গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
স্ট্রিম প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গুমের বিচার হবে আশা করলেও যে প্রক্রিয়ায় সরকার এগুচ্ছে তাতে গুমের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন গুমের শিকার হওয়া ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সংগঠক মাইকেল চাকমা।
আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
সভায় স্বাগত বক্তব্য ও অনুষ্ঠানের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।
সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সকলেই গুম-খুনের শিকার। আইনের খসড়ায় অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বিগত সময়ের সরকারি আমলারা এখনও পরিবর্তন হননি। আগামীতে আবারও কোনো দলীয় সরকার প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে যদি কিছু করতে চান, তখন সেটি আটকাবে কে? আমরা আর সেদিনে যেতে চাই না। ন্যায়বিচার প্রয়োজন। বিচারের দায়িত্ব ভুল ব্যক্তির কাছে গেলে হবে না।
গুম কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, সিস্টেম পরিবর্তন না করে শুধু ব্যক্তি বিশেষকে টার্গেট করে এই গুমের সংস্কৃতি দূর করা সম্ভব নয়। বাহিনীগুলোর ক্যারেক্টার পরিবর্তন করতে হবে। বাহিনীগুলোকে পর্যাপ্ত ম্যানপাওয়ার দিতে হবে। কীভাবে নন-লিথাল ওয়েতে টর্চার না করে তথ্য বের করতে হয়, সেই ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত পলিটিক্যাল পার্টিগুলো এই বাহিনীগুলোকে নিজেদের পলিটিক্যাল পান্ডা হিসেবে ব্যবহার করবে, ততদিন পর্যন্ত গুম-খুন দূর হবে না। এজন্য ভবিষ্যৎ নেতাদের কাছ থেকে আমাদের এসব ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি আদায় করতে হবে এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাদেরকে দায়বদ্ধ করতে হবে।
জাতিসংঘের আবাসিক কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার এখনও ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি হস্তান্তর ও মৃত্যুসনদের মতো মৌলিক বিষয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকের নামে এখনো মিথ্যা মামলা চলছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি করা দরকার। প্রস্তাবিত নতুন আইনে গুমের সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে মিল নেই এবং শুধু বিভাগীয় শাস্তির কথা বলা হয়েছে, যা যথেষ্ট নয়। আইনটি যেন ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য নয় তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
মানবাধিকারকর্মী ও গুম কমিশনের সদস্য মো. নূর খান বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশে যেন গুম শব্দটি না থাকে, সে জন্য আমাদের যা যা করণীয় তা করতে হবে। আমরা সবাই মিলে ফ্যাসিজম তাড়িয়েছি, কিন্তু আমাদের নিজেদের মধ্যে যে ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিস্ট মনোভাব রয়েছে সেটিও দূর করতে হবে।’
আলোচনায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনেরা তাঁদের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। গুমের শিকার ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন মাইকেল চাকমা, কর্নেল হাসিনুর রহমান, জিয়াউর রহমান (গুমের শিকার হাফেজ জাকিরের ভাই), গুমের শিকার মো. আল আমিন ও তার স্ত্রী জেসমিন আরা বিউটি, আব্দুল বাসেত মারজান, শহিদুল ইসলাম (গুমের শিকার মহিদুল ইসলামের ভাই), আশিকুর রহমান (গুমের শিকার আতিকুর রহমানের ভাই), জামাল উদ্দিন আহমেদ (গুমের শিকার ইশরাক ফাহিমের পিতা) ও ভারত থেকে ফেরত আসা গুমের শিকার রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।
এ সময় গুমের শিকার মাইকেল চাকমা বলেন, ‘গুম কমিশন গঠনের এক বছর পার হলেও যারা গুম হয়েছে তাদের সন্ধান দিতে পারেনি এই সরকার। গুমের বিচার কোন আইনে, শাস্তি, সুরক্ষা কীভাবে হবে তা চূড়ান্ত করা হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম এই সরকারের আমলে গুমের বিচার হবে, তবে যে প্রক্রিয়ায় সরকার এগুচ্ছে, তাতে গুমের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।’
আলোচনা সভায় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, গুমের শিকার মানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে নানান সংস্থা। পুরনো স্ট্যাবলিশমেন্ট এখনো যার যার জায়গায় সক্রিয় রয়েছে, তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। এই পুরনো স্ট্যাবলিশমেন্ট বহাল রেখে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হলে তাদের পুনরায় নির্বাচন প্রভাবিত করার সুযোগ দেওয়া হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিষদের সদস্য এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আমরা এই গুম-খুনের সংস্কৃতিকে কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। একই সাথে এই ধরনের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে, তার জন্য যত ধরনের আইনি, রাজনৈতিক এবং নৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন তা আমাদের করতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের সকল রাজনৈতিক দলের টপ লিডারদের একসাথে কাজ করা উচিত।’
সভায় এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গুম প্রতিরোধে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো–
১. বাংলাদেশকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. যাঁরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তাদের সম্পর্কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের পরিবারকে তথ্য দিতে হবে। প্রতিটি গুমের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। চলমান মামলা ও অভিযোগসমূহের ক্ষেত্রে আলামত সংরক্ষণ, ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও স্থায়ী করতে হবে।
৪. গুমের শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য আইনি, আর্থিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। যারা দীর্ঘদিন গুমের শিকার তাদের পরিবারকে ভিকটিমের ব্যাংক একাউন্ট ও সম্পদ ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদীয় তদারকিব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং বাহিনীর সকল সদস্যকে নিয়মিত মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।
৬. দেশের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে তাঁদের নেতাকর্মীকে নিয়মিত মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং দলের নীতিমালা ও ইশতিহারে মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৭. জনসচেতনতার জন্য পাঠ্যপুস্তক ও গণমাধ্যমে মানবাধিকার, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম বিষয়ে গুরুত্বসহ উল্লেখ করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গুমের বিচার হবে আশা করলেও যে প্রক্রিয়ায় সরকার এগুচ্ছে তাতে গুমের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন গুমের শিকার হওয়া ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সংগঠক মাইকেল চাকমা।
আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
সভায় স্বাগত বক্তব্য ও অনুষ্ঠানের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।
সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সকলেই গুম-খুনের শিকার। আইনের খসড়ায় অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বিগত সময়ের সরকারি আমলারা এখনও পরিবর্তন হননি। আগামীতে আবারও কোনো দলীয় সরকার প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে যদি কিছু করতে চান, তখন সেটি আটকাবে কে? আমরা আর সেদিনে যেতে চাই না। ন্যায়বিচার প্রয়োজন। বিচারের দায়িত্ব ভুল ব্যক্তির কাছে গেলে হবে না।
গুম কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, সিস্টেম পরিবর্তন না করে শুধু ব্যক্তি বিশেষকে টার্গেট করে এই গুমের সংস্কৃতি দূর করা সম্ভব নয়। বাহিনীগুলোর ক্যারেক্টার পরিবর্তন করতে হবে। বাহিনীগুলোকে পর্যাপ্ত ম্যানপাওয়ার দিতে হবে। কীভাবে নন-লিথাল ওয়েতে টর্চার না করে তথ্য বের করতে হয়, সেই ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত পলিটিক্যাল পার্টিগুলো এই বাহিনীগুলোকে নিজেদের পলিটিক্যাল পান্ডা হিসেবে ব্যবহার করবে, ততদিন পর্যন্ত গুম-খুন দূর হবে না। এজন্য ভবিষ্যৎ নেতাদের কাছ থেকে আমাদের এসব ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি আদায় করতে হবে এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাদেরকে দায়বদ্ধ করতে হবে।
জাতিসংঘের আবাসিক কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার এখনও ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি হস্তান্তর ও মৃত্যুসনদের মতো মৌলিক বিষয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকের নামে এখনো মিথ্যা মামলা চলছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি করা দরকার। প্রস্তাবিত নতুন আইনে গুমের সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে মিল নেই এবং শুধু বিভাগীয় শাস্তির কথা বলা হয়েছে, যা যথেষ্ট নয়। আইনটি যেন ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য নয় তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
মানবাধিকারকর্মী ও গুম কমিশনের সদস্য মো. নূর খান বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশে যেন গুম শব্দটি না থাকে, সে জন্য আমাদের যা যা করণীয় তা করতে হবে। আমরা সবাই মিলে ফ্যাসিজম তাড়িয়েছি, কিন্তু আমাদের নিজেদের মধ্যে যে ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিস্ট মনোভাব রয়েছে সেটিও দূর করতে হবে।’
আলোচনায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনেরা তাঁদের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। গুমের শিকার ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন মাইকেল চাকমা, কর্নেল হাসিনুর রহমান, জিয়াউর রহমান (গুমের শিকার হাফেজ জাকিরের ভাই), গুমের শিকার মো. আল আমিন ও তার স্ত্রী জেসমিন আরা বিউটি, আব্দুল বাসেত মারজান, শহিদুল ইসলাম (গুমের শিকার মহিদুল ইসলামের ভাই), আশিকুর রহমান (গুমের শিকার আতিকুর রহমানের ভাই), জামাল উদ্দিন আহমেদ (গুমের শিকার ইশরাক ফাহিমের পিতা) ও ভারত থেকে ফেরত আসা গুমের শিকার রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।
এ সময় গুমের শিকার মাইকেল চাকমা বলেন, ‘গুম কমিশন গঠনের এক বছর পার হলেও যারা গুম হয়েছে তাদের সন্ধান দিতে পারেনি এই সরকার। গুমের বিচার কোন আইনে, শাস্তি, সুরক্ষা কীভাবে হবে তা চূড়ান্ত করা হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম এই সরকারের আমলে গুমের বিচার হবে, তবে যে প্রক্রিয়ায় সরকার এগুচ্ছে, তাতে গুমের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।’
আলোচনা সভায় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, গুমের শিকার মানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে নানান সংস্থা। পুরনো স্ট্যাবলিশমেন্ট এখনো যার যার জায়গায় সক্রিয় রয়েছে, তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। এই পুরনো স্ট্যাবলিশমেন্ট বহাল রেখে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হলে তাদের পুনরায় নির্বাচন প্রভাবিত করার সুযোগ দেওয়া হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিষদের সদস্য এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আমরা এই গুম-খুনের সংস্কৃতিকে কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। একই সাথে এই ধরনের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে, তার জন্য যত ধরনের আইনি, রাজনৈতিক এবং নৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন তা আমাদের করতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের সকল রাজনৈতিক দলের টপ লিডারদের একসাথে কাজ করা উচিত।’
সভায় এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গুম প্রতিরোধে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো–
১. বাংলাদেশকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. যাঁরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তাদের সম্পর্কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের পরিবারকে তথ্য দিতে হবে। প্রতিটি গুমের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। চলমান মামলা ও অভিযোগসমূহের ক্ষেত্রে আলামত সংরক্ষণ, ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও স্থায়ী করতে হবে।
৪. গুমের শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য আইনি, আর্থিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। যারা দীর্ঘদিন গুমের শিকার তাদের পরিবারকে ভিকটিমের ব্যাংক একাউন্ট ও সম্পদ ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদীয় তদারকিব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং বাহিনীর সকল সদস্যকে নিয়মিত মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।
৬. দেশের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে তাঁদের নেতাকর্মীকে নিয়মিত মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং দলের নীতিমালা ও ইশতিহারে মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৭. জনসচেতনতার জন্য পাঠ্যপুস্তক ও গণমাধ্যমে মানবাধিকার, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম বিষয়ে গুরুত্বসহ উল্লেখ করতে হবে।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ বা বড় পরিসরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের নজির দেখা গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের মতো বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে 'নজিরবিহীন'। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীতেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বা উপস্থিতির নজির নেই।
১৩ মিনিট আগেপ্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধিদল বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ও উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রধানের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগেডা. তাহের বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের জন্য কিছু বিষয় সুরাহা হওয়া খুবই জরুরি। এর মধ্যে জুলাই চার্টারকে (সনদ) আইনগত ভিত্তি দিতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে।’
৩ ঘণ্টা আগেরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তাসিন খান ছিলেন অগ্রণী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্লোগানে-প্রতিরোধে মাঠে ছিলেন তিনি। সেই অনুপ্রেরণায় এবার প্রার্থী হয়েছেন রাকসুর শীর্ষ পদে।
৪ ঘণ্টা আগে