আগামী নির্বাচনে কেউ কোনো ধরনের ‘মেকানিজম’ বা কারসাজি করার চিন্তা করলে তারা দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের বোঝাপড়া কোনো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নয়, হতে হবে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাবেক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সম্মানে আয়োজিত ‘ইন রিকগনিশন অব সার্ভিস অ্যান্ড স্যাক্রিফাইস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বিগত কয়েকটি নির্বাচনের মতো কোনো নির্বাচন চাই না। জাতি এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ৩৫-৩৬ বছর বয়সীরাও জীবনে একটা ভোট দিতে পারেনি। আমরা এমন নির্বাচন চাই যেখানে কোনো প্রশ্ন উঠবে না।’
আগামী নির্বাচনকে ‘আইকনিক’ ও প্রশ্নাতীত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, তাই সুশাসনের স্বার্থে ৫০০ বা ১০০০ কোটি টাকা খরচ করা কঠিন কিছু নয়। সিসি ক্যামেরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য স্বল্পতাও পূরণ করবে। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে অনিচ্ছা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ভোটারদের পছন্দের পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে দায়িত্বশীলদের সরে যাওয়া উচিত; অন্যথায় তা হবে দায়িত্বের লঙ্ঘন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একাত্তরে কোনো সিভিলিয়ানের মুখে নয়, সেনাবাহিনীর একজন অফিসারের (জিয়াউর রহমান) মুখেই স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়েছিল। রাজনীতিবিদরা তাদের দায়িত্ব পালন করেননি বলেই সেনাবাহিনীর একজন অফিসারকে এগিয়ে আসতে হয়েছিল। এই ইতিহাস একবারই রচিত হয়েছে, যা কেউ চাইলেও ম্লান করতে পারবে না।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী এবং আ স ম আব্দুর রবের মতো বীরদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে শফিকুর রহমান বলেন, তাদের এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সাহসী ও দায়িত্বশীল আচরণের কারণে দেশ নিশ্চিত গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা পেয়েছে।
কর্নেল (অব.) মো. জাকারিয়া হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য আরও দেন মেজর জেনারেল মাহবুব উল আলম, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান ও ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল বাতেন। অনুষ্ঠানে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।