৩ সাইটে ঘুষ-চাঁদা-নিপীড়নের অভিযোগ, ব্যবস্থার তাগিদ বিশেষজ্ঞের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৪৪
৩ সাইটে ঘুষ-চাঁদা-নিপীড়নের অভিযোগ। স্ট্রিম গ্রাফিক
৩ সাইটে ঘুষ-চাঁদা-নিপীড়নের অভিযোগ। স্ট্রিম গ্রাফিক

পরিচয় গোপন রেখে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও যৌন নিপীড়নের তথ্য প্রকাশের তিন সাইট-ঘুষ ডট সাইট, আওয়াজ ডট বিডি ও চাঁদা ডট সাইটে বিপুল অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব বেনামি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্তের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাইট ৩টিতে কী দেখা গেল

‘ঘুষ ডট সাইট’-এ গত ২০ দিনে ১৮ হাজার ৮১২টি রিপোর্ট জমা পড়েছে। এসব রিপোর্টে দাবি করা মোট ঘুষের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫১ কোটি ১২ লাখ টাকা। সাইটে সবচেয়ে বেশি ৭ হাজার ৩৬৮টি অভিযোগ এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ৩ হাজার ৯৯৮, রাজশাহী থেকে ১ হাজার ৬২২, খুলনা থেকে ১ হাজার ৪৭৭, রংপুর থেকে ১ হাজার ৩২৮, ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ১৯২, বরিশাল থেকে ৯৭৯ এবং সিলেট থেকে ৮৪৮টি অভিযোগ জমা হয়েছে।

ঘুষ ডট সাইট বলছে, মোট রিপোর্টের মধ্যে প্রমাণ সংযুক্ত রয়েছে ১১ শতাংশে। ইতিমধ্যে চাঁদা আদায় করা হয়েছে ২৪ শতাংশ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু যৌন নিপীড়নের মাত্রা তুলে ধরতে চালু হওয়া ‘আওয়াজ ডট বিডি’ সাইটে তিন দিনে ১২৪টি রিপোর্ট জমা পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুষ ভুক্তভোগীদের ১০ শতাংশ এবং নারী ভুক্তভোগীদের ১৮ শতাংশ নিকটাত্মীয়ের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সাইটে ঢাকা জেলা থেকে সর্বোচ্চ অভিযোগ এসেছে।

আওয়াজ ডট বিডি সাইটের তথ্যমতে, ছেলেদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বয়স ১০ থেকে ১২ বছর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৯ বছর। এসব ঘটনার ৫৯ শতাংশ বাসাবাড়িতে, ৩৩ শতাংশ ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ১০ শতাংশ খোলা জায়গায় এবং ৭ শতাংশ বাণিজ্যিক ও পরিবহন খাতে ঘটেছে।

অভিযোগকারীদের ৩৬ শতাংশ একবার, ৪৮ শতাংশ একাধিকবার এবং ১৬ শতাংশ নারী-পুরুষ দীর্ঘমেয়াদি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক অভিযোগে কওমি মাদ্রাসায় ২১ শতাংশ, মসজিদে ৭, স্কুলে ৬, আলিয়া মাদ্রাসায় ৩, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২, কলেজে ১ ও মন্দিরে ১ শতাংশ অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে ‘চাঁদা ডট সাইট’-এ আসা ৯টি রিপোর্টে ৯ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ টাকা দাবি এবং ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা আদায়ের তথ্য মিলেছে। রিপোর্টে নির্মাণ খাত এবং ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও দুদকের অবস্থান

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, এসব বেনামি অভিযোগকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জানান, অভিযোগকারীর নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করা হলেও এতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার সুযোগ রয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যে তথ্যগুলো প্রকাশিত হচ্ছে এসবের প্রতিকার ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নেওয়া যায়। যারা সাইটগুলো পরিচালনা করছেন তাঁদের সহযোগিতা নিলে অভিযোগের প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ইতিমধ্যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘দুদক ডকুমেন্টভিত্তিক কাজ করে। অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ে সত্য প্রমাণিত হলে এবং তা দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ হলে বেনামি অভিযোগও আমলে নিয়ে কাজ করবে দুদক।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত