দীর্ঘ অচলায়তন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নানা সংকট, মতবিরোধ ও আস্থাহীনতার আবহ পেরিয়ে এই নির্বাচন ছিল রাষ্ট্র ও রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত। বিশেষ করে, দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনামলে যখন দেশের প্রায় প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ার উপক্রম, তখন থেকেই জনমনে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই প্রয়োজনীয়তা থেকেই বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো এবারের নির্বাচন।
ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ আবারও তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। নিরঙ্কুশ জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয় পেয়েছে দলটি। এটাকে কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা বললে ভুল হবে। এটি একটি শক্তিশালী গণরায়, যা দীর্ঘদিন জনমনে জমে থাকা ইতিবাচক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো এই জনম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের পথে এগিয়ে যাওয়া। প্রত্যাশা এখন একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের, যেখানে দেশ ও জনগণই থাকবে প্রথম প্রায়োরিটি।
এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের পথই সুগম করেনি, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করেছে। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ যখন কোনো দলকে নিরঙ্কুশভাবে ক্ষমতায় আনে, তখন তারা মূলত সেই দলের প্রতি তাদের গভীর আস্থা প্রকাশ করে। এই আস্থা কেবল নির্বাচন পূর্ববর্তী ইশতেহার কিংবা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। এটি একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নের ওপর নির্ভর করে। সেই স্বপ্নের মধ্যে রয়েছে শান্তি, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, জনকল্যাণ, স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন। ফলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণের এই আস্থার যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং সেটিকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়া। অবশ্য তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি সেই লক্ষ্য নিয়েই এগুচ্ছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে অবিচল থেকে রাষ্ট্র সংস্কারে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।
জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক, এমনকি জরুরিও বটে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্বল জবাবদিহিতা, আইনের অসম প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ ইত্যাদি রাষ্ট্রের কার্যকারিতা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। তাই জনাব তারেক রহমানের হাত ধরে এখন নতুন করে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর ঘটানো সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নতুন সরকারকে নিজের মতো করে রাষ্ট্র সংস্কারের বিশাল এক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে সংসদে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণ যেমন সহজ হবে, তেমনি প্রয়োজনে সাংবিধানিক সংস্কারের পথও উন্মুক্ত হবে। কিন্তু একই সঙ্গে এই শক্তিই সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। কারণ, শক্তিশালী ম্যান্ডেটের অর্থ হলো শক্তিশালী জবাবদিহি।
জনগণ যেমন সমর্থন দিয়েছে, তেমনি তারা নজর রাখবে কীভাবে সেই ক্ষমতা ব্যবহৃত হচ্ছে। নয়তো এর প্রভাব পড়বে পরবর্তী নির্বাচনে। তাই সরকারকে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে তারেক রহমান আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এবং তাঁর হাতেই ইতিবাচক সংস্কার হবে বলে দেশের জনগণ বিশ্বাস রাখে।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। প্রশাসনিক কাঠামো, জবাবদিহি ও আইনের সমতার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় রাষ্ট্র পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।
বিএনপি’র রাজনৈতিক ইতিহাস এ দেশের জনমানুষের কাছে অতি সুপরিচিত। দলটি দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়তার একটি শক্ত ভিত্তিও গড়ে তুলেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর সৎ, জাতীয়তাবাদী ও বাংলাদেশপন্থী শাসনের জন্য আজও ইতিহাসে অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। একইভাবে, আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ও আপসহীন মনোভাবের কারণে আজও মানুষের গভীর শ্রদ্ধার আসনে রয়েছেন। তাঁরা দুজনেই রাজনৈতিক পথচলার সূচনালগ্নে নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং সেখান থেকেই নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন দেখা যায় তারেক রহমানের সাম্প্রতিক নেতৃত্বে। তিনি এবারই প্রথম দলের নির্বাচনী লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই দলটি সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে প্রায় দুই দশক পর পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
নির্বাচনের মাত্র মাসখানেক আগে মায়ের মৃত্যুজনিত শোকাবহ পরিস্থিতির মধ্যেই তারেক রহমান দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে দীর্ঘ সতের বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁর এই ফিরে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত দেশের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে সভা-সমাবেশ করে বেড়িয়েছেন। পেয়েছেন জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন। তাঁর নেতৃত্বের প্রতি জনগণ আস্থা রেখেছেন। ভোটের মাধ্যমে জনগণ সেই আস্থারই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
দেশের একটি বড় অংশের মানুষ বিশ্বাস করে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, যেখানে থাকবে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার, জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ এবং উন্নয়নের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা। এই প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্ব।
দেড় দশকের আওয়ামীলীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আইনের শাসন বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। স্বভাবতই দেশে আইনের দুর্বল শাসনের অর্থই হলো দেশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়া। তাই বর্তমানে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এই সংস্কারের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। আইন যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য না হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং আইনের অপব্যবহার বন্ধ করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সংস্কারও অপরিহার্য।
একটি দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত করতে হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি ও সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে নাগরিকদের আস্থা বাড়বে। রাষ্ট্র তখন মানুষের জন্য একটি সহায়ক কাঠামো হিসেবে দাঁড়াবে, বাধা হিসেবে নয়।
জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক, এমনকি জরুরিও বটে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্বল জবাবদিহিতা, আইনের অসম প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ ইত্যাদি রাষ্ট্রের কার্যকারিতা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। তাই জনাব তারেক রহমানের হাত ধরে এখন নতুন করে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা যে কোনো সরকারের জন্য একটি মৌলিক দায়িত্ব। নাগরিকরা যদি নিরাপদ বোধ না করে, তাহলে উন্নয়ন বা গণতন্ত্র কোনো কিছুই টেকসই হয় না। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়া, অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করা জরুরি। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। পাশাপাশি অর্থনীতি ও উন্নয়ন জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য কমানো ইত্যাদি বিষয় সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আশার ব্যাপার হলো, বিএনপি রাষ্ট্রসংস্কারের এসব রূপরেখা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নির্বাচনী ইশতেহারের তারেক রহমান বিষয়গুলো বারবার উপস্থাপন করেছে। সময়ের সাথে সাথে সকল লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে বলে আমরা আশা রাখি।
পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে বাংলাদেশকে বহুবছর ধরে ভুগতে হচ্ছে। বিশেষ করে, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতির কারণে বাংলাদেশ বারবার পিছিয়ে পড়েছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যেখানে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পররাষ্ট্রনীতিতেও নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এগোতে হবে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে ছিলেন বদ্ধপরিকর। এর মাধ্যমে অল্প সময়ে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে সম্মানজনক অবস্থায় পৌঁছায়। সে ধরনের নীতিকে আবারও সামনে নিয়ে আসা যেতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা, বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তারেক রহমান অবশ্য নির্বাচন পরবর্তী প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, সার্ক পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন তাঁর সরকার। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান বাস্তবতায় আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের দ্বারা এটি সম্ভব। তাঁর হাত ধরে একটি কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি গৃহীত হলে তা দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকেও বহুগুণে প্রসারিত করবে তা নিশ্চিত।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনীতির ক্ষেত্রে নতুন সংস্কৃতির প্রয়োজন। আমরা দেখেছি, আওয়ামী দুঃশাসনের আমলে বিরোধী মতের উপর খড়গহস্ত হয়েছে ক্ষমতাসীন সরকার। বিএনপি ও তার মিত্রদের উপর বারবার নেমে এসেছে শোষণের কালো থাবা। তবে তারেক রহমান এক্ষেত্রে আশার বাতিঘর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সৌজন্য ও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আগে তিনি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি – এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এমন ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। নির্বাচনোত্তর যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে ইতিবাচক ও সহনশীল রাজনীতির সূচনা করতে চায়, তারই অংশ হিসেবে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বাসায় গিয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে, যা অতীতে বিরল। আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রের শক্তি তার বহুমতের প্রতি শ্রদ্ধায়।
বিরোধী মতকে গুরুত্ব দেওয়া একটি পরিণত রাজনৈতিক আচরণের পরিচায়ক। সংসদকে কার্যকর করা, বিরোধী দলের মতামতকে মূল্য দেওয়া এবং রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার করার মাধ্যমে আগামীতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল করতে তারেক রহমান ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করবেন বলে বিশ্বাস রাখি।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। প্রশাসনিক কাঠামো, জবাবদিহি ও আইনের সমতার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় রাষ্ট্র পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান একটি সুসংগঠিত ও ইতিবাচক রাষ্ট্র সংস্কারের ভাবনা সামনে নিয়ে এগোচ্ছেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে—গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি ক্ষমতায় নয়, বরং জনগণের আস্থায় নিহিত। সেই আস্থা অর্জন ও ধরে রাখার মধ্য দিয়েই টেকসই শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর সরকার গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন। নিঃসন্দেহে, এই আস্থা ধরে রাখা এবং তা আরও সুদৃঢ় করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জনগণের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি এবং সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হলে প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ। আমরা আশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার এই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। তাঁর হাত ধরে আগামীর বাংলাদেশ হবে আরও স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও সম্ভাবনাময়।
ড. মো. শামছুল আলম: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন