মোড়লরা মেনে নিয়েছে তালেবানকে, উপেক্ষিত মানবাধিকার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও তালেবানের ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট মার্কিন সমর্থিত সরকারের পতন ঘটিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। ওই সময় সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিশ্ব দেখেছিল, ভিড়ে উপচে পড়া বিমানবন্দর আর হাজারো আফগানের উড়োজাহাজে পালানোর দৃশ্য।

৫ বছর পর কেমন আছে আফগানরা? দেশ চালাতে কতটুকু সফল তালেবান?

পশ্চিমা গণমাধ্যম বলছে, আফগানরা ভালো নেই। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। নারীদের কর্মসংস্থান, শিশুদের টিকা, পুষ্টির সংকট আর দুর্যোগে নাকাল আফগানিস্তান। নতুন আপদ হয়ে এসেছে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা সমস্যা।

কট্টরপন্থার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মূলধারা থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের শাসন সুসংহত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে তালেবান।

ভারত, চীন, রাশিয়া, কাতার, ইরান, উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

তবে তালেবানের সঙ্গে কিছু দেশের নানাবিধ সম্পৃক্ততা দেশটির মানবাধিকার প্রশ্নে বড় ছাড় দিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান তাদের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারাবাহিক ঘটনা সত্ত্বেও, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রধান শক্তিগুলো তালেবানের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, এক সময় তালেবান মুজাহিদিনরা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। সেই মুজাহিদিন এবং তাদের বর্তমান প্রজন্ম যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে রাশিয়ার দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

কূটনীতিতে তালেবান সরকারের সফলতা নজরে আসছে। ভারত, কাতার, চীন, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ সম্প্রতি তালেবান কর্মকর্তাদের স্বাগত জানিয়েছে এবং যোগাযোগের নতুন পথ উন্মুক্ত করেছে। এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল রাশিয়া। দেশটি গত মাসে তালেবান সরকারের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। গত জুন ব্রাসেলসে ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের মতে, তালেবান সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের এই যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টায় কপালে ভাঁজ পড়েছে মানবাধিকারকর্মীদের। তারা মনে করছেন, আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শর্ত দিত যে ‘কূটনৈতিক স্বীকৃতি পেতে হলে মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে’, কিন্তু বর্তমানে সেই বৈশ্বিক ঐক্য ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন যোগাযোগের কারণে মানবাধিকার উন্নয়নের সমন্বিত চাপ দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আফগানিস্তান বিষয়ক গবেষক ফেরেশতা আব্বাসী বলেন, ‘আমরা সব ধরনের যোগাযোগের বিরুদ্ধে নই। চলমান মানবিক সংকট কাটাতে সাহায্যকারী সংস্থাগুলোর তালেবান সরকারের সঙ্গে আলোচনার দরকার আছে। কিন্তু এসব যোগাযোগের শেষ পরিণতি কী এবং এর অন্তরালে কী আলোচনা হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

সম্প্রতি জাতিসংঘ জানিয়েছে, তালেবানের জারি করা একের পর এক ‘ফরমান ও আইনে’ নারীদের বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিকাংশ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে। কিশোরীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং কঠোর পোশাকবিধি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘুরা নিগ্রহের শিকার হচ্ছে এবং অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকেরা দমন-পীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন। চলতি বছরের মার্চে জাতিসংঘ দাবি করেছিল, আফগানিস্তান এখন ‘মানবাধিকারের সমাধিক্ষেত্রে’ পরিণত হয়েছে!

গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ বলছে, খোদ তালেবান সরকারের ভেতরে নারী শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ ও বিভক্তি রয়েছে। তবে মূল ক্ষমতা এখনো ‘কট্টরপন্থীদের’ হাতেই। ধর্মীয় নেতা হেবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকায় অদূর ভবিষ্যতে তালেবানের নীতি নমনীয় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সম্প্রতি জারি করা নতুন আইনি কাঠামোতে শিয়াদের ‘বিধর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভিন্নমত দমনে কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়েছে। এ ছাড়া কেবল ‘অতিরিক্ত’ প্রহারকেই নারীদের ওপর পারিবারিক নির্যাতন হিসেবে গণ্য করার পাশাপাশি মেয়েদের অনিচ্ছায় বাল্যবিয়ের পথ সহজ করা হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত