বক্তব্য প্রত্যাহারে দুদক কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ আসিফের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৪৪
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক (জনসংযোগ) আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনির মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠান তিনি।

নোটিশে আসিফ মাহমুদ তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে আখতারুল ইসলাম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এনসিপির মিডিয়া উইং জানিয়েছে, নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে দুদক কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে বক্তব্য প্রত্যাহার ও সংশোধনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেবেন আসিফ মাহমুদ।

আইনি নোটিশে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর আখতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। ওই বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

নোটিশে দাবি করা হয়, কোনো তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের আগেই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত– জনমনে এমন ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যটি ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে সংবাদ প্রচারের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কথাটি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, বাস্তবে সংখ্যাটি হবে ১১২। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া ১৫০ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন গত বছরের ১০ ডিসেম্বর। সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে গত ১১ মে। অর্থাৎ, আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের প্রায় তিন মাসের মাথায় ওই পদোন্নতি হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত