আমাদের দেশে এখন সম্পর্কের জট খুলতে পেশাদারদের কাছে যাওয়ার চল বাড়ছে। কিন্তু কাপল কাউন্সেলিং আসলে কী? সেখানে কি জাদুকরী কোনো সমাধান মেলে?
অনন্ত রায়হান

‘আমরা কি আসলেই সুখী?’, ‘আমাদের সম্পর্কের সেই পুরোনো টানটা কোথায় হারাল?’, ‘দুজন কি একই পথে হাঁটছি নাকি দূরত্ব বাড়ছে?’—দাম্পত্য জীবনে একটা সময় এমন সব প্রশ্ন মনে উঁকি দেওয়া খুবই স্বাভাবিক।
আমাদের সমাজে ‘কাপল’ বা দম্পতি হিসেবে ভালো থাকাটাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। অথচ বাতি বা ফ্যানের মতো সম্পর্কের কোনো ‘ম্যানুয়াল বুক’ বা নির্দেশিকা আমাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় না। ফলে চড়াই-উতরাইয়ের পথে অনেকেই খেই হারিয়ে ফেলেন।
আর তখনই সামনে আসে ‘কাপল কাউন্সেলিং’ বা দম্পতিদের পরামর্শ সেবার বিষয়টি। পশ্চিমা বিশ্বে এটি ডাল-ভাত হলেও আমাদের দেশে এখন সম্পর্কের জট খুলতে পেশাদারদের কাছে যাওয়ার চল বাড়ছে। কিন্তু কাপল কাউন্সেলিং আসলে কী? সেখানে কি জাদুকরী কোনো সমাধান মেলে?
সম্পর্কের ওঠানামা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এই ধ্রুব সত্যটা মেনে নিলেই অনেক মানসিক চাপ কমে যায়। সাধারণত সম্পর্কের যখন খুব খারাপ সময় যায়, কিংবা বোঝাপড়ায় বড় কোনো ফাটল ধরে, তখনই মানুষ কাউন্সেলিংয়ের কথা ভাবেন। এর মধ্যে থাকতে পারে বিশ্বাসভঙ্গ, পরকীয়া, পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সেবাজনিত চাপ কিংবা শুধুই একঘেয়েমি।
তবে সমস্যা হওয়ার পরেই যে দৌড়াতে হবে, ব্যাপারটা এমন নয়। অনেকে ‘প্রিভেন্টিভ’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবেও কাউন্সেলিং নেন। অর্থাৎ বড় কোনো ঝড় আসার আগেই নিজেদের যোগাযোগের দক্ষতা বাড়িয়ে নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে বড় কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়।

আবার সঠিক থেরাপিস্ট খুঁজে পাওয়াটাও জরুরি। থেরাপিস্টরা নানা মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে বিখ্যাত হলো ‘গটম্যান মেথড’। এই পদ্ধতিতে দম্পতিদের শেখানো হয় কীভাবে একে অপরের ছোট ছোট বিষয়গুলো বা ‘লাভ ম্যাপ’ মনে রাখতে হয় এবং একে অপরের দিকে মনোযোগ দিতে হয়। গটম্যান পদ্ধতিতে সম্পর্কের চারটি বড় সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। যেমন অযথা সমালোচনা, ঘৃণা বা অবজ্ঞা, আত্মপক্ষ সমর্থন না করতে দেওয়া বা কথা বন্ধ করে দেওয়া।
অনেক থেরাপিস্ট আবার কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি বা সাইকো-অ্যানালেটিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তবে পদ্ধতি যাই হোক, দিনশেষে কাউন্সেলিংয়ের সাফল্য নির্ভর করে থেরাপিস্টের সঙ্গে আপনাদের বোঝাপড়া বা ‘ক্লিক’ করার ওপর। যদি প্রথমজনকে ভালো না লাগে, তবে থেরাপিস্ট পরিবর্তন করা দোষের কিছু নয়।
অনেকেই মনে করেন, কাউন্সেলিংয়ে গেলে থেরাপিস্ট হয়ত বিচারকের মতো রায় দেবেন যে কে সঠিক আর কে ভুল। অথবা কেউ কেউ আশা করেন, তৃতীয় কোনো ব্যক্তি তাঁর পক্ষ নিয়ে সঙ্গীকে একটু বুঝিয়ে দেবেন। বাস্তবতা হলো, আপনি যদি এমন কাউকে খুঁজছেন যিনি ‘আপনার পক্ষ’ নেবেন, তবে কাউন্সেলিং আপনার জন্য নয়।
একজন ভালো কাপল কাউন্সিলার বা থেরাপিস্ট সব সময় নিরপেক্ষ থাকেন, তিনি কারও পক্ষ নেন না। বেশির ভাগ দম্পতিই কাউন্সেলিংয়ে যান কারণ তাঁদের মধ্যে প্রচুর তর্ক-বিতর্ক ও মতের অমিল হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ‘কে সঠিক’ এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে রাগের ঊর্ধ্বে ওঠা জরুরি। কাউন্সেলিংয়ের মূল লক্ষ্যই হলো দম্পতিকে নতুন করে বিবাদ মেটানোর বা ‘কনফ্লিক্ট রেজল্যুশন’-এর কৌশল শেখানো।
কাউন্সেলিং বা থেরাপি কোনো ‘ম্যাজিক পিল’ বা জাদুকরী বড়ি নয় যে এটি খেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। মূলত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে দম্পতিরা মূলত একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও মানসিক সংযোগ আরও গভীর করার সুযোগ পান। এখানে ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয় এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথে কী কী বাধা আছে, তা চিহ্নিত করা হয়।
তবে কাউন্সেলিং মানেই যে সব সময় সম্পর্ক জোড়া লাগানো, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় দম্পতিরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও কাউন্সেলিংয়ে আসেন। বিশেষ করে সন্তান থাকলে কীভাবে তিক্ততা এড়িয়ে সুন্দরভাবে আলাদা হওয়া যায় এবং সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া যায়, সেই পথ খুঁজতেও অনেকে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু কাউন্সেলিং নবদম্পতিদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার কমাতে বেশ কার্যকর। তবে মজার ব্যাপার হলো, সবসময় যে পেশাদার কাউন্সেলিংই লাগে, তা নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্বামী-স্ত্রী মিলে একসঙ্গে রোমান্টিক সিনেমা দেখা এবং সেই সিনেমার বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করাও সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে!
আবার অনেক সময় সম্পর্কের সমস্যার মূলে থাকে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অসন্তোষ। এসব ক্ষেত্রে সাধারণ কাপল কাউন্সিলরের চেয়ে একজন যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
সম্পর্ক নিয়ে সব সমস্যা মূলত নির্ভর করে দম্পতিদের মানসিকতার ওপর। নিজেকে আগে প্রশ্ন ‘আমি কী ঠিক করতে চাই?’ এবং ‘আমি কী আশা করছি?’
সব সম্পর্ক চাইলেই আলোচনার মাধ্যমে জোড়া লাগানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে যে সম্পর্কে শারীরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি বা জবরদস্তিমূলক নিয়ন্ত্রণ জড়িত, সেখানে কাপল কাউন্সেলিং মোটেই সঠিক সমাধান নয়।
এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান কাজ, কাউন্সেলিং নয়। এ ছাড়া অনেক সময় সম্পর্কের অবনতি ঘটে বাইরের চাপে। যেমন অফিসের প্রচণ্ড কাজের চাপ, আর্থিক অনটন বা সঙ্গীর দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্নতা। এগুলো ‘স্ট্রাকচারাল’ বা কাঠামোগত সমস্যা। কয়েক সেশনের থেরাপি দিয়ে আর্থিক সংকট দূর করা বা অফিসের বসকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
এসব ক্ষেত্রে সমস্যার মূলে হাত না দিলে কেবল কথা বলে লাভ হয় না। এটাও মনে রাখা দরকার, কাউন্সেলিংয়ের প্রভাব আজীবন নাও থাকতে পারে; চর্চা থামিয়ে দিলে পুরোনো সমস্যা আবার ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে।
শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা আসলে কী? ভালোবাসা কেবল অনুভব করার বা ‘একসঙ্গে থাকার’ বিষয় নয়। ফেসবুকে ‘ইন আ রিলেশনশিপ’ লেখাও নয়। বাস্তবে ভালোবাসা তার চেয়েও অনেক বেশি চর্চার। দীর্ঘমেয়াদি সুখী দম্পতিরা প্রতিদিন ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে ভালোবাসার চর্চা করেন।
সঙ্গীর জন্য এক কাপ কফি বানানো, একসঙ্গে সোফায় বসে পছন্দের কোনো শো দেখা কিংবা দিনশেষে একে অপরের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করা—এসব থেরাপির চেয়ে কম নয়।
তাই থেরাপিস্টের চেম্বারে যাওয়ার আগে নিজেদের বসার ঘরেই একে অপরের দিকে একটু মনোযোগ দিয়ে দেখুন, হয়ত হারিয়ে যাওয়া সুরটা সেখানেই খুঁজে পাবেন। এমনকি কাপল থেরাপি শো দেখাও আপনাদের নতুন করে ভাবতে সাহায্য করতে পারে।

‘আমরা কি আসলেই সুখী?’, ‘আমাদের সম্পর্কের সেই পুরোনো টানটা কোথায় হারাল?’, ‘দুজন কি একই পথে হাঁটছি নাকি দূরত্ব বাড়ছে?’—দাম্পত্য জীবনে একটা সময় এমন সব প্রশ্ন মনে উঁকি দেওয়া খুবই স্বাভাবিক।
আমাদের সমাজে ‘কাপল’ বা দম্পতি হিসেবে ভালো থাকাটাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। অথচ বাতি বা ফ্যানের মতো সম্পর্কের কোনো ‘ম্যানুয়াল বুক’ বা নির্দেশিকা আমাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় না। ফলে চড়াই-উতরাইয়ের পথে অনেকেই খেই হারিয়ে ফেলেন।
আর তখনই সামনে আসে ‘কাপল কাউন্সেলিং’ বা দম্পতিদের পরামর্শ সেবার বিষয়টি। পশ্চিমা বিশ্বে এটি ডাল-ভাত হলেও আমাদের দেশে এখন সম্পর্কের জট খুলতে পেশাদারদের কাছে যাওয়ার চল বাড়ছে। কিন্তু কাপল কাউন্সেলিং আসলে কী? সেখানে কি জাদুকরী কোনো সমাধান মেলে?
সম্পর্কের ওঠানামা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এই ধ্রুব সত্যটা মেনে নিলেই অনেক মানসিক চাপ কমে যায়। সাধারণত সম্পর্কের যখন খুব খারাপ সময় যায়, কিংবা বোঝাপড়ায় বড় কোনো ফাটল ধরে, তখনই মানুষ কাউন্সেলিংয়ের কথা ভাবেন। এর মধ্যে থাকতে পারে বিশ্বাসভঙ্গ, পরকীয়া, পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সেবাজনিত চাপ কিংবা শুধুই একঘেয়েমি।
তবে সমস্যা হওয়ার পরেই যে দৌড়াতে হবে, ব্যাপারটা এমন নয়। অনেকে ‘প্রিভেন্টিভ’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবেও কাউন্সেলিং নেন। অর্থাৎ বড় কোনো ঝড় আসার আগেই নিজেদের যোগাযোগের দক্ষতা বাড়িয়ে নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে বড় কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়।

আবার সঠিক থেরাপিস্ট খুঁজে পাওয়াটাও জরুরি। থেরাপিস্টরা নানা মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে বিখ্যাত হলো ‘গটম্যান মেথড’। এই পদ্ধতিতে দম্পতিদের শেখানো হয় কীভাবে একে অপরের ছোট ছোট বিষয়গুলো বা ‘লাভ ম্যাপ’ মনে রাখতে হয় এবং একে অপরের দিকে মনোযোগ দিতে হয়। গটম্যান পদ্ধতিতে সম্পর্কের চারটি বড় সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। যেমন অযথা সমালোচনা, ঘৃণা বা অবজ্ঞা, আত্মপক্ষ সমর্থন না করতে দেওয়া বা কথা বন্ধ করে দেওয়া।
অনেক থেরাপিস্ট আবার কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি বা সাইকো-অ্যানালেটিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তবে পদ্ধতি যাই হোক, দিনশেষে কাউন্সেলিংয়ের সাফল্য নির্ভর করে থেরাপিস্টের সঙ্গে আপনাদের বোঝাপড়া বা ‘ক্লিক’ করার ওপর। যদি প্রথমজনকে ভালো না লাগে, তবে থেরাপিস্ট পরিবর্তন করা দোষের কিছু নয়।
অনেকেই মনে করেন, কাউন্সেলিংয়ে গেলে থেরাপিস্ট হয়ত বিচারকের মতো রায় দেবেন যে কে সঠিক আর কে ভুল। অথবা কেউ কেউ আশা করেন, তৃতীয় কোনো ব্যক্তি তাঁর পক্ষ নিয়ে সঙ্গীকে একটু বুঝিয়ে দেবেন। বাস্তবতা হলো, আপনি যদি এমন কাউকে খুঁজছেন যিনি ‘আপনার পক্ষ’ নেবেন, তবে কাউন্সেলিং আপনার জন্য নয়।
একজন ভালো কাপল কাউন্সিলার বা থেরাপিস্ট সব সময় নিরপেক্ষ থাকেন, তিনি কারও পক্ষ নেন না। বেশির ভাগ দম্পতিই কাউন্সেলিংয়ে যান কারণ তাঁদের মধ্যে প্রচুর তর্ক-বিতর্ক ও মতের অমিল হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ‘কে সঠিক’ এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে রাগের ঊর্ধ্বে ওঠা জরুরি। কাউন্সেলিংয়ের মূল লক্ষ্যই হলো দম্পতিকে নতুন করে বিবাদ মেটানোর বা ‘কনফ্লিক্ট রেজল্যুশন’-এর কৌশল শেখানো।
কাউন্সেলিং বা থেরাপি কোনো ‘ম্যাজিক পিল’ বা জাদুকরী বড়ি নয় যে এটি খেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। মূলত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে দম্পতিরা মূলত একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও মানসিক সংযোগ আরও গভীর করার সুযোগ পান। এখানে ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয় এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথে কী কী বাধা আছে, তা চিহ্নিত করা হয়।
তবে কাউন্সেলিং মানেই যে সব সময় সম্পর্ক জোড়া লাগানো, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় দম্পতিরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও কাউন্সেলিংয়ে আসেন। বিশেষ করে সন্তান থাকলে কীভাবে তিক্ততা এড়িয়ে সুন্দরভাবে আলাদা হওয়া যায় এবং সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া যায়, সেই পথ খুঁজতেও অনেকে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু কাউন্সেলিং নবদম্পতিদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার কমাতে বেশ কার্যকর। তবে মজার ব্যাপার হলো, সবসময় যে পেশাদার কাউন্সেলিংই লাগে, তা নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্বামী-স্ত্রী মিলে একসঙ্গে রোমান্টিক সিনেমা দেখা এবং সেই সিনেমার বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করাও সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে!
আবার অনেক সময় সম্পর্কের সমস্যার মূলে থাকে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অসন্তোষ। এসব ক্ষেত্রে সাধারণ কাপল কাউন্সিলরের চেয়ে একজন যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
সম্পর্ক নিয়ে সব সমস্যা মূলত নির্ভর করে দম্পতিদের মানসিকতার ওপর। নিজেকে আগে প্রশ্ন ‘আমি কী ঠিক করতে চাই?’ এবং ‘আমি কী আশা করছি?’
সব সম্পর্ক চাইলেই আলোচনার মাধ্যমে জোড়া লাগানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে যে সম্পর্কে শারীরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি বা জবরদস্তিমূলক নিয়ন্ত্রণ জড়িত, সেখানে কাপল কাউন্সেলিং মোটেই সঠিক সমাধান নয়।
এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান কাজ, কাউন্সেলিং নয়। এ ছাড়া অনেক সময় সম্পর্কের অবনতি ঘটে বাইরের চাপে। যেমন অফিসের প্রচণ্ড কাজের চাপ, আর্থিক অনটন বা সঙ্গীর দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্নতা। এগুলো ‘স্ট্রাকচারাল’ বা কাঠামোগত সমস্যা। কয়েক সেশনের থেরাপি দিয়ে আর্থিক সংকট দূর করা বা অফিসের বসকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
এসব ক্ষেত্রে সমস্যার মূলে হাত না দিলে কেবল কথা বলে লাভ হয় না। এটাও মনে রাখা দরকার, কাউন্সেলিংয়ের প্রভাব আজীবন নাও থাকতে পারে; চর্চা থামিয়ে দিলে পুরোনো সমস্যা আবার ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে।
শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা আসলে কী? ভালোবাসা কেবল অনুভব করার বা ‘একসঙ্গে থাকার’ বিষয় নয়। ফেসবুকে ‘ইন আ রিলেশনশিপ’ লেখাও নয়। বাস্তবে ভালোবাসা তার চেয়েও অনেক বেশি চর্চার। দীর্ঘমেয়াদি সুখী দম্পতিরা প্রতিদিন ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে ভালোবাসার চর্চা করেন।
সঙ্গীর জন্য এক কাপ কফি বানানো, একসঙ্গে সোফায় বসে পছন্দের কোনো শো দেখা কিংবা দিনশেষে একে অপরের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করা—এসব থেরাপির চেয়ে কম নয়।
তাই থেরাপিস্টের চেম্বারে যাওয়ার আগে নিজেদের বসার ঘরেই একে অপরের দিকে একটু মনোযোগ দিয়ে দেখুন, হয়ত হারিয়ে যাওয়া সুরটা সেখানেই খুঁজে পাবেন। এমনকি কাপল থেরাপি শো দেখাও আপনাদের নতুন করে ভাবতে সাহায্য করতে পারে।

সারাদিন সুস্থ, সতেজ ও কর্মক্ষম থাকার জন্য সেহরিতে সঠিক খাবার নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, সেহরিতে গলা পর্যন্ত পেট ভরে খেলে হয়ত সারাদিন ক্ষুধা লাগবে না। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন অন্য কথা।
১৯ ঘণ্টা আগে
ভাষা কখনও নিছক যোগাযোগের উপায় নয়। ভাষার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে একটি জাতির ইতিহাস, স্মৃতি, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বিন্যাস। ভাষা যখন আঘাতপ্রাপ্ত হয়, জাতির আত্মাও আহত হয়। আবার ভাষা যখন জাগ্রত হয়, তখন জাতিসত্তা শক্তিরূপে উদ্ভাসিত হয়।
১ দিন আগে
গবেষণায় দেখা গেছে, তথ্যের সম-অধিকার তো দূরের কথা, কিছু ক্ষেত্রে উল্টো বৈষম্য করছে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটগুলো। আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাসিন্দা হন কিংবা আপনার ইংরেজি যদি দুর্বল হয়, তবে চ্যাটবটের উত্তরে মানের পার্থক্য বা তাচ্ছিল্যপূর্ণ সুর দেখা যেতে পারে।
১ দিন আগে
ঘুমের সময় ঠিক রাখলে আপনার শরীরের ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা খুব দ্রুত এই নতুন রুটিনের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে এবং কয়েক দিন পরই ক্লান্তিভাব কেটে যাবে।
১ দিন আগে