বঙ্গীয়-বদ্বীপের সমাজ, রাজনীতি ও মতাদর্শ নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে আমরা ফিরে তাকিয়েছি বাংলাদেশের গত দুই হাজার বছরের পথপরিক্রমায়। জানার চেষ্টা করেছি, কীভাবে গড়ে উঠেছে এ জনপদের সমাজ, রাজনীতি ও মতাদর্শ। এই লেখায় এমন কয়েকজন মানুষকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যাঁরা এই বদ্বীপে না জন্মেও এখানকার রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব রেখেছেন।
স্ট্রিম ডেস্ক
বিভিন্ন সময়ে বাইরে থেকে এসে উপমহাদেশের ইতিহাস বদলে দিয়েছেন এমন জাতি ও ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। সেই অনুপাতে এই বঙ্গীয়-বদ্বীপ ছিল অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী ও দুর্গম। সমূদ্রপথে এই অঞ্চলের সঙ্গে বাইরের পৃথিবীর বাণিজ্য যোগাযোগ ছিল প্রাচীনকাল থেকেই। কিন্তু জলময় এই ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করেছিল খুব অল্প কিছু মানুষ। যেসব ব্যক্তি এই বদ্বীপে না জন্মেও এখানকার রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব রেখেছেন, এমন কয়েকজনকে নিয়ে এই লেখা।
বল্লাল সেন, কর্নাটক, দক্ষিণ ভারত (১০৮৩-১১৭৯ খ্রিস্টাব্দ)
সেন বংশের দ্বিতীয় শাসক, বঙ্গদ্বীপের ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছেন। দক্ষিণ ভারতের কর্নাটক থেকে আগত সেন বংশের এই রাজা পাল বংশের পর বাংলায় ক্ষমতা গ্রহণ করলে ধর্ম, সামাজিক কাঠামো ও সংস্কৃতিতে এক বড় পরিবর্তন ঘটে। পালরা বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। বল্লাল সেনের শাসনে ব্রাহ্মণ্যধর্মকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়। সমাজে শ্রেণিবিন্যাস ও কুলিন্য প্রথা প্রবর্তিত হয়। এর ফলে উচ্চবর্ণের সামাজিক নিয়মাবলি শক্তিশালী হয়। নিম্নবর্ণ ও শূদ্ররা সামাজিকভাবে আরও কোনঠাসা হয়ে পড়ে।
বল্লাল সেন নিজে পণ্ডিত ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ধর্মীয় ও সাহিত্যকর্মে ব্রাহ্মণ্যধর্ম ও সংস্কৃতিক মূল্যবোধকে উজ্জীবিত করেছিলেন। এর ফলে বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি ধাপে ধাপে পাল যুগের বৌদ্ধ বৈচিত্র্য থেকে সরিয়ে ব্রাহ্মণ্যধর্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।
সেন রাজত্বের কারণে বৌদ্ধ মঠ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৩শ শতকে মুসলিম শাসকদের বাংলায় আগমন ঘটে। তখন এখানে ছিল একটি বর্ণভিত্তিক সামাজিক কাঠামো ও দুর্বল বৌদ্ধ সম্প্রদায়। এতে ইসলাম ধর্মের প্রসার সহজ হয়।
বল্লাল সেন ও সেন বংশ বাংলার সমাজে ব্রাহ্মণ্যধর্ম, কঠোর সামাজিক শ্রেণি এবং সংস্কৃতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ প্রভাব বাংলা ইতিহাসে বৌদ্ধ ধর্মের পতন ও মুসলিম শাসনের উত্থানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট গড়ে দেয়।
বখতিয়ার খিলজি, আফগানিস্তান (১১৫০-১২০৬)
১৩শ শতকে এই বদ্বীপে হিন্দু ও বৌদ্ধদের দ্বন্দ যেন শেষ হওয়ার সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছিল না। এই সময় ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে দিল্লি থেকে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করে রাজধানী গৌড় দখল করেন। এর ফলে রাজনৈতিকভাবে বাংলা অঞ্চলে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা পায়স পায়।
খিলজিকে সাধারণভাবে বৌদ্ধ বিহারগুলো ধ্বংস করার জন্য দায়ী করা হয়। ১৩শ শতকের শেষ দিকে ও ১৪শ শতকের প্রথম দিকে আলাউদ্দিন খিলজি ও তার বংশধররা বাংলা প্রশাসনে অংশ নেন। বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকলেও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যায়। ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়, যা পরবর্তীতে বাংলা অঞ্চলের সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।
বখতিয়ার খিলজির আগমনের পর বাংলা অঞ্চলে ইসলামের প্রভাব বাড়ে। মসজিদ, দরগাহ এবং ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। জাত-পাতের নিগড়ে বাঁধা স্থানীয় মানুষ নতুন সামাজিক ধারণায় আকৃষ্ট হয়। বাংলা অঞ্চলে ধর্ম, রাজনীতি ও সংস্কৃতির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসে। এক অসময় পূর্ব বাংলা যে প্রায় সম্পূর্ণ মুসলমান সংস্কৃতির অংশ হয়, এর শুরু হয় বখতিয়ার খিলজির আগমনের পর থেকে।
হযরত শাহ জালাল, ইয়েমেন (১২৭১-১৩৪১)
হযরত শাহ জালাল ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে সিলেটে আসেন। আদীবাস ইয়েমেন। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অনেক সহচর ছিলেন।
শাহ জালাল মুসলিম ভাবনা ও দর্শন প্রচারে কাজ করেন। তিনি মাদ্রাসা স্থাপন করেন, যেখানে ইসলামী শাস্ত্র শেখানো হতো। এই শিক্ষার ফলে স্থানীয় মুসলিম সমাজে নতুন ধারার বুদ্ধিজীবী ও ধর্মগুরুদের একটি নতুন প্রজন্ম জন্মায়। তারা পরবর্তীকালে সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তৎকালীন গৌড় রাজ্যের রাজা গোবিন্দের প্রতিরোধ সত্ত্বেও শাহ জালাল এবং তার অনুসারীরা সিলেটে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। সামাজিকভাবে তাঁর কার্যক্রম মুসলিম ও অ-মুসলিমদের মধ্যে সহমর্মিতা ও ঐক্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। মৃত্যুর পর সিলেটে তার মাজার তৈরি হয়, যা আজও ঐ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান। তার কাজ এই অঞ্চলের সমাজ ও স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। দরগাহ কেন্দ্রিক সামাজিক অনুষ্ঠান, আধ্যাত্মিক বৈঠক এবং ধর্মীয় উৎসবগুলো স্থানীয় জনগণের মধ্যে সংহতি ও নৈতিক চেতনার প্রসার ঘটায়।
সিরাজ-উদ-দৌলা, আরব বংশদ্ভূত (১৭৩৩-১৭৫৭)
১৭৫৬ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে আলিবর্দি খানের নাতি সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার নবাব হন। তাঁর শাসনকাল ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু চিরস্থায়ী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা। নবাবের বিরুদ্ধে দরবারে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র—বিশেষ করে মীর জাফরের প্রতারণা—শেষ স্বাধীন নবাবকে পলাশির যুদ্ধে (২৩ জুন ১৭৫৭) পরাজিত করে। এর ফলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসন দখল করে এবং পরবর্তীতে ভারতবর্ষের অধিকাংশ অঞ্চলে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
সিরাজ-উদ-দৌলা, শাসক হিসেবে দক্ষ ছিলেন না। ব্রিটিশরা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন চুক্তির মাধ্যমে তার পতনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।
নবাবের পতনের ফলে বাংলার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ব্রিটিশ কোম্পানির হাতে চলে যায়। স্থানীয় জমিদার ও ব্যবসায়ীরা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করতে বাধ্য হন। অর্থনীতি, কর ব্যবস্থা, এবং কৃষি উৎপাদন—সবকিছু ব্রিটিশ বাণিজ্যনীতি ও স্বার্থ অনুযায়ী পরিচালিত হতে থাকে। এর প্রভাবে গ্রামীণ জনগণ ঋণগ্রস্ত হয় এবং সমাজে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হয়।
সিরাজ-উদ-দৌলার পতন শুধুই একজন নবাবের হার নয়। এর ফলে সার্বিকভাবে বাংলার, এবং পরে পুরো ভারতবর্ষের স্বাধীন রাজনৈতিক কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছিল যা পরবর্তী দুই শতকে উপনিবেশিক শোষণ এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্ম দেয়।
রবার্ট ক্লাইভ, ইংরেজ (১৭২৫-১৭৭৪)
রবার্ট ক্লাইভ, ১৮শ শতকের মাঝামাঝি বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর তিনি বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন আনেন। এই যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি মুঘল ও নওয়াবদের ক্ষমতাকে কার্যত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের আওতায় আনেন।
রাজনৈতিক প্রভাব হিসেবে, উপমহাদেশে ক্লাইভ ব্রিটিশ প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সূত্রপাত করেন। আজ যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো আমরা উপমহাদেশে দেখি তা ক্লাইভ প্রবর্তিত।
ক্লাইভের হাত ধরে সামন্ততান্ত্রিক ভারত নতুন পূঁজিতান্ত্রিক সমাজে পা রাখে। ক্লাইভ কর ব্যবস্থা পুনর্গঠন করে রাজকোষকে সমৃদ্ধ করেন। নীলচাষ, রেজার্ভ জমি, কর সংগ্রহ এবং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোম্পানির লাভ বাড়ানো হয়। স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর কর ও নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও বাণিজ্যের ধরণ পরিবর্তিত হয়। যদিও কোম্পানির লাভ বাড়ে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বৃদ্ধি পায়।
ব্রিটিশ শাসনের প্রসারে ইংরেজ শিক্ষা, আইন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পশ্চিমা চিন্তাভাবনা বাংলায় প্রবেশ করে। ক্লাইভের প্রশাসন শিক্ষা, ভাষা এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে। সেই ধাঁচের প্রশাসন, করনীতি এবং ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণের ধারণায় এখনো বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে।
উইলিয়াম কেরি, ইংরেজ (১৭৬১-১৮৩৪)
ছিলেন ইংরেজ মিশনারি। ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন। আধুনিক মিশনারি কার্যক্রম ও সংস্কৃতি, শিক্ষা ও ভাষাশাস্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছাপ ফেলেন তিনি। কেরির আগমন বাংলার ধর্ম, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
কেরি ইংরেজ আদলের নতুন শিক্ষার প্রসার ঘটান। তিনি কলকাতায় সার্ভেন্ট হাউস স্কুল ও পরে পাবলিক স্কুলগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের শিক্ষার সুযোগ বাড়ান। কেরির উদ্যোগে বাংলায় প্রথম আধুনিক প্রিন্টিং প্রেস স্থাপিত হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষায় কেরি সক্রিয় ভূমিকা নেন।
এই বদ্বীপে কেরির কার্যক্রমের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত প্রভাবও গভীর। কেরি বাংলার প্রথম অভিধান ও ব্যাকরণ রচনা করেন। এ কাজ বাংলার ভাষা ও সাহিত্যচর্চার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেরি ধর্মীয় সহনশীলতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্বের শিক্ষা প্রচার করেন।
রিচার্ড উইলিয়াম টিম, যুক্তরাষ্ট্র (১৯২৩-২০২০)
জীববিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও মানবাধিকারকর্মী। তিনি ঢাকায় নটর ডেম কলেজের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। ১৯৫২ সালে পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘের সদস্য হিসেবে ঢাকায় আসার পর তিনি এই ভূখন্ডে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিজ্ঞান শিক্ষা প্রসারিত করতে কাজ করেন। তিনি নটর ডেম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করেন এবং তিনটি কো-কারিকুলার ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন, যা দেশের প্রাচীনতম ক্লাব হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা, আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়তে ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি বাংলাদেশে এনজিও ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন। কারিতাস বাংলাদেশ, এডাব এবং বেশ কিছু মানবাধিকার সংস্থা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন তিনি।
ফাদার টিম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক পুনর্বাসন, শ্রমিক অধিকার ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে একটি ভিন্ন মডেল স্থাপনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
পিটার কাস্টার্স, নেদারল্যান্ডস (১৯৪৯-২০১৫)
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচারের খবর তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর, তিনি বাংলাদেশে এসে শিক্ষিত প্রগতিশীল তরুণ সমাজ, ছাত্র ও গ্রামীণ মানুষদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন।
মওলানা ভাসানীর অনুরাগী ছিলেন। জাতীয় সমাজতন্ত্রিক দলের প্রস্তাবিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মূল থিসিস তাঁরই মাথা থেকে বেরিয়েছে বলে অনেকের ধারণা। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৪ বছর কারাদন্ডাদেশ পাওয়া প্রথম এবং একমাত্র বিদেশী তিনি। যদিও সেই সাজা ভোগ করতে হয়নি তাঁকে।
পিটার মনে করতেন সমাজ পরিবর্তনের মূল ভিত্তি হলো দরিদ্র ও কৃষক জনগণ। তিনি গ্রামে গিয়ে শ্রমিক ও কৃষকদের সঙ্গে কাজ করে তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতেন। পাউলো ফ্রেইরের তত্ত্ব অনুযায়ী তিনি গ্রামের মানুষের জন্য পাঠ্যক্রম, স্কুল ও পাঠশালা স্থাপন করেছিলেন।
বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে তাকে ‘মানবাধিকার রক্ষক ও দেশের বন্ধু’ হিসেবে সম্মানিত করেছিল। পিটারের কাছে বাংলাদেশ ছিল সাম্য, ন্যায়, গণতন্ত্র এবং দরিদ্রদের মুক্তির লড়াইয়ের ময়দান।
বিভিন্ন সময়ে বাইরে থেকে এসে উপমহাদেশের ইতিহাস বদলে দিয়েছেন এমন জাতি ও ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। সেই অনুপাতে এই বঙ্গীয়-বদ্বীপ ছিল অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী ও দুর্গম। সমূদ্রপথে এই অঞ্চলের সঙ্গে বাইরের পৃথিবীর বাণিজ্য যোগাযোগ ছিল প্রাচীনকাল থেকেই। কিন্তু জলময় এই ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করেছিল খুব অল্প কিছু মানুষ। যেসব ব্যক্তি এই বদ্বীপে না জন্মেও এখানকার রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব রেখেছেন, এমন কয়েকজনকে নিয়ে এই লেখা।
বল্লাল সেন, কর্নাটক, দক্ষিণ ভারত (১০৮৩-১১৭৯ খ্রিস্টাব্দ)
সেন বংশের দ্বিতীয় শাসক, বঙ্গদ্বীপের ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছেন। দক্ষিণ ভারতের কর্নাটক থেকে আগত সেন বংশের এই রাজা পাল বংশের পর বাংলায় ক্ষমতা গ্রহণ করলে ধর্ম, সামাজিক কাঠামো ও সংস্কৃতিতে এক বড় পরিবর্তন ঘটে। পালরা বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। বল্লাল সেনের শাসনে ব্রাহ্মণ্যধর্মকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়। সমাজে শ্রেণিবিন্যাস ও কুলিন্য প্রথা প্রবর্তিত হয়। এর ফলে উচ্চবর্ণের সামাজিক নিয়মাবলি শক্তিশালী হয়। নিম্নবর্ণ ও শূদ্ররা সামাজিকভাবে আরও কোনঠাসা হয়ে পড়ে।
বল্লাল সেন নিজে পণ্ডিত ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ধর্মীয় ও সাহিত্যকর্মে ব্রাহ্মণ্যধর্ম ও সংস্কৃতিক মূল্যবোধকে উজ্জীবিত করেছিলেন। এর ফলে বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি ধাপে ধাপে পাল যুগের বৌদ্ধ বৈচিত্র্য থেকে সরিয়ে ব্রাহ্মণ্যধর্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।
সেন রাজত্বের কারণে বৌদ্ধ মঠ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৩শ শতকে মুসলিম শাসকদের বাংলায় আগমন ঘটে। তখন এখানে ছিল একটি বর্ণভিত্তিক সামাজিক কাঠামো ও দুর্বল বৌদ্ধ সম্প্রদায়। এতে ইসলাম ধর্মের প্রসার সহজ হয়।
বল্লাল সেন ও সেন বংশ বাংলার সমাজে ব্রাহ্মণ্যধর্ম, কঠোর সামাজিক শ্রেণি এবং সংস্কৃতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ প্রভাব বাংলা ইতিহাসে বৌদ্ধ ধর্মের পতন ও মুসলিম শাসনের উত্থানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট গড়ে দেয়।
বখতিয়ার খিলজি, আফগানিস্তান (১১৫০-১২০৬)
১৩শ শতকে এই বদ্বীপে হিন্দু ও বৌদ্ধদের দ্বন্দ যেন শেষ হওয়ার সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছিল না। এই সময় ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে দিল্লি থেকে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করে রাজধানী গৌড় দখল করেন। এর ফলে রাজনৈতিকভাবে বাংলা অঞ্চলে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা পায়স পায়।
খিলজিকে সাধারণভাবে বৌদ্ধ বিহারগুলো ধ্বংস করার জন্য দায়ী করা হয়। ১৩শ শতকের শেষ দিকে ও ১৪শ শতকের প্রথম দিকে আলাউদ্দিন খিলজি ও তার বংশধররা বাংলা প্রশাসনে অংশ নেন। বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকলেও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যায়। ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়, যা পরবর্তীতে বাংলা অঞ্চলের সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।
বখতিয়ার খিলজির আগমনের পর বাংলা অঞ্চলে ইসলামের প্রভাব বাড়ে। মসজিদ, দরগাহ এবং ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। জাত-পাতের নিগড়ে বাঁধা স্থানীয় মানুষ নতুন সামাজিক ধারণায় আকৃষ্ট হয়। বাংলা অঞ্চলে ধর্ম, রাজনীতি ও সংস্কৃতির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসে। এক অসময় পূর্ব বাংলা যে প্রায় সম্পূর্ণ মুসলমান সংস্কৃতির অংশ হয়, এর শুরু হয় বখতিয়ার খিলজির আগমনের পর থেকে।
হযরত শাহ জালাল, ইয়েমেন (১২৭১-১৩৪১)
হযরত শাহ জালাল ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে সিলেটে আসেন। আদীবাস ইয়েমেন। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অনেক সহচর ছিলেন।
শাহ জালাল মুসলিম ভাবনা ও দর্শন প্রচারে কাজ করেন। তিনি মাদ্রাসা স্থাপন করেন, যেখানে ইসলামী শাস্ত্র শেখানো হতো। এই শিক্ষার ফলে স্থানীয় মুসলিম সমাজে নতুন ধারার বুদ্ধিজীবী ও ধর্মগুরুদের একটি নতুন প্রজন্ম জন্মায়। তারা পরবর্তীকালে সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তৎকালীন গৌড় রাজ্যের রাজা গোবিন্দের প্রতিরোধ সত্ত্বেও শাহ জালাল এবং তার অনুসারীরা সিলেটে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। সামাজিকভাবে তাঁর কার্যক্রম মুসলিম ও অ-মুসলিমদের মধ্যে সহমর্মিতা ও ঐক্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। মৃত্যুর পর সিলেটে তার মাজার তৈরি হয়, যা আজও ঐ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান। তার কাজ এই অঞ্চলের সমাজ ও স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। দরগাহ কেন্দ্রিক সামাজিক অনুষ্ঠান, আধ্যাত্মিক বৈঠক এবং ধর্মীয় উৎসবগুলো স্থানীয় জনগণের মধ্যে সংহতি ও নৈতিক চেতনার প্রসার ঘটায়।
সিরাজ-উদ-দৌলা, আরব বংশদ্ভূত (১৭৩৩-১৭৫৭)
১৭৫৬ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে আলিবর্দি খানের নাতি সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার নবাব হন। তাঁর শাসনকাল ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু চিরস্থায়ী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা। নবাবের বিরুদ্ধে দরবারে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র—বিশেষ করে মীর জাফরের প্রতারণা—শেষ স্বাধীন নবাবকে পলাশির যুদ্ধে (২৩ জুন ১৭৫৭) পরাজিত করে। এর ফলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসন দখল করে এবং পরবর্তীতে ভারতবর্ষের অধিকাংশ অঞ্চলে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
সিরাজ-উদ-দৌলা, শাসক হিসেবে দক্ষ ছিলেন না। ব্রিটিশরা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন চুক্তির মাধ্যমে তার পতনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।
নবাবের পতনের ফলে বাংলার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ব্রিটিশ কোম্পানির হাতে চলে যায়। স্থানীয় জমিদার ও ব্যবসায়ীরা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করতে বাধ্য হন। অর্থনীতি, কর ব্যবস্থা, এবং কৃষি উৎপাদন—সবকিছু ব্রিটিশ বাণিজ্যনীতি ও স্বার্থ অনুযায়ী পরিচালিত হতে থাকে। এর প্রভাবে গ্রামীণ জনগণ ঋণগ্রস্ত হয় এবং সমাজে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হয়।
সিরাজ-উদ-দৌলার পতন শুধুই একজন নবাবের হার নয়। এর ফলে সার্বিকভাবে বাংলার, এবং পরে পুরো ভারতবর্ষের স্বাধীন রাজনৈতিক কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছিল যা পরবর্তী দুই শতকে উপনিবেশিক শোষণ এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্ম দেয়।
রবার্ট ক্লাইভ, ইংরেজ (১৭২৫-১৭৭৪)
রবার্ট ক্লাইভ, ১৮শ শতকের মাঝামাঝি বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর তিনি বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন আনেন। এই যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি মুঘল ও নওয়াবদের ক্ষমতাকে কার্যত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের আওতায় আনেন।
রাজনৈতিক প্রভাব হিসেবে, উপমহাদেশে ক্লাইভ ব্রিটিশ প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সূত্রপাত করেন। আজ যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো আমরা উপমহাদেশে দেখি তা ক্লাইভ প্রবর্তিত।
ক্লাইভের হাত ধরে সামন্ততান্ত্রিক ভারত নতুন পূঁজিতান্ত্রিক সমাজে পা রাখে। ক্লাইভ কর ব্যবস্থা পুনর্গঠন করে রাজকোষকে সমৃদ্ধ করেন। নীলচাষ, রেজার্ভ জমি, কর সংগ্রহ এবং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোম্পানির লাভ বাড়ানো হয়। স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর কর ও নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও বাণিজ্যের ধরণ পরিবর্তিত হয়। যদিও কোম্পানির লাভ বাড়ে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বৃদ্ধি পায়।
ব্রিটিশ শাসনের প্রসারে ইংরেজ শিক্ষা, আইন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পশ্চিমা চিন্তাভাবনা বাংলায় প্রবেশ করে। ক্লাইভের প্রশাসন শিক্ষা, ভাষা এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে। সেই ধাঁচের প্রশাসন, করনীতি এবং ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণের ধারণায় এখনো বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে।
উইলিয়াম কেরি, ইংরেজ (১৭৬১-১৮৩৪)
ছিলেন ইংরেজ মিশনারি। ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন। আধুনিক মিশনারি কার্যক্রম ও সংস্কৃতি, শিক্ষা ও ভাষাশাস্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছাপ ফেলেন তিনি। কেরির আগমন বাংলার ধর্ম, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
কেরি ইংরেজ আদলের নতুন শিক্ষার প্রসার ঘটান। তিনি কলকাতায় সার্ভেন্ট হাউস স্কুল ও পরে পাবলিক স্কুলগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের শিক্ষার সুযোগ বাড়ান। কেরির উদ্যোগে বাংলায় প্রথম আধুনিক প্রিন্টিং প্রেস স্থাপিত হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষায় কেরি সক্রিয় ভূমিকা নেন।
এই বদ্বীপে কেরির কার্যক্রমের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত প্রভাবও গভীর। কেরি বাংলার প্রথম অভিধান ও ব্যাকরণ রচনা করেন। এ কাজ বাংলার ভাষা ও সাহিত্যচর্চার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেরি ধর্মীয় সহনশীলতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্বের শিক্ষা প্রচার করেন।
রিচার্ড উইলিয়াম টিম, যুক্তরাষ্ট্র (১৯২৩-২০২০)
জীববিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও মানবাধিকারকর্মী। তিনি ঢাকায় নটর ডেম কলেজের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। ১৯৫২ সালে পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘের সদস্য হিসেবে ঢাকায় আসার পর তিনি এই ভূখন্ডে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিজ্ঞান শিক্ষা প্রসারিত করতে কাজ করেন। তিনি নটর ডেম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করেন এবং তিনটি কো-কারিকুলার ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন, যা দেশের প্রাচীনতম ক্লাব হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা, আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়তে ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি বাংলাদেশে এনজিও ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন। কারিতাস বাংলাদেশ, এডাব এবং বেশ কিছু মানবাধিকার সংস্থা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন তিনি।
ফাদার টিম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক পুনর্বাসন, শ্রমিক অধিকার ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে একটি ভিন্ন মডেল স্থাপনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
পিটার কাস্টার্স, নেদারল্যান্ডস (১৯৪৯-২০১৫)
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচারের খবর তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর, তিনি বাংলাদেশে এসে শিক্ষিত প্রগতিশীল তরুণ সমাজ, ছাত্র ও গ্রামীণ মানুষদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন।
মওলানা ভাসানীর অনুরাগী ছিলেন। জাতীয় সমাজতন্ত্রিক দলের প্রস্তাবিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মূল থিসিস তাঁরই মাথা থেকে বেরিয়েছে বলে অনেকের ধারণা। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৪ বছর কারাদন্ডাদেশ পাওয়া প্রথম এবং একমাত্র বিদেশী তিনি। যদিও সেই সাজা ভোগ করতে হয়নি তাঁকে।
পিটার মনে করতেন সমাজ পরিবর্তনের মূল ভিত্তি হলো দরিদ্র ও কৃষক জনগণ। তিনি গ্রামে গিয়ে শ্রমিক ও কৃষকদের সঙ্গে কাজ করে তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতেন। পাউলো ফ্রেইরের তত্ত্ব অনুযায়ী তিনি গ্রামের মানুষের জন্য পাঠ্যক্রম, স্কুল ও পাঠশালা স্থাপন করেছিলেন।
বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে তাকে ‘মানবাধিকার রক্ষক ও দেশের বন্ধু’ হিসেবে সম্মানিত করেছিল। পিটারের কাছে বাংলাদেশ ছিল সাম্য, ন্যায়, গণতন্ত্র এবং দরিদ্রদের মুক্তির লড়াইয়ের ময়দান।
তিন দাবিতে করা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন নিয়ে স্ট্রিমের পক্ষ থেকে বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক আইনুন নিশাতের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়। জবাবে আইনুন নিশাত তাঁর মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং দেশের স্বার্থে এগুলো বাস্তবায়ন করা দরকার। আমি এই প্রসঙ্গে
২ দিন আগেগবেষক দল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিজস্ব প্রযুক্তি এবং নিজস্ব অ্যালগী এর মাধ্যমে দুটি মডেল তৈরি করেছেন। এর একটি আউটডোর মডেল, অপরটি ইনডোর। গবেষকদের মতে, আউটডোর লিকুইড ট্রি মডেল রাস্তাঘাটের ডিভাইডার, ফুটপাত, ছাদ, পার্কিং এলাকা, শিল্পাঞ্চলে ব্যবহারযোগ্য। এগুলো যানবাহন ও শিল্প কারখানা থেকে নির্গত কার্বন-
২ দিন আগেমুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বেরোনো এসব বইয়ের অনেকগুলোয় এখন বাংলা একাডেমির স্টোরে পড়ে আছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে বইগুলো বাংলা একাডেমি এখন আর বিক্রি করছে না। বন্ধ রেখেছে বইয়ের প্রদর্শনীও।
৩ দিন আগেবর্তমানে দেশের ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত সময় পরেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। এ তালিকায় আছে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির নামও। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিলে তড়িঘড়ি করে স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন করে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ।
৫ দিন আগে