স্ট্রিম সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকায় পাইকারি বাজারে এখনো ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এই দামে পৌঁছে। এই প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাজারে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে হুঁশিয়ারি দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এরপর গত কয়েকদিনে দাম না বাড়লেও, কমেনি।
ঢাকায় সচিবালয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে গত রোববার (৯ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাজারে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে আর অনুমতি দেওয়া হবে না।
বাণিজ্য উপদেষ্টার হুঁশিয়ারির আগে ও পরে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার ঘুরে তেমন তারতম্য দেখা যায়নি। চলতি সপ্তাহের রোববার ও আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজার ঘুরে এই অবস্থা দেখা গেছে।
গত অক্টোবরেও চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে ৭৫-৮০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হয়। নভেম্বরে সেটিই বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম ছুঁয়েছে ১১০ টাকাতেও। এর আগে গত জুনে ৪২ থেকে ৫০ টাকা ছিল পেঁয়াজের দাম। পরের মাস জুলাইয়ের শুরুতে দাম কিছুটা বাড়তে শুরু করলেও শেষ সপ্তাহে এসে দাম অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষ, আমদানিও বন্ধ। তাই পেঁয়াজের বাজারে এই অস্থিরতা। তবে ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বাড়ানোর জন্য এসব কৌশল মাত্র ব্যবসায়ীদের। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছেন তাঁরা।

খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজার— এই দুই পাইকারি বাজার থেকেই দেশে চাহিদার বড় অংশ পেঁয়াজ সরবরাহ হয়। তবে দুই জায়গাতেই এখন সরবরাহ কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজারে আগে দিনে ৬ ট্রাক পেঁয়াজ এলে এখন দুই ট্রাক আসে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১১০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এখন আমদানি পেঁয়াজ নেই, সবই দেশি। আর মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় দেশি পেঁয়াজের মজুদও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে।
মোহাম্মদীয়া স্টোরের মালিক মোহাম্মদ সোলাইমান স্ট্রিমকে বলেন, বড় আকারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, ছোট আকারের ৯৫ টাকায়। তবে অক্টোবরে একই পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০–৭৫ টাকার মধ্যে।
আমদানি না হলে দাম আরও বাড়বে জানিয়ে জাহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মো. জাহেদুল আলম জানান, সরবরাহ কম, তাই দাম বাড়ছে। আবার বিক্রিও কমে এসেছে। এখন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি অন্তত এক মাসের জন্য আমদানির অনুমতি দেয়, তাহলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে। আমদানি ভারত, মিশর, তুরস্কসহ যেকোনো দেশ থেকে হতে পারে। এর মধ্যে নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে চলে এলে দাম কমে যাবে।’
আমদানির প্রয়োজন তুলে ধরে খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিঞা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস স্ট্রিমকে বলেন, ‘বাজারে কোনো আমদানি পেঁয়াজ নেই, পুরোপুরি দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করছে সরবরাহ। মৌসুম শেষের দিকে। আমদানি না হলে দাম আরও বাড়তে পারে।’
তবে নাম না প্রকাশের শর্তে বাজারের দুজন ব্যবসায়ী স্ট্রিমকে বলেছেন, দাম একটু বাড়তি হলেও বাজারে যে পরিমাণ পেঁয়াজ রয়েছে, তা দিয়ে এই মাস চলবে। আগামী ডিসেম্বরের শুরুর দিকে আগাম বা ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে। আগে বাজারে তদারকি ছিল। ম্যাজিস্ট্রেট এসে দাম নির্ধারণ করে যেত। এখনও সেই ব্যবস্থা চালু হলে দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ক্রেতার চাপও কমে গেছে। মঙ্গলবার পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজারের কালু শাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শাহজাহান বলেন, ‘আগে দুপুরের মধ্যে ১০ বস্তা বিক্রি হয়ে যেত। কিন্তু এখন বিক্রিই নেই। সারা দিনে এক বা দুই বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে কিছু বাকিতে। এখন ক্রেতারা যতটুকু না কিনলেই নয়, ততটুকুই নিচ্ছেন। আগে যারা এক বস্তা কিনতেন, তারা নিচ্ছেন ১০ কেজি।’
একই বাজারে জাহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের ম্যানেজার স্ট্রিমকে বলেছেন, এখন বেচাকেনা কম। মানুষ প্রয়োজন মতো কিনছেন। আগামী কয়েকদিনে কি হয়, তার অপেক্ষায় আছেন তারা।
এদিকে বাজারে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ক্রেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাঁদের অভিযোগ, ৫–১০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি সহনীয় হলেও এক লাফে ২৫–৩০ টাকা বৃদ্ধি অস্বাভাবিক।
বাজার তদারকির তাগিদ জানিয়ে মো. ইসমাইল নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘পিঁয়াজের দাম এক লাফে ৩০ টাকা বৃদ্ধি মোটেও স্বাভাবিক না। যদি মজুদ আসলেই কমে যায়, তাহলে আমদানির অনুমতি দিতে পারে। আর মজুদ থাকলে কঠোর নজরদারি করা উচিত।’
এদিকে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধির কথা মানতে নারাজ ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘বাজারে মজুদ ও সরবরাহ ঠিকই আছে। ব্যবসায়ীরা মানুষের পকেট কাটার জন্য এই কৌশল নিয়েছে। নিজেরাই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। দেশে বর্তমানে দিনে পেঁয়াজের চাহিদা সাত লাখ টন। আর কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা। এক দিনেই তারা কত টাকা কামিয়ে নিচ্ছে, তা সাধারণ মানুষ হিসাব করেও কুলাতে পারবে না।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের উৎপাদন হয়েছিল ৬৭১ টন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১০২ হেক্টর জমিতে ৭৯২ টন উৎপাদনের। কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ চট্টগ্রামের বাজারের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করবে।
সাধারণত ডিসেম্বর মাসে আগাম বা ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে আসে। এরপর জানুয়ারিতে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মেহেরপুর ও জামালপুরের পেঁয়াজ বাজারে ঢুকে। তাই ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কিছুটা স্বাভাবিক হবে।
ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানির আগ্রহ সম্পর্কে ক্যাব সহসভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, আমদানি করার জন্য ব্যবসায়ীরা উদগ্রীব। কারণ আমদানি করতে পারলে তারা বিভিন্নভাবে লাভবান হবে। ভারতে পেঁয়াজের দাম কমেছে। আবার আমদানির ক্ষেত্রে ট্যাক্সও কমেছে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকায় পাইকারি বাজারে এখনো ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এই দামে পৌঁছে। এই প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাজারে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে হুঁশিয়ারি দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এরপর গত কয়েকদিনে দাম না বাড়লেও, কমেনি।
ঢাকায় সচিবালয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে গত রোববার (৯ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাজারে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে আর অনুমতি দেওয়া হবে না।
বাণিজ্য উপদেষ্টার হুঁশিয়ারির আগে ও পরে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার ঘুরে তেমন তারতম্য দেখা যায়নি। চলতি সপ্তাহের রোববার ও আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজার ঘুরে এই অবস্থা দেখা গেছে।
গত অক্টোবরেও চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে ৭৫-৮০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হয়। নভেম্বরে সেটিই বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম ছুঁয়েছে ১১০ টাকাতেও। এর আগে গত জুনে ৪২ থেকে ৫০ টাকা ছিল পেঁয়াজের দাম। পরের মাস জুলাইয়ের শুরুতে দাম কিছুটা বাড়তে শুরু করলেও শেষ সপ্তাহে এসে দাম অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষ, আমদানিও বন্ধ। তাই পেঁয়াজের বাজারে এই অস্থিরতা। তবে ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বাড়ানোর জন্য এসব কৌশল মাত্র ব্যবসায়ীদের। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছেন তাঁরা।

খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজার— এই দুই পাইকারি বাজার থেকেই দেশে চাহিদার বড় অংশ পেঁয়াজ সরবরাহ হয়। তবে দুই জায়গাতেই এখন সরবরাহ কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজারে আগে দিনে ৬ ট্রাক পেঁয়াজ এলে এখন দুই ট্রাক আসে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১১০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এখন আমদানি পেঁয়াজ নেই, সবই দেশি। আর মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় দেশি পেঁয়াজের মজুদও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে।
মোহাম্মদীয়া স্টোরের মালিক মোহাম্মদ সোলাইমান স্ট্রিমকে বলেন, বড় আকারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, ছোট আকারের ৯৫ টাকায়। তবে অক্টোবরে একই পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০–৭৫ টাকার মধ্যে।
আমদানি না হলে দাম আরও বাড়বে জানিয়ে জাহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মো. জাহেদুল আলম জানান, সরবরাহ কম, তাই দাম বাড়ছে। আবার বিক্রিও কমে এসেছে। এখন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি অন্তত এক মাসের জন্য আমদানির অনুমতি দেয়, তাহলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে। আমদানি ভারত, মিশর, তুরস্কসহ যেকোনো দেশ থেকে হতে পারে। এর মধ্যে নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে চলে এলে দাম কমে যাবে।’
আমদানির প্রয়োজন তুলে ধরে খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিঞা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস স্ট্রিমকে বলেন, ‘বাজারে কোনো আমদানি পেঁয়াজ নেই, পুরোপুরি দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করছে সরবরাহ। মৌসুম শেষের দিকে। আমদানি না হলে দাম আরও বাড়তে পারে।’
তবে নাম না প্রকাশের শর্তে বাজারের দুজন ব্যবসায়ী স্ট্রিমকে বলেছেন, দাম একটু বাড়তি হলেও বাজারে যে পরিমাণ পেঁয়াজ রয়েছে, তা দিয়ে এই মাস চলবে। আগামী ডিসেম্বরের শুরুর দিকে আগাম বা ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে। আগে বাজারে তদারকি ছিল। ম্যাজিস্ট্রেট এসে দাম নির্ধারণ করে যেত। এখনও সেই ব্যবস্থা চালু হলে দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ক্রেতার চাপও কমে গেছে। মঙ্গলবার পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজারের কালু শাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শাহজাহান বলেন, ‘আগে দুপুরের মধ্যে ১০ বস্তা বিক্রি হয়ে যেত। কিন্তু এখন বিক্রিই নেই। সারা দিনে এক বা দুই বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে কিছু বাকিতে। এখন ক্রেতারা যতটুকু না কিনলেই নয়, ততটুকুই নিচ্ছেন। আগে যারা এক বস্তা কিনতেন, তারা নিচ্ছেন ১০ কেজি।’
একই বাজারে জাহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের ম্যানেজার স্ট্রিমকে বলেছেন, এখন বেচাকেনা কম। মানুষ প্রয়োজন মতো কিনছেন। আগামী কয়েকদিনে কি হয়, তার অপেক্ষায় আছেন তারা।
এদিকে বাজারে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ক্রেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাঁদের অভিযোগ, ৫–১০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি সহনীয় হলেও এক লাফে ২৫–৩০ টাকা বৃদ্ধি অস্বাভাবিক।
বাজার তদারকির তাগিদ জানিয়ে মো. ইসমাইল নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘পিঁয়াজের দাম এক লাফে ৩০ টাকা বৃদ্ধি মোটেও স্বাভাবিক না। যদি মজুদ আসলেই কমে যায়, তাহলে আমদানির অনুমতি দিতে পারে। আর মজুদ থাকলে কঠোর নজরদারি করা উচিত।’
এদিকে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধির কথা মানতে নারাজ ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘বাজারে মজুদ ও সরবরাহ ঠিকই আছে। ব্যবসায়ীরা মানুষের পকেট কাটার জন্য এই কৌশল নিয়েছে। নিজেরাই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। দেশে বর্তমানে দিনে পেঁয়াজের চাহিদা সাত লাখ টন। আর কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা। এক দিনেই তারা কত টাকা কামিয়ে নিচ্ছে, তা সাধারণ মানুষ হিসাব করেও কুলাতে পারবে না।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের উৎপাদন হয়েছিল ৬৭১ টন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১০২ হেক্টর জমিতে ৭৯২ টন উৎপাদনের। কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ চট্টগ্রামের বাজারের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করবে।
সাধারণত ডিসেম্বর মাসে আগাম বা ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে আসে। এরপর জানুয়ারিতে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মেহেরপুর ও জামালপুরের পেঁয়াজ বাজারে ঢুকে। তাই ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কিছুটা স্বাভাবিক হবে।
ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানির আগ্রহ সম্পর্কে ক্যাব সহসভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, আমদানি করার জন্য ব্যবসায়ীরা উদগ্রীব। কারণ আমদানি করতে পারলে তারা বিভিন্নভাবে লাভবান হবে। ভারতে পেঁয়াজের দাম কমেছে। আবার আমদানির ক্ষেত্রে ট্যাক্সও কমেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান। এ দিন তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
৩ ঘণ্টা আগে
শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারত, ভুটান, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁরা নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৫০ নেতা শপথ নেন। এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পিএস-এপিএস নিয়োগ করা হয়।
৪ ঘণ্টা আগে