জার্মানির ভোটে বিজয়ী: নব্য নাৎসি থেকে পর্নস্টার
স্ট্রিম ডেস্ক

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর বিতর্কিত প্রার্থীদের নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে কট্টরপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড (এএফডি)। জার্মান গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজ্য সংসদে নির্বাচিত ৩৯ প্রতিনিধির কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় রয়েছেন সাবেক পূর্ব জার্মানির গোপন পুলিশ বাহিনী ‘স্টাসি’র সাবেক কর্মকর্তা এবং এক সাবেক পর্ন অভিনেতা। এ ছাড়া নব্য-নাৎসি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্তাধীন বেশ কয়েকজন ব্যক্তিও এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন ‘আর্টগেমাইনশাফট’-এর কার্যক্রম গোপনে চালানোর অভিযোগে দুজন এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।
সাবেক পর্ন অভিনেতা হিসেবে চিহ্নিত হওয়া এমপি একসময় হোটেল থেকে বিপুল পরিমাণ চাদর চুরির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ডাই জাইট পত্রিকার বরাতে জানা যায়, উচ্চমাধ্যমিকের জাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার কারণে ওই এমপিকে একবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
নির্বাচনে জয় পাওয়া ৭৮ বছর বয়সী সাবেক স্টাসি কর্মকর্তা পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট আমলে সরকারের হয়ে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন। পূর্ব জার্মানির স্বৈরশাসনের শিকার হওয়া মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ব্যক্তির জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
উগ্র ডানপন্থী নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ
জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এএফডির একাধিক মন্ত্রিত্বপ্রত্যাশী নেতার সঙ্গে চরমপন্থী দলগুলোর পুরোনো যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ নিষিদ্ধ সংগঠন ‘হোমল্যান্ড-লয়াল জার্মান ইয়ুথ’ (এইচডিজে)-এর সদস্য ছিলেন। দলের এক সংসদীয় উপদেষ্টার লেখা জীবনীগ্রন্থে নাৎসিবাদের প্রশংসা করা হয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কয়েকজনের সঙ্গে মস্কোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কেউ কেউ ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
অন্যদিকে, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে অবস্থানরত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এএফডির এই বিজয়ের জন্য পশ্চিমা নীতিকে দায়ী করেছেন। পুতিন বলেন, ‘ইউরোপে যা ঘটছে তা মূলত পশ্চিমাদের সিস্টেমের ব্যর্থতা। পশ্চিমা রাজনীতিকরা অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ভুল করেছেন।’
অস্ত্র উৎপাদন ও গণ-বিতাড়ন বিতর্ক
রাজ্যে ইসরায়েলি অস্ত্র কারখানা চালুর পরিকল্পনা নিয়ে সিগমুন্ড বলেন, ‘আমরা অস্ত্র উৎপাদনের বিরোধী নই। ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়ন ও ফেরত পাঠানোর জন্য আমাদের এমন সমরাস্ত্রের প্রয়োজন পড়বে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার জন্যও অস্ত্র দরকার।’
এই বক্তব্যকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। স্যাক্সনি-আনহাল্টে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের (এসপিডি) প্রধান কাৎজা পাহলে সিগমুন্ডের এই বক্তব্যকে সরাসরি রাজনৈতিক হুমকি বলে আখ্যা দিয়েছেন। কাৎজা পাহলে বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সহিংসতার ইঙ্গিত দিচ্ছে এএফডি। পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার কদর্য রূপ আবার ফিরে আসছে।’
সরকার গঠনের জটিলতা ও দেশব্যাপী বিক্ষোভ
স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের ৮৩ আসনের মধ্যে ৪৪ শতাংশ আসনে জয় পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়েছে এএফডি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো কোনো কট্টরপন্থী দল হিসেবে জার্মানিতে সরকার গঠনের সুযোগ দেখছে দলটি। সরকার গঠন করতে হলে আরও তিন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তবে মূলধারার অন্য সব দল এএফডির সঙ্গে জোট সরকার গড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এএফডির বিজয়ের প্রতিবাদে জার্মানির ২০-এর অধিক শহরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানী বার্লিন ও মেকলেনবার্গ-ভোরপমার্ন রাজ্যের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ওই দুই রাজ্যেও এএফডি বড় ব্যবধানে জয় পেতে পারে বলে আভাস দিচ্ছে জনমত জরিপ।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
.png)







