ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রাজনৈতিক সংস্কৃতির পালাবদল ও গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের উৎসববাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। জনগণের কাছে এবারের নির্বাচনটি কেবল একটি ভোট প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি প্রকৃত উৎসবে পরিণত হয়েছে।
মানুষ কী দেখে ভোট দেয়বাংলাদেশের কত শতাংশ মানুষ রাজনৈতিক সচেতনা থেকে ভোট দেন—সেটি গবেষণার বিষয়। গবেষণায়ও সঠিক চিত্র উঠে আসবে কি না সন্দেহ আছে। এই বিষয়ে জরিপ চালালে সবাই ঠিক উত্তর নাও দিতে পারেন। বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কয়েকটি বিবেচনা কাজ করে। সেখানে রাজনৈতিক সচেতনতা অনেক সময়ই গৌন হয়ে যায়।
অর্ধেক নারী ভোটারের দেশে ৪% নারী প্রার্থী: এই গণতন্ত্র কি টেকসই হবেযে নারীরা রাজনৈতিক মিছিলে সংখ্যা বাড়াতে পারেন এবং অর্থনীতি সচল রাখতে পারেন, তারা কেন সংসদে আইন প্রণয়ন করতে পারবেন না? ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্বের আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য শুধু ‘সংরক্ষিত আসনের’ খাঁচায় বন্দি না রেখে, সরাসরি নির্বাচনের ময়দানে যোগ্য নারীদের জায়গা করে দিতে হবে।
শুধু ক্ষমতা নয়, ইতিহাস বদলের নির্বাচনপাকিস্তান আমলেও যে দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতো; এমনকি সেটা হতো আরপিও’র মতো বিধিবিধান না থাকা সত্ত্বেও আর জনপ্রশাসনের তত্ত্বাবধানে, সেই দেশে নির্বাচনের নামে পৌনঃপুনিক তামাশার আয়োজন করেছিল হাসিনা সরকার।
বোমাছাড়া যুদ্ধ: নির্বাচনের আগে বিদেশের অপপ্রচার যেভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে পরীক্ষার মুখে ফেলছেঢাকার এক ডিসেম্বরের সন্ধ্যা। রাজপথে তখন এক নিহত যুবনেতার জন্য শোকাতুর মানুষের ভিড়। রাজপথের সেই কোলাহল থেকে অনেক দূরে পর্দার আড়ালে চলছিল অন্য এক নাটক। টেলিভিশন, ফেসবুক, ইউটিউব টকশো আর এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপগুলোতে সেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল হরেক রকমের ব্যাখ্যা।
শপথ বিতর্ক, সমাধান ও উন্নত দেশের রূপরেখাআর কেবল ক’দিনের অপেক্ষা। তারপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নতুন সংসদ। নতুন সাংসদ। নতুন সরকার। নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা। সেই নবযাত্রাকে বরণের প্রস্তুতির মাঝে হঠাৎই জন্ম নিল এক অনভিপ্রেত সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক জটিলতা—নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথ পড়াবেন কে? আর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সংবিধানসম
বগুড়ার হাট কীভাবে হয়ে উঠতে পারে বৈদেশিক বাজারবগুড়া কেবল একটি জেলা নয়—এটি উত্তরবঙ্গের কৃষি সম্ভাবনার প্রতীক। এখানে উৎপাদন আছে, শ্রম আছে, বাজার আছে—অভাব কেবল সমন্বিত অবকাঠামো ও নীতিগত সাহসের। যদি ইপিজেড, এগ্রো-প্রসেসিং জোন ও আঞ্চলিক কার্গো বিমানবন্দর বাস্তবায়িত হয়, তবে উত্তরাঞ্চল একটি শক্তিশালী কৃষি-রপ্তানি করিডরে পরিণত হতে পারে।
জাল টাকা: কীভাবে রুখব বিশ্বাসের কাগজি প্রতারণাবাংলাদেশের অর্থনীতি এখন জাল টাকার নীরব বিষক্রিয়ায় জর্জরিত। টাকা শুধু কেনাবেচার মাধ্যমই নয়; মানুষের ঘাম, রাষ্ট্রের আস্থা এবং বাজারের ভারসাম্যের চিহ্ন। যখন সেই চিহ্নকে আঘাত করে নকল নোট, তখন আঘাতটা শুধু টাকার ব্যাপার থাকে না, সমাজের বিশ্বাস আর নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।
বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার: আশা জাগানিয়া কিন্তু কতটুকু বাস্তবায়নযোগ্যনির্বাচনী ইশতেহার রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়, বরং অনেকটা ভোটারদের সঙ্গে দলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের লিখিত চুক্তি।
বিএনপির ইশতেহার: জন-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। সেই অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিতব্য প্রথম সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ৫১ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
জনতার দল: প্রচলিত ভুল ধারণা ও রাজনীতির নতুন ধারাজীবনের এই পর্যায়ে এসে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, নতুন প্রাপ্তিরও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, দেশের জন্য আমাদের এখনো অনেক কিছু দেওয়ার আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ল্যান্ডমার্ক স্থাপন করার লক্ষ্যে আমরা সংঘবদ্ধ হয়েছি।
রাষ্ট্র মেরামতের পরিভাষা: বিএনপির ইশতেহারের একটি ব্যবচ্ছেদ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের যে গণআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার একটি পলিসি-নির্ভর প্রতিফলন ঘটেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে।
রাজনৈতিক মদদপুষ্ট লুটতরাজ বন্ধ হয়েছে, তবে সামনে কঠিন পথগণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন তারা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল এক সংকটময় অর্থনীতি। এই সংকট ছিল বহুমাত্রিক।
‘অন্ধের দেশ’: ড. ইউনূসকে কীভাবে মনে রাখবে বাংলাদেশজানুয়ারির শেষ দিকের এক দুপুর। ঢাকার ব্যস্ত যানজটের ভেতর দিয়ে অটোরিকশা চালাতে চালাতে রুবেল চাকলাদারের কণ্ঠে ক্ষোভের চেয়ে যেন এক ধরনের অসহায়ত্বই বেশি ঝরে পড়ছিল। ৫০ বছর বয়সী রুবেল বলছিলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হঠানোর পর বাংলাদেশিরা বিরল সুযোগ পেয়েছিল। এই সুযোগ তারা হেলায় হারিয়েছে।
বড় দলের বৃত্ত ভেঙে বিকল্প রাজনীতির লড়াইদীর্ঘ ষোল বছর ধরে বাংলাদেশে যে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা জেঁকে বসেছিল, তা ছিল মূলত জনগণের সম্মতিবিহীন এক শাসন। এই দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে সেই বদ্ধ দুয়ার খুলে দিয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাবাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক দেশ, তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কোনো নতুন বিষয় নয়।
নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ: প্রত্যাশা ও বাস্তবতাপ্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কোনো নারী প্রার্থী নেই। সর্বোচ্চ নারী প্রার্থী অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে। বিএনপির নারী প্রার্থীর সংখ্যা ১০ জন।