আজ আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী
আজ আবরার ফাহাদের মৃত্যুদিন। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর এদিনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে তৎকালীন শাসক দলের সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে তাঁকে। তাঁর ‘অপরাধ’ ছিল তিনি ভারতবিরোধী একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আবরারের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্ট্রিম-এর সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁর ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। কথপোকথনের ভিত্তিতে তৈরি এ লেখায় উঠে এসেছে ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, আবরারকে যে রাতে পেটানো হলো, সেই ভয়াল রাতের ঘটনা এবং মামলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর ছোট ভাইয়ের খোলামেলা কথাবার্তা।
স্ট্রিম ডেস্ক

ভাইকে হারানোর পর ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজও মনে হয়, যেন সেই ভয়াল সকালটা ঠিক গতকালই ছিল। সময় যতই এগিয়ে যাচ্ছে, ততই মনে হয়, তাঁর অনুপস্থিতি আরও গভীর হয়ে উঠছে। আমার জীবনের প্রতিটি আনন্দ, প্রতিটি প্রাপ্তি, এমনকি প্রতিটি দুঃখের মাঝখানে কোথাও না কোথাও তাঁর ছায়া লেগে আছে।
ভাইয়ের সঙ্গে আমার শেষ দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। আমি তখন কলেজে পড়ি, প্রায়ই বিকেলবেলা পলাশীতে ভাইয়ের বুয়েটের হলের রুমে চলে যেতাম। আমার তখন স্মার্টফোন ছিল না। তাই ভাইয়ের কাছেই দেশের খবরাখবর, নতুন বই, নানা রাজনৈতিক ঘটনা—সব জানতে পারতাম। তাঁর ছোট্ট হলরুমে গিয়ে মনে হতো, আমি যেন এক আশ্রয়ের ভেতর ঢুকে পড়েছি। আমরা দুজনেই সেই ছোট বিছানায় ভাগাভাগি করে ঘুমাতাম। মনে আছে, ভাই নিজের পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেগে থাকতেন, যাতে আমি আরামে ঘুমাতে পারি।
আমি জানতাম না, তাঁর সেই যত্ন, সেই নিঃশব্দ ভালোবাসাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর। সকালে ভাই ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আমি তখন আধঘুমে। যাওয়ার আগে আমার কানে এল তাঁর কণ্ঠ, ‘সাব্বির, (আমার ডাকনাম) আমি তো চলে গেলাম। তুই বেশি দিন বাসায় থাকিস না। তাড়াতাড়ি চলে আসিস।’ সেদিন আমি ঘুমজড়ানো কণ্ঠে শুধু বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ ভাইয়া, তাড়াতাড়ি চলে আসব।’
ওটাই ছিল আমাদের শেষ কথা।
কে জানত, ওই কথার পর আমি আর কোনোদিন ভাইয়ের কথা শুনতে পাব না, তাঁর মুখোমুখি হতে পারব না!
আমাদের বাবা-মা দুজনেই চাকরিজীবী ছিলেন। তাই দিনের বেশির ভাগ সময় দুই ভাই আমরা এক সঙ্গেই কাটাতাম। কুষ্টিয়ার নারকেলতলায় আমাদের ভাড়াবাড়ির সেই বারান্দা—ওটাই আমাদের ছোট্ট পৃথিবী। সেখানে আমরা খেলতাম ক্রিকেট, ক্যারম, আর পাশের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপে মেতে থাকতাম। সন্ধ্যা নামলে টিভির রিমোট নিয়ে শুরু হতো যুদ্ধ। ভাই দেখতে চাইতেন ‘পাওয়ার রেঞ্জার্স’ আর ‘টম অ্যান্ড জেরি’। আমি দেখতে চাইতাম ‘বেন টেন’ আর ‘পোকেমন’।
‘ড্রাগন বল জি’ ছিল আমাদের দুজনেরই প্রিয়। রিমোট নিয়ে এমন লড়াই হতো যে একাধিক রিমোট ভেঙে ফেলেছিলাম আমরা। আজ ভাবলে হাসি পায়, কিন্তু সেই হাসির আড়ালে ফিরে আসে এক অদ্ভুত হাহাকার—মানুষটা তো আর নেই!
ঢাকায় যাওয়ার আগে পর্যন্ত ভাই আমার কাছে ছিল একেবারে সাধারণ এক বড় ভাইয়ের মতো—ঝগড়া, খুনসুটি, ভালোবাসা—সব মিলিয়ে রোজকার সম্পর্ক। কিন্তু বুয়েটে ভর্তির পর থেকে তিনি যেন শুধু ভাই নন, আমার অভিভাবক হয়ে উঠলেন। আমার পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ, এমনকি আমার আত্মবিশ্বাস—সবকিছু নিয়েই তাঁর চিন্তা ছিল। আমি যখন নটরডেম কলেজে ভর্তি হতে পারলাম না, ভেবেছিলাম তিনি রাগ করবেন, বকবেন। কিন্তু তিনি বরং আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘মন খারাপ করিস না, তুই পারবি।’ সেই মুহূর্তে তাঁর সেই এককথায় নতুনভাবে সাহস পেয়েছিলাম আমি।
৭ অক্টোবর ভোরে বাবা আমাকে ঘুম থেকে তুললেন। বললেন, কেউ ফোন করে জানিয়েছে, আবরার খুব অসুস্থ। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো গ্যাসজনিত সমস্যা। কারণ, আমার ভাইয়ের গ্যাসের সমস্যা ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর যখন ভাইয়ের এক বন্ধুর ফেসবুক প্রোফাইল খুলে পোস্টটা দেখলাম— ‘আমাদের ত্রিপল-ই ১৭ ব্যাচের আবরার ফাহাদ আর নেই। আমরা তার লাশ সিঁড়ির নিচে পড়ে থাকতে দেখেছি’, সেই মুহূর্তে আমার শরীর নিথর হয়ে গেল। পৃথিবীটা যেন থেমে গেল এক জায়গায়। এরপরের ঘটনাগুলো শুধু ঝাপসা—চিৎকার, কান্না, কোলাহল আর এক অনন্ত অন্ধকার।
ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমাদের কুষ্টিয়ার বাড়ি যেন এক নীরব এক দুর্গে পরিণত হলো। কুষ্টিয়ায় আমাদের বাড়ি ছিল আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফের বাড়ির পাশেই। তাই চারপাশে সবসময়ই নজরদারি থাকত। তবে ভাই মারা যাওয়ার পর তা আরও বেড়ে গেল। এ সময় অনেকেই আসতে চেয়েছিলেন আমাদের বাসায়, কিন্তু রাজনৈতিক চাপের কারণে কেউ সাহস পাননি। এমনকি ভাইয়ের জানাজার সময়ও প্রশাসনের তরফ থেকে দ্রুত তাঁকে দাফনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের বলা হয়েছিল, যেন কোনো প্রতিবাদ, কোনো মানববন্ধন না হয়। ভাইয়ের মৃত্যু যেন এক নিঃশব্দ শোক হয়ে গিলে ফেলেছিল পুরো কুষ্টিয়াকে।
আজ ছয় বছর কেটে গেছে। নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের রায় হয়েছে। তবে আমার ভাইকে হত্যা করার মামলাটি এখনো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ঝুলে আছে। আমার কাছে এটা অবিশ্বাস্য লাগে, যে ঘটনায় সব প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ, স্বীকারোক্তি—সবই স্পষ্ট, সেই মামলার নিষ্পত্তিতে এত সময় লাগবে কেন? আমাদের পরিবারের এখন একটাই চাওয়া—বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যেন আপিলের রায় এবং পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত সম্পন্ন হয়। কারণ, ন্যায়বিচার পেতে দেরি হলে প্রকারান্তরে তা অন্যায়কেই শক্তিশালী করে।
আমি মনে করি, আবরার হত্যাকাণ্ড শুধু এক পরিবারের নয়, পুরো জাতির বিবেকের ওপর আঘাত ছিল। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার একমাত্র উপায় হলো, খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যখন খুনিরা দেখবে, ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও কেউ পার পায়নি, তখন ভবিষ্যতের খুনিরা ভয় পাবে। এই ঘটনার পর অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং ও নির্যাতনের সংস্কৃতি কমে এসেছে—এটাও আবরারের আত্মত্যাগেরই ফল।
আমরা এই মামলা নিয়ে আর দীর্ঘসূত্রিতা চাই না। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের একটাই আবেদন—বিচার যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়। যেন আর কোনো পরিবারকে এমন নির্মম যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। আমি দেশের সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞ—তাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থনের কারণেই এই আন্দোলন টিকে আছে, ন্যায়ের পথ এখনো আলোকিত।
আমার ভাই এখন আর নেই। কিন্তু তাঁর বিশ্বাস, ন্যায়বোধ ও তাঁর সাহস বেঁচে আছে আমাদের ভেতরে।

ভাইকে হারানোর পর ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজও মনে হয়, যেন সেই ভয়াল সকালটা ঠিক গতকালই ছিল। সময় যতই এগিয়ে যাচ্ছে, ততই মনে হয়, তাঁর অনুপস্থিতি আরও গভীর হয়ে উঠছে। আমার জীবনের প্রতিটি আনন্দ, প্রতিটি প্রাপ্তি, এমনকি প্রতিটি দুঃখের মাঝখানে কোথাও না কোথাও তাঁর ছায়া লেগে আছে।
ভাইয়ের সঙ্গে আমার শেষ দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। আমি তখন কলেজে পড়ি, প্রায়ই বিকেলবেলা পলাশীতে ভাইয়ের বুয়েটের হলের রুমে চলে যেতাম। আমার তখন স্মার্টফোন ছিল না। তাই ভাইয়ের কাছেই দেশের খবরাখবর, নতুন বই, নানা রাজনৈতিক ঘটনা—সব জানতে পারতাম। তাঁর ছোট্ট হলরুমে গিয়ে মনে হতো, আমি যেন এক আশ্রয়ের ভেতর ঢুকে পড়েছি। আমরা দুজনেই সেই ছোট বিছানায় ভাগাভাগি করে ঘুমাতাম। মনে আছে, ভাই নিজের পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেগে থাকতেন, যাতে আমি আরামে ঘুমাতে পারি।
আমি জানতাম না, তাঁর সেই যত্ন, সেই নিঃশব্দ ভালোবাসাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর। সকালে ভাই ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আমি তখন আধঘুমে। যাওয়ার আগে আমার কানে এল তাঁর কণ্ঠ, ‘সাব্বির, (আমার ডাকনাম) আমি তো চলে গেলাম। তুই বেশি দিন বাসায় থাকিস না। তাড়াতাড়ি চলে আসিস।’ সেদিন আমি ঘুমজড়ানো কণ্ঠে শুধু বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ ভাইয়া, তাড়াতাড়ি চলে আসব।’
ওটাই ছিল আমাদের শেষ কথা।
কে জানত, ওই কথার পর আমি আর কোনোদিন ভাইয়ের কথা শুনতে পাব না, তাঁর মুখোমুখি হতে পারব না!
আমাদের বাবা-মা দুজনেই চাকরিজীবী ছিলেন। তাই দিনের বেশির ভাগ সময় দুই ভাই আমরা এক সঙ্গেই কাটাতাম। কুষ্টিয়ার নারকেলতলায় আমাদের ভাড়াবাড়ির সেই বারান্দা—ওটাই আমাদের ছোট্ট পৃথিবী। সেখানে আমরা খেলতাম ক্রিকেট, ক্যারম, আর পাশের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপে মেতে থাকতাম। সন্ধ্যা নামলে টিভির রিমোট নিয়ে শুরু হতো যুদ্ধ। ভাই দেখতে চাইতেন ‘পাওয়ার রেঞ্জার্স’ আর ‘টম অ্যান্ড জেরি’। আমি দেখতে চাইতাম ‘বেন টেন’ আর ‘পোকেমন’।
‘ড্রাগন বল জি’ ছিল আমাদের দুজনেরই প্রিয়। রিমোট নিয়ে এমন লড়াই হতো যে একাধিক রিমোট ভেঙে ফেলেছিলাম আমরা। আজ ভাবলে হাসি পায়, কিন্তু সেই হাসির আড়ালে ফিরে আসে এক অদ্ভুত হাহাকার—মানুষটা তো আর নেই!
ঢাকায় যাওয়ার আগে পর্যন্ত ভাই আমার কাছে ছিল একেবারে সাধারণ এক বড় ভাইয়ের মতো—ঝগড়া, খুনসুটি, ভালোবাসা—সব মিলিয়ে রোজকার সম্পর্ক। কিন্তু বুয়েটে ভর্তির পর থেকে তিনি যেন শুধু ভাই নন, আমার অভিভাবক হয়ে উঠলেন। আমার পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ, এমনকি আমার আত্মবিশ্বাস—সবকিছু নিয়েই তাঁর চিন্তা ছিল। আমি যখন নটরডেম কলেজে ভর্তি হতে পারলাম না, ভেবেছিলাম তিনি রাগ করবেন, বকবেন। কিন্তু তিনি বরং আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘মন খারাপ করিস না, তুই পারবি।’ সেই মুহূর্তে তাঁর সেই এককথায় নতুনভাবে সাহস পেয়েছিলাম আমি।
৭ অক্টোবর ভোরে বাবা আমাকে ঘুম থেকে তুললেন। বললেন, কেউ ফোন করে জানিয়েছে, আবরার খুব অসুস্থ। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো গ্যাসজনিত সমস্যা। কারণ, আমার ভাইয়ের গ্যাসের সমস্যা ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর যখন ভাইয়ের এক বন্ধুর ফেসবুক প্রোফাইল খুলে পোস্টটা দেখলাম— ‘আমাদের ত্রিপল-ই ১৭ ব্যাচের আবরার ফাহাদ আর নেই। আমরা তার লাশ সিঁড়ির নিচে পড়ে থাকতে দেখেছি’, সেই মুহূর্তে আমার শরীর নিথর হয়ে গেল। পৃথিবীটা যেন থেমে গেল এক জায়গায়। এরপরের ঘটনাগুলো শুধু ঝাপসা—চিৎকার, কান্না, কোলাহল আর এক অনন্ত অন্ধকার।
ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমাদের কুষ্টিয়ার বাড়ি যেন এক নীরব এক দুর্গে পরিণত হলো। কুষ্টিয়ায় আমাদের বাড়ি ছিল আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফের বাড়ির পাশেই। তাই চারপাশে সবসময়ই নজরদারি থাকত। তবে ভাই মারা যাওয়ার পর তা আরও বেড়ে গেল। এ সময় অনেকেই আসতে চেয়েছিলেন আমাদের বাসায়, কিন্তু রাজনৈতিক চাপের কারণে কেউ সাহস পাননি। এমনকি ভাইয়ের জানাজার সময়ও প্রশাসনের তরফ থেকে দ্রুত তাঁকে দাফনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের বলা হয়েছিল, যেন কোনো প্রতিবাদ, কোনো মানববন্ধন না হয়। ভাইয়ের মৃত্যু যেন এক নিঃশব্দ শোক হয়ে গিলে ফেলেছিল পুরো কুষ্টিয়াকে।
আজ ছয় বছর কেটে গেছে। নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের রায় হয়েছে। তবে আমার ভাইকে হত্যা করার মামলাটি এখনো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ঝুলে আছে। আমার কাছে এটা অবিশ্বাস্য লাগে, যে ঘটনায় সব প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ, স্বীকারোক্তি—সবই স্পষ্ট, সেই মামলার নিষ্পত্তিতে এত সময় লাগবে কেন? আমাদের পরিবারের এখন একটাই চাওয়া—বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যেন আপিলের রায় এবং পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত সম্পন্ন হয়। কারণ, ন্যায়বিচার পেতে দেরি হলে প্রকারান্তরে তা অন্যায়কেই শক্তিশালী করে।
আমি মনে করি, আবরার হত্যাকাণ্ড শুধু এক পরিবারের নয়, পুরো জাতির বিবেকের ওপর আঘাত ছিল। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার একমাত্র উপায় হলো, খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যখন খুনিরা দেখবে, ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও কেউ পার পায়নি, তখন ভবিষ্যতের খুনিরা ভয় পাবে। এই ঘটনার পর অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং ও নির্যাতনের সংস্কৃতি কমে এসেছে—এটাও আবরারের আত্মত্যাগেরই ফল।
আমরা এই মামলা নিয়ে আর দীর্ঘসূত্রিতা চাই না। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের একটাই আবেদন—বিচার যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়। যেন আর কোনো পরিবারকে এমন নির্মম যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। আমি দেশের সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞ—তাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থনের কারণেই এই আন্দোলন টিকে আছে, ন্যায়ের পথ এখনো আলোকিত।
আমার ভাই এখন আর নেই। কিন্তু তাঁর বিশ্বাস, ন্যায়বোধ ও তাঁর সাহস বেঁচে আছে আমাদের ভেতরে।

দীর্ঘ অচলায়তন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নানা সংকট, মতবিরোধ ও আস্থাহীনতার আবহ পেরিয়ে এই নির্বাচন ছিল রাষ্ট্র ও রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত।
১৫ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করতে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে এই জয় যেমন বিপুল প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে, তেমনই তৈরি করেছে এক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
২ দিন আগে
এখন মানুষের প্রত্যাশা বা এক্সপেকটেশন অনেক বেশি। এই সরকারের কাছে মানুষ অনেক কিছু আশা করবে। আর এখানেই বিপদ। সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা এই প্রত্যাশাগুলো শুনতে পাচ্ছে এবং তাদের কাজে তার প্রতিফলন আছে। অতিরিক্ত প্রত্যাশার বিপদ হলো, আপনি যখন ডেলিভার করতে পারবেন না, তখন জনপ্রিয়তা খুব দ্রুত পড়ে যায়।
২ দিন আগে
ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন তৈরি করা গেলে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে। যদি সরকার শুরুতেই এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে।
৩ দিন আগে