চাকরি খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত? কাজে লাগতে পারে ৫-৫-৫ নিয়ম

প্রতিদিন সিভি পাঠিয়েও উত্তর মিলছে না? তাহলে শুধু আবেদনের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না। কোথায় আবেদন করবেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন এবং নিজের কোন দক্ষতা বাড়াবেন, এসবও গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি খোঁজার এই ক্লান্তিকর প্রক্রিয়াকে একটু গোছাতে কাজে লাগতে পারে ৫-৫-৫ নিয়ম।

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৫২
চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কত জায়গায় সিভি পাঠালেন, সেটিই সব নয়। স্ট্রিম গ্রাফিক
চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কত জায়গায় সিভি পাঠালেন, সেটিই সব নয়। স্ট্রিম গ্রাফিক

প্রতিদিন চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখছেন, সিভি পাঠাচ্ছেন। এরপর বারবার ই-মেইল দেখছেন, ওপাশ থেকে কোনো উত্তর এল কিনা! কিন্তু দেখা গেল, কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো সুখবর পাচ্ছেন না। তখন মনে হয়, আরও বেশি আবেদন করা দরকার। শুরু হয় একের পর এক সিভি পাঠানো। চাকরি খোঁজার এই দীর্ঘ ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতা কমবেশি আমাদের সবারই হয়তো হয়েছে।

কিন্তু চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কত জায়গায় সিভি পাঠালেন, সেটিই সব নয়। কোথায় আবেদন করছেন, নিজের যোগ্যতা কীভাবে তুলে ধরছেন, পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কি না, নতুন কিছু শিখছেন কি না—এসবও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সপ্তাহে ৫-৫-৫ নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে।

‘৫-৫-৫ নিয়ম’ শুনে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। এটি কঠোর কোনো নিয়ম নয়, বরং চাকরি খোঁজার একটি কৌশল। এর মূল কথা হলো, চাকরি খোঁজার সময় শুধু আবেদন না করে তিনটি বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া। অর্থাৎ ৫-৫-৫ নিয়ম মানে সপ্তাহে ৫টি ভালো চাকরিতে আবেদন, ৫ জন পেশাজীবী বা পরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ৫ ঘণ্টা নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সময় দেওয়া।

সপ্তাহে ৫টি ‘ভালো’ চাকরি বেছে নিয়ে আবেদন করা যেতে পারে

চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখলেই আবেদন করার অভ্যাস অনেকের আছে। চাকরির ওয়েবসাইট খুলে সামনে যে বিজ্ঞপ্তিই আসে, সেগুলোতে দ্রুত সিভি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে আবেদনের সংখ্যা বাড়লেও নিজের যোগ্যতার সঙ্গে চাকরিটি কতটা মেলে, সেটা অনেক সময় মিলিয়ে দেখা হয় না।

৫-৫-৫ নিয়ম বলছে, সব জায়গায় সিভি না পাঠিয়ে সপ্তাহে ৫টি চাকরি বেছে নিয়ে ভালোভাবে আবেদন করা যেতে পারে।

ধরুন, আপনি বিপণন বিভাগে কাজ করতে চান। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তিতে তিন বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, কিন্তু আপনার অভিজ্ঞতা এক বছর। আবার অন্য প্রতিষ্ঠানে এক থেকে দুই বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে এবং কাজের দায়িত্বও আপনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় চাকরিতে আবেদন করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।

মনে রাখবেন, চাকরি পাওয়া শুধু সব জায়গায় সিভি পাঠানোর ওপরই নির্ভর করে না। নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মেলে এমন জায়গায় আবেদন করা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং নিজেকে আরও প্রস্তুত করা; এই কাজগুলো পাশাপাশি চালিয়ে গেলে চাকরির সুযোগ খোঁজার পথ আরও গোছানো হতে পারে।

আবেদন করার আগে তাই বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে পড়ুন। কী ধরনের দক্ষতা চাওয়া হয়েছে, কাজটা কী, কত বছরের অভিজ্ঞতা দরকার বা কী কী সুবিধা দেওয়া হবে; এসব ভালভাবে পড়ে দেখুন। সিভিতেও সেই চাকরির সঙ্গে সম্পর্কিত অভিজ্ঞতাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন।

আপনার লক্ষ্য হবে ৫টি চাকরিতে আবেদন করা, কিন্তু যেকোনো ৫টি চাকরিতে নয়। নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মেলে এমন চাকরি বেছে নেওয়া।

৫ জনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করুন

চাকরি খোঁজার সময় পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও কাজে আসতে পারে। এর মানে এই নয় যে, পরিচিত কাউকে ধরে চাকরি চাইতে হবে। বরং আপনি যে চাকরি খুঁজছেন, সেটা জানানো এবং আপনি যে সেক্টরে আসতে চান সেই জায়গার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা।

ধরুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বড় ভাই বা বোন কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সেখানে আপনার সাবেক সহকর্মীও কাজ করছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। জানতে পারেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগ হবে কি না, কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা আছে বা আপনার সিভিতে কী কী উন্নতি দরকার।

প্রতি সপ্তাহে এমন ৫ জন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার লক্ষ্য নেওয়া যেতে পারে।

এতে নিজের ক্ষেত্র সম্পর্কেও ধারণা বাড়বে। কারও সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হয়তো জানতে পারবেন, যে পদে আবেদন করছেন সেখানে কোন দক্ষতার চাহিদা বেশি। কেউ হয়তো সিভি দেখে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিতে পারেন। তবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শুধু প্রয়োজনের সময় কাউকে মেসেজ না দিয়ে স্বাভাবিক সম্পর্ক ধরে রাখাও জরুরি। অনেক দিন পর হঠাৎ ‘ভাই, একটা চাকরি লাগবে’ বলার চেয়ে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে কথাবার্তা সহজ হয়।

সপ্তাহের ৫ ঘণ্টা দিন নিজের দক্ষতার জন্য

অনেকেই ভাবেন চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত মূল কাজ হলো আবেদন করা। কিন্তু এই সময়টা নিজের দুর্বলতা ঠিক করার জন্যও কাজে লাগানো যায়। সপ্তাহে ৫ ঘণ্টা রাখা যেতে পারে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য।

ধরুন, কয়েকটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে বুঝলেন, প্রায় সব জায়গাতেই ইংরেজিতে ভালো যোগাযোগের দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে। তাহলে সপ্তাহের কিছু সময় ইংরেজি লেখা ও বলার চর্চায় মন দিতে পারেন। আবার কারও হয়তো এক্সেল ভালো জানা দরকার। কেউ প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারেন না। কারও নিজের পেশার নতুন কোনো সফটওয়্যার শেখা দরকার। যে জায়গায় ঘাটতি আছে, সেটাই আগে ধরুন।

প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে পাঁচ দিন সময় দিলেই সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টা হয়ে যায়। একসঙ্গে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা না করে প্রয়োজনীয় কোনো দক্ষতা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ কাজ করা বেশি ভালো।

ধরুন, তিন মাস ধরে সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টা দক্ষতা বাড়ানোর পেছনে দিলেন। এখানে মোট সময় দাঁড়াবে প্রায় ৬০ ঘণ্টা। তিন মাসে ৬০ ঘণ্টা যদি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর কাজে দেওয়া যায়, তবে দক্ষতার দৌড়ে অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন আপনি।

শুধু সিভি পাঠিয়ে অপেক্ষা নয়

চাকরি খোঁজার সময় সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলোর একটি হলো অপেক্ষা করা। কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার পর কয়েক দিন পরপর ই-মেইল দেখা, ফোনের অপেক্ষা করা এভাবেই সময় কেটে যায়। এরকম অপেক্ষায় থাকলে হতাশাও বাড়তে পারে।

৫-৫-৫ নিয়মের সুবিধা হলো, সপ্তাহের কাজ আগে থেকেই ভাগ করে নেওয়া যায়। পাঁচটি চাকরিতে আবেদন করবেন, পাঁচজনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং পাঁচ ঘণ্টা নিজের দক্ষতার পেছনে দেবেন।

তবে সবার পরিস্থিতি এক নয়। কারও হাতে বেশি সময় আছে, কারও কম। তাই ৫-৫-৫ সংখ্যাগুলো নিজের সুবিধা অনুযায়ী বদলে নেওয়া যায়। এই নিয়ম কারও জন্য ৩-৩-৩, আবার কারও জন্য ৫-৩-২ নিয়মও হতে পারে।

ধরুন, সোমবার দুটি চাকরিতে আবেদন করলেন। মঙ্গলবার পরিচিত কোনো পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বললেন এবং এক ঘণ্টা এক্সেল শিখলেন। বুধবার আরও একটি চাকরিতে আবেদন করলেন। এভাবে পুরো সপ্তাহে ছোট ছোট কাজ এগিয়ে নিতে পারেন।

তবে সবার পরিস্থিতি এক নয়। কারও হাতে বেশি সময় আছে, কারও কম। কেউ দ্রুত চাকরি খুঁজছেন, আবার কেউ বর্তমান চাকরির পাশাপাশি নতুন সুযোগ দেখছেন। তাই ৫-৫-৫ সংখ্যাগুলো নিজের সুবিধা অনুযায়ী বদলে নেওয়া যায়। এই নিয়ম কারও জন্য ৩-৩-৩, আবার কারও জন্য ৫-৩-২ নিয়মও হতে পারে।

মূল বিষয় হলো, চাকরি খোঁজার কাজটা এলোমেলোভাবে না করে পরিকল্পনা করে এগোনো।

মনে রাখবেন, চাকরি পাওয়া শুধু সব জায়গায় সিভি পাঠানোর ওপরই নির্ভর করে না। নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মেলে এমন জায়গায় আবেদন করা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং নিজেকে আরও প্রস্তুত করা; এই কাজগুলো পাশাপাশি চালিয়ে গেলে চাকরির সুযোগ খোঁজার পথ আরও গোছানো হতে পারে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত