মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও কমেনি জীবনযাত্রার ব্যয়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ২১: ৪২
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংগৃহীত ছবি

দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমেনি। খাদ্যপণ্যের দাম সামান্য হ্রাস পেলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় দ্রব্যমূল্যের চাপ এখনো রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে জাতীয় পর্যায়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ, এক মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে মাত্র শূনু দশমিক ১৯ শতাংশ ।

তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা স্বস্তিতে। গেল বছরের অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা এ বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।

খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা কমায় সার্বিক সূচকে এই হালকা স্বস্তি দেখা গেলেও খাদ্যবহির্ভূত খাতের চিত্র উল্টো । বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,চলতি বছরের অক্টোবরে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৭ দশমিক ০৮ শতাংশে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে অক্টোবরে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে, সেপ্টেম্বরে যা ছিল ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ফলে আবাসন, চিকিৎসা, পরিবহনসহ অন্যান্য সেবার খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে।

এদিকে বিবিএসের মাসিক মূল্যস্ফীতি সূচক অনুযায়ী এক মাসের ব্যবধানে দাম কমেনি, বরং বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে মাসিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১ দশমিক ০৫ শতাংশ, অক্টোবর মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশে। অর্থাৎ, স্বল্পমেয়াদে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

বিবিএস প্রকাশিত রিপোর্টের সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মূল্যস্ফীতির তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির হার কম । বিবিএসের মজুরি হার সূচক (ওয়েজ রেট ইনডেক্স) অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ০১ শতাংশে। অথচ একই সময়ে (অক্টোবর) মূল্যস্ফীতি হার ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ, মজুরি বাড়লেও তা দামের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে শ্রমিকদের প্রকৃত আয় কমেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিবিএস জানিয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলার ১৫৪টি হাটবাজার থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে, ২০২১–২২ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে তাঁরা এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত