বিদ্যমান ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক জবাবদিহির কাঠামো খুবই দুর্বল: তাসনিম জারা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

‘নাগরিক ইশতেহার ২০২৬: জাতীয় নির্বাচন ও রূপান্তরের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে কথা বলছেন তাসনিম জারা। ছবি: সংগৃহীত
‘নাগরিক ইশতেহার ২০২৬: জাতীয় নির্বাচন ও রূপান্তরের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে কথা বলছেন তাসনিম জারা। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক জবাবদিহির কাঠামো খুবই দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী এমপিরা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না, ফলে মন্ত্রিসভাকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হয় না।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ‘নাগরিক ইশতেহার ২০২৬: জাতীয় নির্বাচন ও রূপান্তরের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

তাসনিম জারা বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করলেও সাংবিধানিকভাবে তাঁদের হাত-পা বাঁধা। দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ থাকে না। ফলে তাঁরা প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন না। পার্লামেন্ট যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে ক্যাবিনেটকে জবাবদিহি করার কেউ থাকে না।’

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাসনিম জারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা দুর্নীতি করলে তা দেখার দায়িত্ব দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। কিন্তু দুদক কমিশনারদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি, যিনি আবার প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই কাজ করেন। অর্থাৎ, যার জবাবদিহি নেওয়ার কথা, তিনিই পরোক্ষভাবে নিয়োগকর্তা। ফলে এখানে জবাবদিহির কোনো সুযোগ থাকে না।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার প্রসঙ্গে তাসনিম জারা বলেন, এমপি-মন্ত্রীরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সোচ্চার হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশনের সদস্য বাছাই কমিটিতে থাকেন আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফলে সরকারপ্রধান বা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনপ্রতিনিধির জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত