পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতির পণ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নিষেধাজ্ঞা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি নতুন অবৈধ ইসরায়েলি ফাঁড়ি তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি নতুন অবৈধ ইসরায়েলি ফাঁড়ি তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে তৈরি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ফ্রান্স ও কানাডার সঙ্গে সমন্বয় করে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় লন্ডন।

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ও অবৈধ বসতি স্থাপন ঠেকাতে কূটনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড হাউস অব কমন্সে বলেন, অন্যায় ও মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি শুধু তুলে ধরলেই আর হবে না। এখন পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। আমরা নীরব দর্শক হয়ে থাকতে চাই না।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিকে যুক্তরাজ্য বেআইনি মনে করে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে উচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে বলে ব্রিটেনের বিশ্বাসের কথাও উল্লেখ করেন মিলিব্যান্ড।

ইসরায়েলের দুই মন্ত্রী ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ তেল আবিবে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ অভিযোগ করেছেন, ব্রিটেন ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই১ বসতি প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জেরুজালেমের কাছাকাছি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের জন্য যে ভূমি দাবি করে আসছে, সেটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। মিলিব্যান্ডের মতে, এতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। এদিকে পশ্চিম তীরের আরও দুটি বসতিতে ১ হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্মোস্ট্রিচ।

জাতিসংঘ, ফিলিস্তিন এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

এদিকে ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন। তিনি একে ‘ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্য’ বলে মন্তব্য করেন।

ব্রিটেনের সঙ্গে ইসরায়েলের বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন পাউন্ড হলেও নতুন নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ পশ্চিম তীরের বসতিতে তৈরি পণ্য এবং ইসরায়েলে তৈরি পণ্যের মধ্যে কীভাবে পার্থক্য করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

২০২৫ সালে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাজ্য। চলতি বছরের জুনে পশ্চিম তীরে সহিংসতায় অর্থায়ন ও সহায়তার সঙ্গে জড়িত ইসরায়েলি নেটওয়ার্কের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয় লন্ডন। মঙ্গলবার ব্রিটেন জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের বসতিতে তৈরি পণ্য নিষিদ্ধ করার উদ্যোগে ফ্রান্স ও কানাডার পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম, স্পেন ও নরওয়েও যুক্ত হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত