ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাখো দর্শকের নৌকাবাইচ উপভোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই বছর তিতাস নদীতে নৌকাবাইচ। স্ট্রিম ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই বছর তিতাস নদীতে নৌকাবাইচ। স্ট্রিম ছবি

দীর্ঘদিন পর ইতালি থেকে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কালাইশ্রীপাড়া বাসিন্দা রনি আলম। জরুরি কাজে রাজধানীতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে আজ শহরের পাশে তিতাস নদীতে নৌকাবাইচের জন্য বহু কষ্টে বাড়ি ফিরেছেন। তিতাস পাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘বাইচ দেখতে আজ সকালে অনেক কষ্ট করে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসেছি। নদীর দুই পাড়ে মানুষের উচ্ছ্বাসই প্রমাণ করে এটি আমাদের প্রাণের উৎসব। সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে এই আনন্দ উৎসবে এসে।’

রনি আলমের মতো লাখো মানুষ শরতের বিকেলে তিতাসের বুকে নৌকাবাইচ দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছে। দুই বছর পর আবারও সবল হাতে ছন্দবদ্ধ বৈঠার ওঠা-নামার শব্দে মুখর হয়েছে নদীটি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই বর্ণাঢ্য বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা এলাকা পর্যন্ত নদীর দুই কিলোমিটার অংশে নৌকাবাইচ হয়। এতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৯টি নৌকা অংশ নেয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে জেলার সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের শাপলা বয়েজ ক্লাবের নৌকা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে দুই বছর নৌকাবাইচ উপভোগ করল লাখো দর্শক। স্ট্রিম ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে দুই বছর নৌকাবাইচ উপভোগ করল লাখো দর্শক। স্ট্রিম ছবি

এর আগে ২০২৩ সালে তিতাস নদীতে সর্বশেষ নৌকাবাইচ হয়। দুই বছর পর আবার ভরা নদীতে বাইচ ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে জেলা জুড়ে। আশপাশের জেলা থেকে আসা বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীও আজ এই উৎসব উপভোগ করেছেন বলে জানান আয়োজকেরা।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নৌকাবাইচের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও দুপুরের আগে থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় জম থাকে। প্রতিযোগিতা শুরুর পর লোকারণ্য হয়ে উঠে নদীর দুই তীর। বাহারি রঙের ‘সুন্দইরা নাওয়ের মাঝির’ বৈঠা গর্জে উঠার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন তিতাস পাড়ের মানুষ। নদীর দুই তীর, সেতু, ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকায় দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করে তারা।

দর্শনার্থী আল আমিন শাহীন বলেন, ‘নৌকা বাইচকে ঘিরে তিতাসপাড়ের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আজ উৎসবমুখর। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই, প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হোক।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে নৌকাবাইচে বিজয়ী নৌকার মাঝিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা । স্ট্রিম ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে নৌকাবাইচে বিজয়ী নৌকার মাঝিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা । স্ট্রিম ছবি

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব। আগামী বছর থেকে আরও জমজমাটভাবে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব। তিনি বলেন, ‘এই নৌকাবাইচের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটা সাংস্কৃতিক রাজধানী। নৌকাবাইচ এর ঐতিহ্যেরই অংশ। মানুষ চায় প্রতিবছর নৌকা বাইচ হোক। আমরা আশা করি আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবে এটি আয়োজন করতে পারব।’

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ অন্যরা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত