জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

থমকে গেল ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রক্রিয়া

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৪১
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। স্ট্রিম গ্রাফিক

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল’ সরব হয়। এই প্রতিবাদের জেরে গত সোমবার দিনভর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উত্তেজনা বিরাজ করে।

কাউন্সিলের সংবাদ সম্মেলন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা স্থগিতের দাবি জানানো হয়। পরে দুপুরে সভা অনুষ্ঠিত হলেও ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শেষ মুহূর্তে সভার কার্যসূচি পরিবর্তন করে কেবল আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জরুরি সভায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই এই লাইসেন্স দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমান গভর্নর অতীতে ওই গোষ্ঠীর একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন বলে ‘স্বার্থের সংঘাত’-এর প্রশ্ন তুলেছেন নেতারা। তাঁরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে মাত্র এক দিনের নোটিশে এমন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

নেতারা আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী একটি ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হতে পারে না। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ আইন ও প্রথা উভয়ের পরিপন্থী বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

কাউন্সিলের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক থাকলেও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন নাজুক অবস্থায় নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্বচ্ছ বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই সভায় পর্ষদের কয়েকজন সদস্যও জরুরি সভা ডাকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—

  • ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি
  • ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান (উদ্যোক্তা: ভুটানের ডিকে ব্যাংক)
  • আমার ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: ২২টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান)
  • ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি (উদ্যোক্তা: ১৬ ব্যক্তি)
  • বুস্ট (উদ্যোক্তা: রবি আজিয়াটা লিমিটেড)
  • আমার ব্যাংক (উদ্যোক্তা: কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা)
  • অ্যাপ ব্যাংক (উদ্যোক্তা: যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কয়েক ব্যক্তি)
  • নোভা ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার)
  • মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি (উদ্যোক্তা: আশা)
  • জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: ডিবিএল গ্রুপ)
  • মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: আকিজ রিসোর্স)
  • বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: বিকাশের শেয়ারধারীরা)
  • উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: আইটি সলিউশন লিমিটেড)

কর্মকর্তাদের এই প্রতিবাদের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক অফিস আদেশ জারি করেছে। এতে জানানো হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে বা সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকসংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন না। বর্তমানে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রক্রিয়াটি গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত