জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ভোটকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া শিশুর নাম রাখা হলো খালেদা জিয়া

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জ

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ২১
মায়ের কোলে খালেদা জিয়া

ভোট দিতে গিয়ে হঠাৎ প্রসববেদনা। কেন্দ্রের পাশের একটি কক্ষে নেওয়া হলো অন্তঃসত্ত্বা মাকে। কিছুক্ষণ পরই পৃথিবীর আলো দেখল এক কন্যাশিশু। সিরাজগঞ্জের সেই ভোটকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে খালেদা জিয়া। জন্মের পর থেকেই শিশুটিকে একনজর দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

ঘটনাটি ঘটে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেঙনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে। বেলা ১১টার দিকে ভোট দিতে সেখানে যান অন্তঃসত্ত্বা আম্বিয়া খাতুন (৩৫)। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার তীব্র প্রসববেদনা শুরু হয়। পরে নারী ভোটাররা তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে নবজাতকের নাম রাখা হয় খালেদা জিয়া।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নবজাতককে দেখতে তার বাড়িতে যান জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারকে নগদ অর্থ, পোশাক ও ফলমূল উপহার দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবজাতকের জন্মসনদও দেওয়া হয়েছে। শিশুটির ডাকনাম রাখা হয়েছে ‘ত্রয়ী’।

জেলা প্রশাসক বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের পরিবেশ ভালো থাকায় মানুষ উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন। সেই পরিবেশের মধ্যেই আম্বিয়া খাতুন ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন জানান, মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ আছেন।

নবজাতকের বাবা শরিফুল ইসলাম বলেন, সাত বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে স্ত্রী কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন—এটিকে তিনি সৌভাগ্য মনে করেন। তিনি এখন দুই কন্যাসন্তানের বাবা। বিএনপিকে ভালোবাসেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণে রাখতে মেয়ের নাম রাখা হয়েছে।

নবজাতকের মা আম্বিয়া খাতুন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ভোট দিতে পারেননি। এবার সুষ্ঠু পরিবেশ থাকায় সন্তানসম্ভবা অবস্থাতেও ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ ব্যথা শুরু হলে পাশের কক্ষে নেওয়া হয় এবং সেখানেই সন্তানের জন্ম হয়। ইতিহাসের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত।

এদিকে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর নিজ গ্রামসহ আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ নবজাতককে দেখতে শরিফুল ইসলামের বাড়িতে ভিড় করছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম মণ্ডল বলেন, ‘এলাকায় আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে’। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও শিশুটিকে দেখতে আসতে পারেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত