বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন/প্রতি ৯টি পরিযায়ী পাখির ১টি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে
স্ট্রিম ডেস্ক

বিশ্বের প্রতি ৯টি পরিযায়ী পাখির মধ্যে একটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। সেই সঙ্গে কোকিল, ঘুঘু ও আর্কটিক টার্নসহ ৪৫ শতাংশ পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমছে। বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের ‘স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস বার্ডস’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫০ বছরে বিশ্বে ৭টি পরিযায়ী পাখির প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে স্লেন্ডার-বিলড কার্লিউকে গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। গত কয়েকশ বছরের মধ্যে ইউরেশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে এই প্রথম কোনো পাখি পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে গেল।
পরিযায়ী পাখিদের জন্য বড় হুমকিগুলোর বেশিরভাগই মানুষের তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত চাষাবাদ, অনিয়ন্ত্রিত শিকার, দূষণ, আগ্রাসী প্রজাতির বিস্তার এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। বিশেষ করে সামুদ্রিক পাখি ও উপকূলীয় জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল পাখিরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিযায়ী পাখিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ৯৯টি জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকার ৫৮ শতাংশ এখন খারাপ বা খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ইউরোপ, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, ককেশাস ও আরব উপদ্বীপে প্রতি বছর আনুমানিক ১ কোটি ৩১ লাখ থেকে ৪ কোটি ২৭ লাখ পরিযায়ী পাখি অবৈধভাবে হত্যা অথবা ধরে নেওয়া হয়।

তবে সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়ারি দ্বীপে খরগোশ, বিড়াল, ইঁদুর ও ওয়েকা পাখির মতো স্থানীয় নয় এমন প্রাণী নির্মূলের পর সামুদ্রিক পাখির সংখ্যা বেড়েছে। চীনে উপকূলীয় কাদাভূমি থেকে স্মুথ কর্ডগ্রাস ঘাস অপসারণের ফলে প্রথম বছরেই ৩৭ হাজার ৫৫৩ হেক্টর এলাকা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
ব্রিটেনের ওয়ালাসি দ্বীপে জলাভূমি পুনরুদ্ধারের পর সেখানে ৩২ হাজারের বেশি জলচর পাখি ফিরে এসেছে।
নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফ্লাইওয়েজ সম্মেলনে পরিযায়ী পাখি রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়। তিনটি উন্নয়ন ব্যাংক এ কাজে ৬ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সামনের দশকে পূর্ব এশিয়া-অস্ট্রেলেশিয়ান ফ্লাইওয়ের অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি রক্ষায় ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান বিজ্ঞানী স্টুয়ার্ট বুচার্ট বলেন, পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমে যাওয়া প্রকৃতির ওপর বাড়তে থাকা চাপের সতর্কবার্তা। তবে সমন্বিত সংরক্ষণ উদ্যোগের মাধ্যমে বিলুপ্তি ঠেকানো এবং পাখির সংখ্যা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
.png)






