সরকার ও বিরোধী জোট জনগণকে হতাশ করছে: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন
স্ট্রিম প্রতিবেদক

সরকার ও প্রধান বিরোধী জোট মিলে দেশের মানুষকে চরম হতাশায় নিমজ্জিত করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে দলের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর এ দেশের মানুষ রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখেছিল, সরকার ও প্রধান বিরোধী জোটের রহস্যময় সমীকরণ সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করছে। সরকার ও বিরোধী জোট মিলে যে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, তা জনআকাঙ্ক্ষাকে বড় ধরনের হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’
বিএনপির সমালোচনা করে হাসনাত কাইয়ূম আরও বলেন, ‘বিদ্যমান ব্যবস্থায় সংস্কারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে যে বিতর্ক তোলা হচ্ছে, তা আসলে একটি রাজনৈতিক চতুরতা। অতীতে ১৯৯১ সালে তিন জোটের রূপরেখা পায়ে ঠেলে তৎকালীন বিএনপি সরকার জনআকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাহ্য করেছিল। এবারও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নিয়ে বিএনপি বর্তমান ভারসাম্যহীন সংবিধানকে শাসকের ইচ্ছাধীন দলিলে পরিণত রাখতে চাচ্ছে। এমন করা হলে তার চড়া মূল্য এই সরকারকেই দিতে হবে।’
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, এই ক্ষমতার ভারসাম্যহীন সংবিধানে থেকে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সভায় দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ও রাষ্ট্রের ন্যূনতম জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গণ-অভ্যুত্থান শেষ হবে না। সরকার ও বিরোধী জোটের এই ‘প্রতারণার রাজনীতি’ রুখে দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে প্রকৃত সংস্কারের দাবিতে শিগগির দেশব্যাপী জনমত গঠন ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
‘সংস্কারের সাংবিধানিক বৈধতা: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কুপ্রভাব’ শীর্ষক এই সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন— যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদুল ইসলাম এবং রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি লামিয়া ইসলাম প্রমুখ।







