জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

‘কুরআন ছুয়ে’ শপথ করিয়ে প্রতারণা, প্রতারকচক্রের পাঁচজন গ্রেপ্তার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত

সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে নগদ ৭০ লাখ টাকা ও একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি।

পিবিআই জানিয়েছে, উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন ও ব্যবসায়িক পার্টনার বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করত চক্রটি। ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা পবিত্র কুরআন ছুঁইয়ে শপথ করাতো এবং বলত, ‘আজ থেকে আমরা ভাই ভাই, ব্যবসায়িক যৌথ পার্টনার।’

পিবিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ব্রাদার্স গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেন। দুই লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাসের পাশাপাশি গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখানো হয় তাঁকে। কলাবাগানের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে কুরআন ছুঁইয়ে শপথ করিয়ে তাঁকে ব্যবসায়িক পার্টনার করা হয়। শর্ত ছিল—এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানানো যাবে না।

এরপর ভারতীয় ক্রেতা সাজিয়ে এক ব্যক্তিকে আনা হয়, যিনি কয়েক কোটি টাকার রোলেক্স ঘড়ি কেনার ভান করে ৩ কোটি টাকার চেক দেন। এই কৌশলের মাধ্যমে মিজানুরের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে প্রতারকরা বাসা ছেড়ে গা-ঢাকা দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এ ঘটনায় মিজানুর পল্লবী থানায় মামলা করেন।

এরপর মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই তদন্ত শুরু করে। গত ৩০ জুলাই আব্দুল আজিজ নামে চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চক্রটির মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় একই কায়দায় প্রতারণার শিকার হওয়া আরেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ইলিয়াস খানের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া ৭০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, প্রতারক চক্রটি ভাড়া বাসা নিয়ে নিজেদের বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিত। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ও সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষভাবে টার্গেট করে চাকরির বিজ্ঞাপন দিত। প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগীদের আপ্যায়ন ও আশ্বাস দিয়ে ফাঁদে ফেলা হতো। এরপর ব্যবসায়িক পার্টনার করার নাম করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে হঠাৎ অফিস গুটিয়ে অদৃশ্য হয়ে যেত। পরে মোবাইল নম্বর ও সিম কার্ড পরিবর্তন করে নতুন স্থানে আবার অফিস খুলে একই কৌশলে প্রতারণা চালাতো চক্রটি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত