেন, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত জাতিগত নিধন ও ধারাবাহিক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির অংশ। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা এই মন্তব্য প্রকাশ করেছে।
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলোকাস্ট ও গণহত্যা অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ওমের বার্তোভ আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মানবিক মর্যাদা অস্বীকার করছে।
তিনি বলেন, এতে ‘সামাজিক মৃত্যু’র মতো একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ১৯৩০-এর দশকে জার্মানিতে ইহুদি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যা ঘটেছিল, সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে তিনি এর তুলনা করেন।
তার ভাষায়, ইসরায়েলি সমাজ ক্রমেই ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখছে না। তাদের এমনভাবে দেখা হচ্ছে, যেন তারা অস্তিত্বহীন। এতে একদিকে ফিলিস্তিনি জনগণকে অমানবিক করা হচ্ছে। অন্যদিকে যারা এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করছে, তারাও ধীরে ধীরে অমানবিক হয়ে উঠছে।
নূর শামসের বাসিন্দা আয়েশা দামা এএফপিকে বলেন, তিনি নিজেকে অসহায় মনে করছেন। তার চারতলা বাড়িতে প্রায় ৩০ জন মানুষ বসবাস করতেন। সেই বাড়িটিও ধ্বংসের তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার দিন কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি।
আরেক বাসিন্দা সিহাম হামায়েদ বলেন, তার সব ভাইয়ের ঘর ভেঙে ফেলা হবে। ইতোমধ্যে তার ভাইয়েরা রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
নূর শামসসহ পশ্চিম তীরের অন্যান্য শরণার্থী শিবির গড়ে ওঠে ১৯৪৮ সালের নাকবার পর। সে সময় বর্তমান ইসরায়েল ভূখণ্ড থেকে লক্ষাধিক ফিলিস্তিনিকে জোর করে উচ্ছেদ করা হয়।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব শিবির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়। এখানকার বাসিন্দারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শরণার্থী পরিচয় বহন করে চলেছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, গত ৪৭ বছরেও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে ধ্বংস করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ভবিষ্যতেও পারবে না।
১৫ ঘণ্টা আগে
ভারতের কর্ণাটকে ইসরায়েলি এক নারীসহ দুই পর্যটককে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও এক পুরুষকে হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
১ দিন আগে
দ্বিতীয় দফায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। আলোচনায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জেনেভায় পৌঁছেছেন। এই আলোচনার লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং নতুন সামরিক সংঘাত এড়ানো।
২ দিন আগে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নিতে জেনেভায় পৌঁছেছেন। এই আলোচনার লক্ষ্য উত্তেজনা কমানো এবং নতুন কোনো সামরিক সংঘাত এড়ানো।
২ দিন আগে