হয় আমি থাকব, নাহয় অনিয়ম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৪৪
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সংগৃহীত ছবি
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সংগৃহীত ছবি

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের টেস্ট বাইরে থেকে করানোর প্রমাণ পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় অনিয়ম থাকবে—দুইটার একটা হবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ।

এ সময় হাসপাতালের ভেতরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ডেঙ্গু রোগীদের রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করানো হচ্ছে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বাইরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ১৫-২০ রোগীর কাগজ দেখেছি এবং সব ফটোকপি নিয়েছি। এসব ইনভেস্টিগেশন বাইরে থেকে করানো হয়েছে। বাইরের সততা, জমজম বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ফেরিওয়ালার মতো এসে হাসপাতাল থেকে ব্লাড সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। রোগীরা টাকা দিয়ে বাইরে থেকে টেস্ট করায়।’

সরকারি হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পরও রোগীদের এভাবে বাইরে যেতে বাধ্য করার পেছনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরাসরি দায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে যেসব অনিয়মের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম এসেছে, সেই তালিকাও তাঁর হাতে রয়েছে।

জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে যা দেখে গেলাম, তার প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা দেখতে আগামী ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।’

পরিদর্শনে ডেঙ্গু রোগীদের ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত মশারি ব্যবহার না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মশারি টাঙানো নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে মশারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক। রোগীরা অনেক সময় মশারি নিতে চায় না, কিন্তু তাঁদের বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় মশারি ছাড়া থাকলে আশপাশের ভালো রোগীরাও আক্রান্ত হয়ে পড়বে।’

তিনি জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত তিন মাস ধরে চিকিৎসার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, সিভিল সার্জন এবং চিকিৎসকদের সমন্বয়ে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চলছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত