ad

পাটের মাধ্যমে বঙ্গীয় বদ্বীপে কীভাবে ঢুকে পড়েছিল বৈশ্বিক পুঁজিবাদ

বঙ্গীয় বদ্বীপের সমাজ, রাজনীতি ও মতাদর্শ নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে আমরা ফিরে তাকিয়েছি বাংলাদেশের গত দুই হাজার বছরের পথপরিক্রমায়। জানার চেষ্টা করেছি, কীভাবে গড়ে উঠেছে এ জনপদের সমাজ, রাজনীতি ও মতাদর্শ। এই লেখায় গবেষক ও লেখক তারিক ওমর আলির বই ‘আ লোকাল হিস্ট্রি অব গ্লোবাল ক্যাপিটাল: জুট অ্যান্ড পিজেন্ট লাইফ ইন দ্য বেঙ্গল ডেলটা’ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে উঠে এসেছে বঙ্গীয় বদ্বীপের পূর্বাংশের পাটচাষকেন্দ্রিক আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পর্যালোচনা।

গবেষক ও লেখক তারিক ওমর আলি এবং তাঁর লেখা বই ‘আ লোকাল হিস্ট্রি অব গ্লোবাল ক্যাপিটাল: জুট অ্যান্ড পিজেন্ট লাইফ ইন দ্য বেঙ্গল ডেলটা’। স্ট্রিম গ্রাফিক
গবেষক ও লেখক তারিক ওমর আলি এবং তাঁর লেখা বই ‘আ লোকাল হিস্ট্রি অব গ্লোবাল ক্যাপিটাল: জুট অ্যান্ড পিজেন্ট লাইফ ইন দ্য বেঙ্গল ডেলটা’। স্ট্রিম গ্রাফিক

উনিশ শতক পর্যন্তও বঙ্গীয় বদ্বীপের জনজীবন সহজ-সরলই ছিল। বিশ শতকের শুরুর দিকে এই জনপদের গ্রামীণ জীবনে ঢুকে পড়ে বৈশ্বিক পুঁজিবাদ। কীভাবে? একমাত্র পাণ্য পাটের মাধ্যমে। বাংলার ক্ষুদ্র কৃষকেরা তখন জড়িয়ে পড়েছিল অনিশ্চিত এক বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে। গবেষক ও লেখক তারিক ওমর আলি তাঁর ‘আ লোকাল হিস্ট্রি অব গ্লোবাল ক্যাপিটাল: জুট অ্যান্ড পিজেন্ট লাইফ ইন দ্য বেঙ্গল ডেলটা’ বইয়ে এই বিষয়গুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

তারিক ওমর আলি দেখিয়েছেন, কীভাবে কৃষকেরা পাট উৎপাদন করত এবং তা বিক্রি করে নতুন পুঁজির মাধ্যমে নতুন ভোগ-সংস্কৃতি, সম্পত্তির অধিকার ও আত্মপরিচয়ের এক নতুন রূপ গড়ে তুলেছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল দুটি প্রক্রিয়ায়—এক. উৎপাদক হিসেবে বিশ্ববাজারে পাট রপ্তানি করা এবং দুই. ভোক্তা হিসেবে বৈশ্বিক পণ্য আমদানি করে নিজের পরিচয় গড়ে তোলা।

পাটচাষ: কৃষকের পছন্দ, শ্রম ও ক্ষুধা

বঙ্গীয় জনপদে তখন বিস্ময়করভাবে পাটচাষ ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৮৫০ সালে প্রায় পঞ্চাশ হাজার একর জমিতে পাট চাষ হতো। ১৯০৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় চল্লিশ লাখে। বলাই বাহুল্য, বঙ্গীয় বদ্বীপ তখন বিশ্বে পাটের প্রধান সরবরাহকারী হয়ে উঠেছিল।

বিশ শতকের শুরুতে রংপুর, পাবনা, বগুড়া, ফরিদপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ত্রিপুরা থেকে বিশ্বের মোট পাটের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সরবরাহ করা হতো। ১৮২৯ সালে মাত্র ১৮ টন পাট রপ্তানি করা হতো। সেই জায়গা থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে বাংলার প্রধান রপ্তানিপণ্য হয়ে ওঠে পাট। আনতে থাকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

এই পরিবর্তনের বিশেষত্ব হলো, এটি অন্য ঔপনিবেশিক নগদ ফসলের মতো জোরজবরদস্তি, ভর্তুকি বা রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে আসেনি। উনিশ শতকে নীলচাষে যেমন চরম দমননীতি চালু ছিল বা তুলা ও আখ উৎপাদনে যেমন দাসপ্রথা বা সেচ-প্রকল্পনির্ভর ছিল, পাটচাষ তেমন ছিল না। এর বিস্তার ঘটেছিল স্বতন্ত্র কৃষক পরিবারগুলোর স্বাধীন সিদ্ধান্তে। তাদের বিশ্বাস ছিল, জমি ও শ্রমের একটি অংশ পাটে বিনিয়োগ করলে কৃষির চেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এই আকস্মিক উত্থানে বিস্মিত হয়েছিলেন। ১৮৭০-এর দশকেও অনেকে স্বীকার করেছিলেন যে, তারা গাছটিকে (পাট) সঠিকভাবে চিনতেন না।

তারিক ওমর আলি দেখিয়েছেন, কীভাবে কৃষকেরা পাট উৎপাদন করত এবং তা বিক্রি করে নতুন পুঁজির মাধ্যমে নতুন ভোগ-সংস্কৃতি, সম্পত্তির অধিকার ও আত্মপরিচয়ের এক নতুন রূপ গড়ে তুলেছিল।

এর পেছনের চালিকা শক্তি ছিল বাজার। বৈশ্বিক চাহিদা, বিশেষত স্কটল্যান্ডের ডান্ডির পাটকলের জন্য পাটের প্রচুর চাহিদা তৈরি হয়। আর এতে বাংলার কৃষকেরা দ্রুত সাড়াও দেয়। ১৮৫০-এর দশকের ক্রিমিয়া যুদ্ধ থেকে ১৯১৪ সালের মধ্যে পাটশিল্পে তিনবার বড়সড় বুম হয়। প্রথমবার ১৮৬০–৭০-এর দশকে, দ্বিতীয়বার ১৮৮০-এর দশকের মাঝামাঝি এবং শেষবার বিংশ শতকের প্রথম দশকে।

ওই সময়ে কৃষকের শ্রম ও জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছিল জটিল সব গল্প। তখন পাট বোনা হতো বর্ষার শুরুতে। সঠিক সময়ে বপন না হলে বন্যায় পাটগাছ তলিয়ে যেত। আবার দেরি করলেও বিপদ হতো। কারণ পাটগাছ কাটা হতো পানিতে দাঁড়িয়ে। তারপর আঁশ ছাড়াতে পানিতে ডুবিয়ে পচানো হতো। পাট পঁচে যে দুর্গন্ধ তৈরি হতো, সেটিই তখন বাংলার গ্রামীণ জীবনের এক অনিবার্য গন্ধে পরিণত হয়েছিল।

নারী ও শিশুর শ্রম এখানে ছিল অপরিহার্য, বিশেষ করে আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে। ফলে পুরো পরিবারই যুক্ত হয়ে যেত পাটের কাজে।

পাটচাষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধান চাষ কমে গিয়েছিল। বাংলার প্রধান খাদ্যশস্য আমন ও আউশ ধানের জমিগুলো তখন পাট গাছে ভরে উঠছিল। প্রথম দিকে নতুন চর ও বিলে ধান ও পাট—দুটোই চাষ হচ্ছিল। কিন্তু ১৮৯০ ও ১৯০০-এর দশকে কৃষকেরা ধান চাষ কমিয়ে পাট চাষ বাড়াতে থাকে। কেউ কেউ একই জমিতে বছরে ধান ও পাট দুটোই ফলানোর চেষ্টা করত। কিন্তু এতে মাটির উর্বরা-শক্তি নষ্ট হতো। ফলে বিশ শতকের শুরুতে বাংলা ধীরে ধীরে বার্মার ইরাবতী ডেল্টা থেকে ধান আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

উনিশ শতকে নীলচাষে যেমন চরম দমননীতি চালু ছিল বা তুলা ও আখ উৎপাদনে যেমন দাসপ্রথা বা সেচ-প্রকল্পনির্ভর ছিল, পাটচাষ তেমন ছিল না। এর বিস্তার ঘটেছিল স্বতন্ত্র কৃষক পরিবারগুলোর স্বাধীন সিদ্ধান্তে। তাদের বিশ্বাস ছিল, জমি ও শ্রমের একটি অংশ পাটে বিনিয়োগ করলে কৃষির চেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে।

এটি খাদ্যনিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলে। ধানের জমিগুলো পাট দখল করে ফেলায় বাংলার পরিবারগুলো চাল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

এরপর পাটশিল্পে কাচা টাকার প্রবাহ এক সময় কমতে শুরু করে। ক্ষেতে পড়ে থাকে কৃষকের পাট। নগদ অর্থ আসে না। চালের গুদামেও ধান নেই। ফলে বাড়তে থাকে ক্ষুধা। তখন টাকা ধার করা ছিল সাধারণ সমাধান। কিন্তু এতে ঋণ ও সুদের ফাঁদে পড়া কৃষিজীবী মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ ছাড়া পাট চাষ ধান চাষের চেয়ে ব্যয়বহুল হওয়ায় কৃষকেরা অনেক বেশি ঋণের জালে আটকা পড়তে থাকে।

এই বাজার-নির্ভর জীবিকার দুর্বলতা স্পষ্ট হয় ১৯১৪ সালে। ফসল কাটার ঠিক আগে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় রপ্তানি। আর পাটের দাম পড়ে যায়। শুরু হয় ব্যাপক দারিদ্র্য।

১৯২০-এর দশক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, অনেক পরিবার ঋণ থেকে বাঁচতে জমি বিক্রি করে আসামে চলে গেছে। গবেষকেরা দেখিয়েছেন, পাটপণ্যের পতনের সূচনা মূলত ১৯১৪ সাল থেকে।

তারিক ওমর আলি বলেন, ‘পাটের ইতিহাস কেবল দাম বা জমির হিসাব দিয়ে বোঝা যাবে না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল কৃষকের শ্রম, নদী-মাটি-জলবায়ুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, আর খাদ্যের ঝুঁকি। কৃষকের বাজার-প্রতিক্রিয়াশীলতা বাস্তব ছিল। কিন্তু তা কেবল অর্থনৈতিক হিসাব নয়। এটি ছিল বেঁচে থাকা, ক্ষুধা আর গ্রামীণ জীবনের পুনর্গঠনের প্রশ্ন।’

ভোগ ও আত্মপরিচয়: কৃষক ভোক্তা-সংস্কৃতির রাজনীতি

পাট বিক্রি থেকে পাওয়া নগদ অর্থ দিয়ে কৃষকেরা কী করত? তারিক ওমর আলি তাঁর বইয়ে বলছেন, উনিশ শতকের শেষের দিকে বাংলার মানুষেরা ভালো কাপড় পরত, জুতো পরত, মজবুত খাটে ঘুমাত, ঘরে কেরোসিনের আলো জ্বলত। নারীরা রুপার গয়না পরত। রান্নার কাজে পিতলের হাঁড়ি-পাতিল দেখা যেত। বিশ শতকের শুরুতে এ তালিকায় যুক্ত হয় ঘরের ছাদ হিসেবে ঢেউটিন, ইংরেজি শিক্ষার খরচ, এমনকি একাধিক বিয়ে।

এই ভোগ-বিলাস ব্রিটিশ শাসকদের দুশ্চিন্তা বাড়ায়। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তাদের ‘অমিতব্যয়ী’ বলে দোষারোপ করত। তবে তারিক ওমর আলি বলছেন, ‘ভোগ আসলে কৃষকদের আত্মপরিচয়ের কেন্দ্রীয় অংশ ছিল। কৃষকেরা নিজেরাই পাটকে “প্রিয়” ফসল হিসেবে বর্ণনা করত। তারা পাটের আঁশ ভালোবাসত না, বরং পাট বিক্রির টাকা দিয়ে কেনা সামগ্রী ও ভোগবিলাসকে ভালোবাসত।’

একই সঙ্গে তারিক ওমর আলি বলছেন, তাদের আধুনিকতা ছিল আলাদা। শহুরে মধ্যবিত্তদের মতো তারা চেয়ারে বসত না, বহুতল বাড়ি করত না, ইউরোপীয় পোশাক নিত না। বরং বৈশ্বিক সামগ্রীকে তারা তাদের নিজস্ব গ্রামীণ, মুসলিম এবং বাঙালি সংস্কৃতির ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ল্যাম্প জ্বলত পুরনো উঠোনে, ঢেউটিনের ছাদ ঢাকত ঐতিহ্যবাহী বাড়ি, গয়না দিয়ে সাজাত পরিচিত দেহকে। এই ‘আধুনিকতা’ ছিল গ্রামীণ, স্থানীয়, অথচ বৈশ্বিক পণ্যে নির্মিত।

ভোগের রাজনীতি সবচেয়ে স্পষ্ট হয় ১৯০৫–০৬ সালের স্বদেশি আন্দোলনের সময়। অনেকে এটিকে হিন্দু–মুসলিম সংঘাত বা কেবল সস্তা পণ্যের প্রতি ঝোঁক বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে তারিক ওমর আলি দেখান, আসলে কৃষকেরা রক্ষা করছিল তাদের ভোগাধিকারকে। তাদের কাছে ভোগ ছিল আত্মপরিচয় গঠনের মাধ্যম।

সম্পত্তির অধিকার ছিল আরেক ভোগ্যবস্তু। ১৮৫৯ সালের ভাড়া আইন অনুযায়ী পাওয়া জমির অধিকার কৃষকের কাছে মূল্যবান ছিল। পাট বিক্রির অর্থে তারা মামলা লড়ত, কোর্ট-ফি দিত, উকিল ভাড়া করত। ১৮৭৩ সালের বিখ্যাত পাবনা কৃষকবিদ্রোহ এই জেলাগুলোতেই জন্ম নেয়। ওই সময়ে পাট থেকে আসা অর্থ আইনি লড়াই সম্ভব করেছিল। অনেক পরিবারের কাছে জমির কাগজ ছিল তাদের সবচেয়ে প্রিয় লিখিত সম্পদ।

ভোগের জায়গাগুলোও প্রাণবন্ত ছিল। হাটে পাওয়া যেত লবণ, মশলা, কাপড়, মাছ। এগুলো ছিল সামাজিক জমায়েতও। যেমন, মেলায় পাওয়া যেত হাতি-ঘোড়া, শুকনো ফল, অস্ত্র, নানা বিচিত্র পণ্য। গঞ্জে ছিল পাইকারি বাজার। সেখানে কাচের সামগ্রী, ওষুধ, সিগারেট পাওয়া যেত। এ বাজারগুলো অর্থনৈতিক যেমন, তেমনি সাংস্কৃতিক আনন্দেরও কেন্দ্র ছিল।

ভোগের রাজনীতি সবচেয়ে স্পষ্ট হয় ১৯০৫–০৬ সালের স্বদেশি আন্দোলনের সময়। অনেকে এটিকে হিন্দু–মুসলিম সংঘাত বা কেবল সস্তা পণ্যের প্রতি ঝোঁক বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে তারিক ওমর আলি দেখান, আসলে কৃষকেরা রক্ষা করছিল তাদের ভোগাধিকারকে। তাদের কাছে ভোগ ছিল আত্মপরিচয় গঠনের মাধ্যম।

এই ভোগের ওপর কঠোর আঘাত হানে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। পরিবহনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। আর মুদ্রাস্ফীতির কারণে জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া। ১৯১৭–১৮ সালে কৃষকেরা বাজার লুট করে প্রতিবাদ জানায়। এটি প্রমাণ করে, ভোগ্যপণ্য তখন গ্রামীণ জীবনের গভীরে প্রোথিত ছিল।

তারিক ওমর আলি বলছেন, এই ভোগবিলাস ছিল বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় কৃষকের অবস্থান নির্ধারণের, নতুন পরিচয় গড়ার, এমনকি রাজনৈতিক সংগ্রামের ক্ষেত্র।

উৎপাদন, ভোগ ও বৈশ্বিক পুঁজিবাদের স্থানীয় ইতিহাস

বইটিতে তারিক ওমর আলি তুলে ধরেছেন, কীভাবে বাংলার কৃষকেরা বৈশ্বিক পুঁজিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল। উৎপাদন ব্যবস্থায় পাটচাষ কৃষিজমির ধরন বদলে দিয়েছিল। কৃষকের শ্রম বাড়িয়েছিল। ধানের জমিগুলো দখলে নিয়েছিল পাট। আর কৃষক পরিবারকে অনিশ্চিত বৈশ্বিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছিল। এসবের বিপরীতে পাট বিক্রির অর্থ নতুন সামগ্রী, পোশাক, শিক্ষা এবং সম্পত্তির অধিকার এনে দিয়েছিল। এসব জিনিস জীবনযাত্রাকে পাল্টে দিয়েছিল, খুলে দিয়েছিল রাজনীতির নতুন পথ।

তখন বাংলার কৃষকদের ক্ষমতা ছিল দ্বিমুখী। তাদের স্বাধীনতা তাদের আরও গভীরভাবে বেঁধে ফেলেছিল বৈশ্বিক মূলধনের সঙ্গে, যা যেকোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারত। বাজার উঠলে তারা সমৃদ্ধ হয়েছিল, বাজার নামলে তারা ক্ষুধা, ঋণ আর জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হতে বাধ্য হয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা ছিল সেই সীমারেখা, যখন পাটের প্রতিশ্রুতি দারিদ্র্যে রূপ নেয়।

তারিক ওমর আলি দেখিয়েছেন, বঙ্গীয় বদ্বীপের মানুষদের জটিলতা, তাদের বেঁচে থাকার লড়াই, আকাঙ্ক্ষা, শ্রম, আর আশা-নিরাশা। বাংলার পাটচাষিদের এই স্থানীয় ইতিহাস তাই বৈশ্বিক পুঁজিবাদের বৃহত্তর ইতিহাসেরই অংশ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত