
বাংলাদেশের বায়ুদূষণের অবস্থা জানতে এখন শুধু আলাদা বায়ুমান অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে যেতে হবে না। গুগল ম্যাপেই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকার বায়ুর মান। বাংলাদেশে এই তথ্য যুক্ত করার ক্ষেত্রে তথ্য ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের ৩৪টি জেলার বায়ুমান-সংক্রান্ত তথ্য গুগল ম্যাপে দেখা যাচ্ছে।
কীভাবে দেখবেন
মুঠোফোনে গুগল ম্যাপস খুলুন। এরপর ওপরের দিকে থাকা ‘লেয়ারস’ বা স্তর আইকনে চাপ দিন। সেখানে ‘এয়ার কোয়ালিটি’ বা বায়ুমান অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। গুগলের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অপশন চালু করলে মানচিত্রে বিভিন্ন এলাকার বায়ুর মান রং ও সংখ্যার মাধ্যমে দেখা যায়।
এরপর মানচিত্রে আপনার কাঙ্ক্ষিত এলাকার ওপর চাপ দিলেই সেখানকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই দেখা যাবে। অর্থাৎ ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ কিংবা তালিকায় থাকা অন্য জেলার কোনো এলাকায় বর্তমানে বাতাসের অবস্থা কেমন, তার একটি ধারণা পাওয়া যাবে।

এই একিউআই আসলে কী বলছে
একিউআই বা বায়ুমান সূচক হলো বিভিন্ন বায়ুদূষকের মাত্রাকে একটি সংখ্যায় প্রকাশ করার পদ্ধতি। সংখ্যার সঙ্গে রঙের মাধ্যমেও বোঝানো হয় বাতাস তুলনামূলক ভালো, মাঝারি, অস্বাস্থ্যকর নাকি আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।
গুগলের বায়ুমান ব্যবস্থায় পিএম২.৫, পিএম১০, ওজোন, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের মতো দূষক বিবেচনায় নেওয়া হয়। গুগল একাধিক উৎসের তথ্য মিলিয়ে বায়ুমানের হিসাব করে, যার মধ্যে সরকারি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র, বেসরকারি সেন্সর নেটওয়ার্ক, স্যাটেলাইট তথ্য, আবহাওয়া, যানবাহনের তথ্য এবং ধোঁয়া ও ধুলোর মডেল রয়েছে।
তবে এখানে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি—গুগল ম্যাপে দেখানো একিউআই আপনার ঠিক সেই জায়গার বাতাসের নিখুঁত পরিমাপ নাও হতে পারে। কারণ কাছাকাছি দুটি জায়গার মধ্যেও দূষণের মাত্রায় পার্থক্য থাকতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তথ্য হালনাগাদে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বও হতে পারে।

ঘর থেকে বের হওয়ার আগে ‘আজ আমার এলাকার বাতাস কেমন?’—এই প্রশ্নের দ্রুত উত্তর পেতে গুগল ম্যাপের বায়ুমান স্তরটি কাজে লাগতে পারে। তবে এটিকে স্থানীয় বায়ুমানের একমাত্র বা চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবে না দেখে একটি নির্দেশক তথ্য হিসেবে দেখা ভালো।
.png)






