জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

তারেক রহমানের নতুন অধ্যায় শুরু

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২: ৫৬
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান। বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া ছবি

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৫০ নেতা শপথ নেন। এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পিএস-এপিএস নিয়োগ করা হয়।

সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার আনুষঙ্গিক কাজও শেষ করেছে বিএনপি। মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির বীর সন্তান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সচিবালয়ে অফিস করবেন তারেক রহমান। এরপর বিকেলে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক করবেন তিনি।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রায় দুই যুগ পর বিএনপি সরকার গঠন করল। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দেড় বছরের মধ্যে দেশ পেল নির্বাচিত সরকার। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ পড়ান। একই দিন ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি তারেক রহমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করবেন।

বিএনপি সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন যারা—

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়

ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

আবদুল আউয়াল মিন্টু, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্ম মন্ত্রণালয়

মিজানুর রহমান মিনু, ভূমি মন্ত্রণালয়

নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়

খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, বাণিজ্য,শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

আফরোজা খানম রিতা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়

আসাদুল হাবিব দুলু,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

মো. আসাদুজ্জামান, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক

জাকারিয়া তাহের, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

দীপেন দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়

আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়

জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মোহাম্মদ আমিন উর রশীদকে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া ছবি
তারেক রহমানকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া ছবি

অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আমিনুল হক। অন্য প্রতিমন্ত্রীরা হলেন—

এম রশিদুল জামান মিল্লাত (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়)

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়)

মো. শরিফুল আলম (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়)

শামা ওবায়েদ ইসলাম (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়)

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (ভূমি মন্ত্রণালয়)

ফরহাদ হোসেন আজাদ (পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়)

মীর হেলাল উদ্দীন (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়)

হাবিবুর রশিদ (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়)

মো. রাজিব আহসান (রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়)

মো. আব্দুল বারী (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়)

মীর শাহে আলম (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়)

মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়)

ইশরাক হোসেন (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়)

ফারজানা শারমিন (মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়)

শেখ ফরিদুল ইসলাম (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়)

মো. নুরুল হক নুর (শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়)

ইয়াসের খান চৌধুরী (তথ্য, সম্প্রচার মন্ত্রণালয়)

এম ইকবাল হোসেইন (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়)

এম এ মুহিত (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়)

আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর (গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়)

ববি হাজ্জাজ (শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়)

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়)।

এর আগে, বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।

মন্ত্রি পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া ছবি
মন্ত্রি পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া ছবি

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভা (পার্লামেন্ট) স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমমন্ত্রী ড. নালিন্দা জয়তিস্সাসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের জমকালো দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন- অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, সিনিয়র সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ড. জুবাইদা রহমান এবং তাঁদের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের সময় ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত