স্ট্রিম ডেস্ক

টাঙ্গাইল শাড়ির নাম এলেই এক ধরনের মমতাভরা গর্ব জেগে ওঠে। আজ যে শাড়িকে আমরা টাঙ্গাইল শাড়ি নামে চিনি, একসময় তার নাম ছিল ‘বেগম বাহার’। টাঙ্গাইল অঞ্চলের তাঁতিরা বহু প্রজন্ম ধরে যে বয়ন-কৌশল বাঁচিয়ে রেখেছেন, তার শিকড় প্রাচীন বাংলারই ইতিহাসে। ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা থেকে শুরু করে হিউনসাঙ—তাঁরা সকলেই এ অঞ্চলের বস্ত্রবয়ন শিল্পের সুনাম লিখে গেছেন। হাজার বছরের ঐতিহ্য যেন আজও শোনা যায় প্রতিটি সুতায়, প্রতিটি নকশায়।
উনিশ শতকের শেষ ভাগে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প নতুন করে বিকশিত হয়। এখানে যে তাঁতিরা এসে বসতি গড়েন, তাঁরা মূলত ঢাকার ধামরাই ও চৌহাট্টার বিখ্যাত মসলিন তাঁতিদের উত্তরসূরি। জমিদারদের আমন্ত্রণে তাঁরা টাঙ্গাইলের ২২টি গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। প্রথমদিকে তাঁরা সাধারণ ধুতির কাপড় বুনতেন। পরে স্বদেশি আন্দোলনের ঢেউ এলে দেশীয় সুতি কাপড় ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ে, এবং পূর্ববঙ্গে তাঁতশিল্পেরও ব্যাপক প্রসার ঘটে। ১৯২৩–২৪ সালের দিকে টাঙ্গাইলের শাড়িতে মোটিফ ও নকশা যোগ হয়, আর ১৯৩১–৩২ সালে জ্যাকোয়ার্ড তাঁত যুক্ত হয়, যা শাড়ির নকশায় নতুন মাত্রা এনে দেয়।
টাঙ্গাইল শাড়ির বুননকৌশল একে অন্য সব শাড়ি থেকে আলাদা করেছে। অত্যন্ত সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে তৈরি হয় বলে শাড়িটি হয় হালকা ও আরামদায়ক। বিশেষ ধরনের সুতা ও সুতলি ব্যবহারের পাশাপাশি ‘পাড়’ তৈরি করা হয় জরি বা রেশমি সুতো দিয়ে, যা শাড়িটিকে দেয় মসৃণ উজ্জ্বলতা। জানা যায়, একটি ভালো টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি করতে কয়েকদিন লাগে।
এই বয়নশিল্পের পেছনে আছে তাঁতির গল্প। বিশেষ করে পাট্রাইল ইউনিয়নের বসাক সম্প্রদায় এখনও মূল ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সপ্তাহে দুই বার অস্থায়ী বাজারে তাঁতিরা তৈরি শাড়ি বিক্রি করেন, সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা সংগ্রহ করেন। টাঙ্গাইলের অধিকাংশ তাঁতই ঘরোয়া ইউনিট, যেখানে মূলত পাঁচটি তাঁত মিলে একেকটি ছোট ইউনিট গড়ে ওঠে। ১৯৯২ সালে এখানে লাখেরও বেশি তাঁত আর দেড় লাখ তাঁতির কর্মযজ্ঞ ছিল।
একটি গবেষণায় জানা যায়, এই শিল্পে যুক্ত আছেন তাঁতি, মালিক ও ব্যবসায়ী মিলিয়ে সারাদেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ। টাঙ্গাইল শাড়ির দাম ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত, অর্থাৎ সাধারণ ব্যবহার থেকে শুরু করে বিশেষ আয়োজন, সবই আছে টাঙ্গাইলের সম্ভারে।
টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি হয় কেবল টাঙ্গাইল জেলার নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের হাতে। টাঙ্গাইল শাড়ি তুলনামূলক ঘন, রেশম ও সুতির মিশ্রণে টেকসই এবং নকশায় আলাদা পরিচয় বহন করে।
ব্যবহারের ক্ষেত্রেও টাঙ্গাইল শাড়ি বহুমুখী। বাড়িতে পরা থেকে অফিস, পার্টি কিংবা বিয়ের আসর—সব জায়গাতেই মানিয়ে যায়। বাংলাদেশের গরমের আবহাওয়ায় এই শাড়ী বিশেষ আরামদায়ক। আর নকশা ও পাড়ের নরম সৌন্দর্য দ্রুতই মন জয় করে নেয়।
আজ টাঙ্গাইল শাড়ির জনপ্রিয়তা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিণ এশিয়ায়। বিশেষ করে কলকাতায় টাঙ্গাইল শাড়ির আলাদা বাজার রয়েছে। হালকা, আরামদায়ক ও সুলভ মূল্যের জন্য এটি অত্যন্ত প্রিয় সাধারণ নারীদের কাছে। আবার দেশে-বিদেশে প্রদর্শনী, মেলা ও গবেষণা—সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল শাড়িকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। একসময় মসলিন ও জামদানির গৌরব যে বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছিল, আজ তার সারিতে এসে দাঁড়িয়েছে টাঙ্গাইল শাড়ি।
তথ্যসূত্র: টেক্সটাইল ফোকাস

টাঙ্গাইল শাড়ির নাম এলেই এক ধরনের মমতাভরা গর্ব জেগে ওঠে। আজ যে শাড়িকে আমরা টাঙ্গাইল শাড়ি নামে চিনি, একসময় তার নাম ছিল ‘বেগম বাহার’। টাঙ্গাইল অঞ্চলের তাঁতিরা বহু প্রজন্ম ধরে যে বয়ন-কৌশল বাঁচিয়ে রেখেছেন, তার শিকড় প্রাচীন বাংলারই ইতিহাসে। ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা থেকে শুরু করে হিউনসাঙ—তাঁরা সকলেই এ অঞ্চলের বস্ত্রবয়ন শিল্পের সুনাম লিখে গেছেন। হাজার বছরের ঐতিহ্য যেন আজও শোনা যায় প্রতিটি সুতায়, প্রতিটি নকশায়।
উনিশ শতকের শেষ ভাগে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প নতুন করে বিকশিত হয়। এখানে যে তাঁতিরা এসে বসতি গড়েন, তাঁরা মূলত ঢাকার ধামরাই ও চৌহাট্টার বিখ্যাত মসলিন তাঁতিদের উত্তরসূরি। জমিদারদের আমন্ত্রণে তাঁরা টাঙ্গাইলের ২২টি গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। প্রথমদিকে তাঁরা সাধারণ ধুতির কাপড় বুনতেন। পরে স্বদেশি আন্দোলনের ঢেউ এলে দেশীয় সুতি কাপড় ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ে, এবং পূর্ববঙ্গে তাঁতশিল্পেরও ব্যাপক প্রসার ঘটে। ১৯২৩–২৪ সালের দিকে টাঙ্গাইলের শাড়িতে মোটিফ ও নকশা যোগ হয়, আর ১৯৩১–৩২ সালে জ্যাকোয়ার্ড তাঁত যুক্ত হয়, যা শাড়ির নকশায় নতুন মাত্রা এনে দেয়।
টাঙ্গাইল শাড়ির বুননকৌশল একে অন্য সব শাড়ি থেকে আলাদা করেছে। অত্যন্ত সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে তৈরি হয় বলে শাড়িটি হয় হালকা ও আরামদায়ক। বিশেষ ধরনের সুতা ও সুতলি ব্যবহারের পাশাপাশি ‘পাড়’ তৈরি করা হয় জরি বা রেশমি সুতো দিয়ে, যা শাড়িটিকে দেয় মসৃণ উজ্জ্বলতা। জানা যায়, একটি ভালো টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি করতে কয়েকদিন লাগে।
এই বয়নশিল্পের পেছনে আছে তাঁতির গল্প। বিশেষ করে পাট্রাইল ইউনিয়নের বসাক সম্প্রদায় এখনও মূল ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সপ্তাহে দুই বার অস্থায়ী বাজারে তাঁতিরা তৈরি শাড়ি বিক্রি করেন, সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা সংগ্রহ করেন। টাঙ্গাইলের অধিকাংশ তাঁতই ঘরোয়া ইউনিট, যেখানে মূলত পাঁচটি তাঁত মিলে একেকটি ছোট ইউনিট গড়ে ওঠে। ১৯৯২ সালে এখানে লাখেরও বেশি তাঁত আর দেড় লাখ তাঁতির কর্মযজ্ঞ ছিল।
একটি গবেষণায় জানা যায়, এই শিল্পে যুক্ত আছেন তাঁতি, মালিক ও ব্যবসায়ী মিলিয়ে সারাদেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ। টাঙ্গাইল শাড়ির দাম ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত, অর্থাৎ সাধারণ ব্যবহার থেকে শুরু করে বিশেষ আয়োজন, সবই আছে টাঙ্গাইলের সম্ভারে।
টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি হয় কেবল টাঙ্গাইল জেলার নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের হাতে। টাঙ্গাইল শাড়ি তুলনামূলক ঘন, রেশম ও সুতির মিশ্রণে টেকসই এবং নকশায় আলাদা পরিচয় বহন করে।
ব্যবহারের ক্ষেত্রেও টাঙ্গাইল শাড়ি বহুমুখী। বাড়িতে পরা থেকে অফিস, পার্টি কিংবা বিয়ের আসর—সব জায়গাতেই মানিয়ে যায়। বাংলাদেশের গরমের আবহাওয়ায় এই শাড়ী বিশেষ আরামদায়ক। আর নকশা ও পাড়ের নরম সৌন্দর্য দ্রুতই মন জয় করে নেয়।
আজ টাঙ্গাইল শাড়ির জনপ্রিয়তা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিণ এশিয়ায়। বিশেষ করে কলকাতায় টাঙ্গাইল শাড়ির আলাদা বাজার রয়েছে। হালকা, আরামদায়ক ও সুলভ মূল্যের জন্য এটি অত্যন্ত প্রিয় সাধারণ নারীদের কাছে। আবার দেশে-বিদেশে প্রদর্শনী, মেলা ও গবেষণা—সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল শাড়িকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। একসময় মসলিন ও জামদানির গৌরব যে বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছিল, আজ তার সারিতে এসে দাঁড়িয়েছে টাঙ্গাইল শাড়ি।
তথ্যসূত্র: টেক্সটাইল ফোকাস
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
৯ ঘণ্টা আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
১০ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
১১ ঘণ্টা আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
১ দিন আগে