কলেজের নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধ চান কওমি শিক্ষার্থীরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়ির সরকারি কলেজে নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধ চায় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়ির সরকারি কলেজে নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধ চায় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তারা এই দাবি জানায়।

শুক্রবার রাতে (১১ সেপ্টেম্বর) দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হতে পারে। তবে সেই আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।

এতে বলা হয়, অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে এই ধরনের আয়োজনকে ঘিরে জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুজায়েল আহমেদ খান বলেন, আমাদের মূল বিষয়গুলো স্মারকলিপিতে তুলে ধরেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতো বলেছেনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা বন্ধের মতোই।

জেলায় গান-বাজানোকে কেন্দ্র করে গত মাসে সংঘর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন ফুজায়েল। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ৩০ ছাত্র আহত হয়েছিল কনসার্টের কারণেই। এক মাসও যায়নি, এর মধ্যেই আবার কনসার্ট করতে চাচ্ছে। তাহলে কি বিষয়টি কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো হচ্ছে না?

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ওবায়দুল হক বলেন, ‘ওনারা আমাদের কাছে আসেননি। যদি আমাদের জানান এবং পরামর্শ দেন- আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব। এটা ওরকম কনসার্ট না, আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব। আমাদের তিনটা কর্মসূচি আছে। নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ।’

গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে অভিযোগ দেন পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। প্রথমে তারা উচ্চস্বরে গান বাজানো বন্ধ করলেও, পরে আবার একই কাজ করে। এরপর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইনে ঢুকে পড়লে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়।

এ ছাড়া গত ৩০ মে কওমি শিক্ষার্থীদের বাধায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করা হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত